Wednesday, March 2, 2016

ভারত ফাইনালে

শুরুতে আর শেষে খানিকটা আশা জাগালেও শেষ রক্ষা হয়নি লঙ্কানদের। টানা দুই খেলায় হেরে বিদায়টা নিশ্চিতই হয়ে গেল শ্রীলঙ্কার। আর টানা তিন খেলায় জিতে মাইক্রোম্যাক্স এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলাটা নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। লঙ্কানদের ১৩৮ রানে আটকে দিয়েছিল ভারতের বোলাররা। চার বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে ভারত করে ১৪২ রান। বিরাট কোহলি ফিফটি করেছেন আর ভারত হেরেছে এমন টি-টোয়েন্ট ম্যাচ আছে খুব কমই। কালও দারুণ এক জয় এনে দিলেন দেশকে। কম্পমান ভারতকে কক্ষ পথে ধরে রাখেন এই ব্যাটিং স্টার। তৃতীয় ওভারের শুরু থেকে খেলে ৪৭ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এর আগেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলে করেছেন ৬৮ ও ৭৭। ৩৬ আন্তর্জাতিক টি-২০তে এটি তার ১৩তম ফিফটি যার বেশি আর কারও নেই। শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়ে জয়ের পথে এগিয়ে যায় ভারত কোহলি-রায়না জুটিতে ভর করে। ১৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর বিরাট কোহলি আর সুরেশ রায়না দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টে দেন। আজ পাকিস্তানকে হারাতে পারলে ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে বাংলাদেশই।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারে ৬ রান নিলেও দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে আউট শিখর ধাওয়ান। দলের রান তখন ১১। ম্যাথিউজের করা তৃতীয় ওভারে ওঠে আরও ৫ রান। কিন্তু কুলাসেকারা তার দ্বিতীয় ওভারে ফেরালেন রোহিত শর্মাকে। দলের রান তখন ১৬। ৪ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ২০/২। চলতি এশিয়া কাপে সাত ম্যাচের ১৪ ইনিংসে উদ্বোধনী জুটির গড় সংগ্রহ মাত্র ১৩.২৮। আর এতে ২০এর বেশি রান উঠেছে মাত্র দু’বার। রায়নার বিদায়ের পর যুবরাজ সিং এসে রানের গতি আরও বাড়িয়ে দেন। ২৬ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন রায়না। যুবরাজ ১৮ বলের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে ভারমুক্ত করেন। তার ৩৫ রানের মধ্যে তিন ছক্কা আর তিন চার বলে দেয় কতটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কা শেষ ম্যাচে খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। মজার ব্যাপার হলো চার খেলায় তিনবার টসে জিতলেন ধোনি। অথচ তার আগের ১৩ আন্তর্জাতিক টি-২০ খেলায় জিতেছেন মাত্র একবার। শুরুতেই লঙ্কানরা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। যদিও চান্ডিমালের কট বিহাইন্ড নিয়ে খানিকটা বিতর্ক থেকেই গেছে। এরপর ১৫ রানে বিদায় নেন জয়সুরিয়া। ৩১ রানে তিলকারতেœ দিলশান ১৮ রান করে বিদায় নিলে বেশ চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। অভিজ্ঞ দিলশানের জন্য বছরটা বেশ অপয়াই যাচ্ছে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আভাস আর কি। দুই সহযোদ্ধা মাহেলা জয়াবর্ধনে আর কুমারা সাঙ্গাকারা তো সরে গেছেন আরও ভাল ফর্মে থাকতে। দিলশান এ বছর আট ইনিংসে করেছেন সাকল্যে ৮৬ রান। অথচ ২০১৫ সালেল শেস দুটি ম্যাচেই তিনি ফিফটি প্লাস স্কোর করেন। দলীয় ৫৭ রানে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ১৮ রান করে বিদায় নেন যখন তখন ১১ ওভার শেষ। ১০ ওভারে লঙ্কানদের সংগ্রহ ছিল ৪৭। আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ১০ ওভারে এরচেয়ে কম রান তুলেছে তারা মাত্র একবারই, তাও ৯ বছর আগে ২০০৭এ। সেবার তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করে ৪৩/৭।
পঞ্চম উইকেটে ধীরে ব্যাটং করে বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করার চেষ্টা করেন সিরিবর্ধনে-কাপুগেদারা। তাদের ৪৩ রানের জুটি ভাঙ্গে সিরিবর্ধনে ১৭ বলে ২২ রান করে বিদায় নিলে। দলের রান তখন ১৬.১ ওভারে ঠিক ১০০।  চামারা কাপুগেদারা ৩০ সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ৩২ বলে। শেষ দিকে থিসারা পেরেরা পেটাতে শুরু করলেও বিতর্কিত স্টাম্পড আউটে ৬ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান তিনি। কুলাসেকারা শেষ ওভারে দুটি চার হাঁকালে শ্রীলঙ্কার স্কোর ১৩৮/৯ দাঁড়ায়। ভারতের পক্ষে বুমরাহ, পান্ডিয়া ও অশ্বিন দুটি করে উইকেট নেন।

No comments:

Post a Comment