Tuesday, March 29, 2016

লাহোর হামলা কেন?

লাহোর বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জামাত-উল-আহরার নামের একটি জঙ্গি সংগঠন। এটি স্বল্পপরিচিত। বলা যায় আনকোরা সংগঠন। বছর দুয়েক আগে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) থেকে বেরিয়ে এটির জন্ম হয়।
এই হামলার মাধ্যমে সংগঠনটি পাকিস্তানের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও সহিংস সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার মধ্য দিয়ে সংগঠনটি এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে তাদের প্রভাব বেড়েছে।
পাকিস্তানের বৃহত্তর তালেবানের মতো জামাত-উল-আহরারও কট্টর দেওবন্দি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত। উপসাগরীয় এলাকা থেকে প্রভাবিত এই ভাবধারা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অনুপ্রাণিত করছে।
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলভিত্তিক জামাত-উল-আহরারের ভাষ্য, এটি ‘কাফের রাষ্ট্রের’ বিরুদ্ধে তাদের ‘জিহাদ’। ২০১৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান ও ভারতের ওয়াগা সীমান্তে এক অনুষ্ঠানে হামলার দায়ও স্বীকার করেছিল জামাত-উল-আহরার। ওই হামলায় ৫৫ জন নিহত ও ১২০ জনের বেশি আহত হয়েছিল। ইস্টার সানডে উৎসব উদ্যাপনকালে রোববারের ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল পাকিস্তানের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়। তবে হামলায় বহুসংখ্যক মুসলমানও হতাহত হয়েছেন। কিন্তু মুসলমানরাও হতাহত হওয়ায় হামলাকারীরা খুব একটা উদ্বিগ্ন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।
জামাত-উল-আহরারের কার্যক্রম ‘প্রকৃত’ তালেবানের মতোই। তবে সংগঠনটি তালেবানের ‘সমঝোতার কৌশলের’ বিরোধিতা করে। রোববারের ওই হামলাকে পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের প্রতি সেই ধরনের বার্তা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানে ধর্মদ্রোহিতারোধ আইন বাতিল করতে চাওয়া গভর্নর সালমান তাসিরের হত্যাকারী মমতাজ কাদরি মৃত্যুদণ্ড এই মাসের প্রথম দিকে কার্যকরের পর অনেকে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই হামলাকে ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেও মনে করা হচ্ছে। জামাত-উল-আহরার সম্প্রতি পাকিস্তানের সম্পদশালী প্রদেশ পাঞ্জাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অঞ্চলটি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুও বটে। পাঞ্জাব দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর উৎসভূমি হিসেবে পরিচিত। লাহোরের পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলো বরাবরই তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই ধরনের সংগঠনগুলোর উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত ও উদ্বিগ্ন ছিল। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ২০১৩ সালে বলেছিলেন, ‘আমরা জানি তারা এখানে আছে। তবে কেন হামলা করছে না, তা স্পষ্ট নয়।’ অবশেষে হামলা হলো। আলোচনায় আবার উঠে এল জামাত-উল-আহরার।

No comments:

Post a Comment