Thursday, March 31, 2016

কাতারে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অ্যামনেস্টির

কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে জোর করে শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদেরকে জোর করে নোংরা আবাসনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এখানে কাজ পেতে শ্রমিকরা বিপুল অংকের ফি দিচ্ছে। বেতন বকেয়া রয়েছে। কেড়ে নেয়া হয়েছে পাসপোর্ট। এসব কথা বলেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এতে বলা হয়েছে, খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামের শ্রমিকরা এমন দুর্ভোগের শিকার। যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তেমন একটি দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য অ্যামনেস্টি তীব্র সমালোচনা করেছে ফিফার। তবে কাতার বলেছে, তারা এসব অভিযোগ সম্পর্কে সচেতন এবং অভিযোগ তদন্ত করবে। সরকার বলেছে, ওই স্টেডিয়ামে নিয়োজিত বিদেশী শ্রমিকদের কল্যাণ তাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার। এক্ষেত্রে কাতারে শ্রম আইন ধারাবাহিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর ‘কাফালা’ নামের স্পন্স সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানানো হয় কাতারকে। কাফালা সিস্টেমের অধীনে কোন অভিবাসী শ্রমিক তার চাকরি বা কাজ পরিবর্তন করতে পারবেন না। নিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া তিনি বা তারা দেশ ছাড়তে পারবেন না। অ্যামনেস্টি সতর্ক করে বলেছে, এক্ষেত্রে যে সংস্থার করা হয়েছে তা সামান্যই। অনেক শ্রমিক এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে দিন যাপন করছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জেনারেল সেক্রেটারি সলিল শেঠি বলেন, সব শ্রমিকই তাদের অধিকার চান। তারা চান সময়মতো তাদের বেতন পরিশোধ করা হোক। যখনই প্রয়োজন হবে তাদেরকে কাতার ছাড়তে দিতে হবে। তাদের সঙ্গে মর্যাদা রক্ষা করে ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে অ্যামনেস্টি সাক্ষাতকার নিয়েছে ২৩১ জন অভিবাসী শ্রমিকের। তার বেশির ভাগই দক্ষিণ এশিয়ার। এর মধ্যে ১৩২ জনই কাজ করেন ওই স্টেডিয়ামে। বাকি ৯৯ জন কাজ করেন ‘অ্যাস্পায়ার’ স্পোর্টস কমপ্লেক্সের চারপাশে সবুজ লনে। এতে বলা হয়েছে শ্রমিক সরবরাহকারী একটি কোম্পানির একজন স্টাফ যথাযথ কাজ আদায় করে নিতে অভিবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন রকম হুমকি দেন। তার মধ্যে রয়েছে বেতন আটকে রাখা, শ্রমিককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া অথবা তাদের কাতার ছেড়ে যাওয়া বন্ধ করা। অ্যামনেস্টি বলছে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটা হলো জোর করে শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো। কাতার সরকার এর জবাবে বলেছে, তাদের মিনিস্ট্রি অব এডমিনিস্ট্রেটিভ ডেভেলপমেন্ট, লেভার অ্যান্ড সোশাল এফেয়ার্স এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে। রিপোর্টে যেসব কন্ট্রাক্টরের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে তথ্য তালাশ করে দেখা হবে। ভারতীয় একজন শ্রমিক কাজ করেন কলিফা স্টেডিয়ামে। তিনি অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, তাকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একজন হুমকি দিয়েছে। এ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কয়েক মাসের বেতন আটকে রাখা হয়েছে তার। ওই শ্রমিক বলেছেন, এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ওই কর্মকর্তা আমার সঙ্গে চিৎকার চেচামেচি করেছেন। বলেছেন, যদি আমি আবার অভিযোগ করি তাহলে আমাকে কাতার ছেড়ে যেতে দেয়া হবে না কখনও। তারপর থেকে আমি বেতন বা অন্য কোন বিষয়ে অভিযোগ করার বিষয়ে সতর্ক থাকি। যদি আমি পারতাম তাহলে কাজটা পরিবর্তন করতাম না হয় কাতার ছেড়ে চলে যেতাম। নেপালি এক শ্রমিক বলেছেন, তার জীবন একজন বন্দির মতো। নেপালের আরো ম্রমিক বলেছেন, গত বছর নেপালে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে তখন তাদের নিকটজনদের দেখতে যেতে দেয়া হয় নি।

No comments:

Post a Comment