লিবিয়া
উপকূল থেকে বাংলাদেশিসহ ৬০০ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। চারটি বোট থেকে
তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে এর মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া
যায়নি। অন্যদিকে সিসিলি প্রণালী থেকে চারটি অভিযানে ৯ শতাধিক অভিবাসীকে
উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড। তারা কোন দেশের নাগরিক তা জানা যায়নি। এ
খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, লিবিয়া উপকূলে যে চারটি
বোটে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল তার মধ্যে একটি ডুবে গেছে। লিবিয়ার
নৌবাহিনীর মুখপাত্র আইয়ুব কাসেম বলেছেন, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে
রয়েছেন সাব সাহারান আফ্রিকার ও বাংলাদেশের নাগরিক। তবে কতজন বাংলাদেশি
রয়েছেন সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। ওই অভিযানে উদ্ধার করা
হয়েছে চারজন নারীর মৃতদেহ। এখনও কিছু অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে
ইতালিতে উদ্ধার করা হয়েছে একটি মৃতদেহ। এসব মৃত ব্যক্তি বা নিখোঁজদের কোনো
পরিচয় মেলেনি। আইয়ুব কাসেম বলেন, বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে অভিযান
চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৫০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে। বৃহস্পতিবার একটি বোটে
আগুন ধরে যায়। তাতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৭ জনকে। ওদিকে ইতালির
কোস্টগার্ড বলছে, তারা শনিবার দুটি আলাদা অভিযান চালায়। এ সময় উদ্ধার করা
হয়েছে ৩৭৮ জন অভিবাসীকে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বর্ডার এজেন্সি ফ্রোন্টেক্স
আরেকটি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে ১১২ অভিবাসীকে। ভূমধ্যসাগরে ইউরোপীয়
ইউনিয়নের ইউনাভফোর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে ৪২০ জনকে। উদ্ধার হওয়া এসব
অভিবাসী বা শরণার্থীর জাতীয়তা সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি কোস্টগার্ড।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শুরুতে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের ঢল শুরু হয়। বিশেষ করে
আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে ছুটছে
ইউরোপে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ অভিবাসী সংকট। ইতালির
কোস্টগার্ড তাদের সমুদ্রসীমায় অব্যাহতভাবে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করছে
অভিবাসীদের। বিশেষত তারা দক্ষিণ উপকূল ও উত্তর আফ্রিকার মধ্যবর্তী
সমুদ্রসীমার ভেতরে অভিযান পরিচালনা করে। অন্যদিকে বিশৃঙ্খল এক পরিস্থিতি
বিরাজ করছে লিবিয়ায়। সেখানকার পাচারকারী নেটওয়ার্ক অর্থের বিনিময়ে
অভিবাসীদের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রপথে অভিবাসীদের পাঠাচ্ছে ইউরোপের দিকে।
এতে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্কতা উচ্চারণ করেছে
যে, ইউরোপে অভিবাসী সংকটকে নতুন করে বৃদ্ধি করতে পারে লিবিয়া।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment