Wednesday, March 23, 2016

কী আছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্যে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, সম্ভবত বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত নাম এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দলীয় বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রাতিষ্ঠানিকতাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যগুলোর চলমান বাছাইপর্বে বেশ ব্যবধানে তিনি এগিয়ে আছেন। নির্বাচনী দৌড় থেকে এর মধ্যেই ঝরে পড়েছেন বাঘা বাঘা সব প্রার্থী।
জেব বুশের পর রিপাবলিকান দলের প্রাতিষ্ঠানিক প্রার্থী মারকো রুবিও ঝরে পড়ায় ট্রাম্প-সমর্থকদের উদ্দীপনা বেড়েছে। সমর্থকদের মতে, রিপাবলিকান দলের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাবেন এবং ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে নভেম্বরে ধরাশায়ী করবেন।
সমর্থকদের এমন আশাবাদ সত্ত্বেও খাঁটি রিপাবলিকান ঘরানার লোকজন মনে করছেন, ট্রাম্পকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় সম্মেলন পর্যন্ত। আমেরিকার জটিল রাজনৈতিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাছাইপর্বের পর জাতীয় সম্মেলনে প্রার্থীর মনোনয়ন অনুমোদন করা হয়। এবারের সম্মেলন হবে ওহাইও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে। ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্য পর্যায়ের বাছাইপর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে ১ হাজার ২৩৭টি ডেলিগেট সংগ্রহ করতে পারলে সম্মেলনে তাঁর মনোনয়ন প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারে। বাছাইপর্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ট্রাম্পকে বিভক্তির সম্মেলনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
রাজ্যগুলোতে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ডেলিগেট বরাদ্দ হয়ে থাকে। এসব ডেলিগেট জাতীয় সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন। অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ডেলিগেটরা কীভাবে ভোট দেবেন, তা নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে। রাজ্যভেদে, নিয়মকানুন ভিন্ন। যাঁরা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের সংগ্রহে থাকা ডেলিগেট এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ডেলিগেটরা সম্মেলনে নির্বাচকমণ্ডলীর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দেবেন। বিভক্তির সম্মেলনে ভোট দেওয়ার সময় ডেলিগেটদের ভোট প্রদানের নিয়ম একেক রাজ্য থেকে আসা ডেলিগেটদের জন্য একেক ধরনের। যেমন, টেনেসির ডেলিগেটরা বিভক্তির সম্মেলনে দুই দফা নির্বাচকমণ্ডলীর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে বাধ্য। দ্বিতীয় দফা ভোটের পর প্রার্থী বাছাই না হলে এসব ডেলিগেট কোনো দায়বদ্ধতা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন।
আইওয়া, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মন্টানা, নেভাদা, পোর্টোরিকো ও ওয়াশিংটনের ডেলিগেটরা এক দফা নির্বাচকমণ্ডলীর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে বাধ্য। এরপর তাঁরা যেকোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান ডেলিগেটরা প্রথম দফা ভোট দেবেন তাঁদের রাজ্য বাছাইপর্বে জয়ী প্রার্থীকে। এ পর্যায়ে প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত না হলে, এ রাজ্যের ডেলিগেটদের ভোট দিতে হবে তাঁদের রাজ্যে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান পাওয়া প্রার্থীকে।
এসব ডেলিগেট হিসাবে এখনো মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন নিশ্চিত নয়। বিভক্তির সম্মেলন হলে বাছাইপর্বে পিছিয়ে থাকা বা ঝরে পড়া প্রার্থীদের সংগ্রহের ডেলিগেট ট্রাম্পের সব হিসাব পাল্টে দিতে পারে। এমন হলে ট্রাম্প স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেন। উসকে দেওয়া শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে রিপাবলিকান দলে ভাঙনও ধরাতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাপ শুরু হয়েছে।
১৮৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের মোট আটবার বিভক্তির সম্মেলন হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচবারই বাছাইপর্বে এগিয়ে থাকা প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিকট অতীতে ১৯৭৬ সালে জেরাল্ড ফোর্ড বাছাইপর্বে ডেলিগেট সংগ্রহে এগিয়ে ছিলেন। তাঁর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। বিভক্তির সম্মেলনে একদিকে ভোটের পর মুক্ত হওয়া ডেলিগেটদের ভোটেই তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছিল।

No comments:

Post a Comment