![]() |
| শওকত আলী, সিরাজুল ইসলাম |
আফগানিস্তানে
অপহরণের পর ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা
ব্র্যাকের দুই কর্মকর্তার। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা সরকারের হস্তক্ষেপ
কামনা করেছেন। ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ বলছে, দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধারে তারা
সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং উদ্ধারের বিষয়েও আশাবাদী। আফগানিস্তানের
কুন্দুজ থেকে বাগলানে ফেরার সময় ১৭ মার্চ ব্র্যাকের আফগানিস্তান শাখার
প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা শওকত আলী (৫০) এবং হিসাবরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা
সিরাজুল ইসলামকে (৩৭) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। তাঁদের সঙ্গে আফগান এক
কর্মকর্তাও ছিলেন। আফগান কর্মকর্তাকে অপহরণকারীরা পরে ছেড়ে দিলেও বাংলাদেশি
দুই কর্মকর্তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ব্র্যাকের জনসংযোগ শাখার
ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম কবির গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত পরশু
(২৭ মার্চ) আমাদের কাবুল অফিসে একটা ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়,
আপনাদের দুজন কর্মকর্তা আমাদের হেফাজতে আছে। আমরা এ বিষয়ে পরে কথা বলব। তবে
তারা কে, তাদের পরিচয় কী, কিছু বলেনি।’ মাহবুবুল আলম বলেন, ব্র্যাকের
এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান ঘটনার দুই দিন পরই আফগানিস্তানে ছুটে যান।
তিনি একসময় আফগানিস্তানের আবাসিক পরিচালক ছিলেন। আফগানিস্তানে ব্র্যাকের
অপহৃত কর্মকর্তা উদ্ধারের বিষয়ে তাঁর পূর্বাভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনিই বিষয়টি
দেখছেন। এদিকে ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে এই দুই
কর্মকর্তার পরিবার। শওকত আলীর মেয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে
বলেন, ‘আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পর
থেকে ব্র্যাকই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সরকারও এ বিষয়ে উদ্যোগী হবে বলে
আশায় আছি আমরা।’ ছেলেকে শিগগিরই ফিরে পাওয়ার আশায় আকুল শওকত আলীর মা মোছা.
রওশন আরা বেগম। সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী লতা বেগম প্রথম আলোকে বলেন,
‘পরিবারের সবাই চরম দুশ্চিন্তায়। সবাই তাঁদের জন্য দোয়া করছেন।’ সিরাজুলের
চাচাতো ভাই মো. আবদুল খালেক খান বলেন, ‘আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ
কামনা করছি।’ আফগানিস্তানে ২০০২ সালে কাজ শুরু করে ব্র্যাক। দেশটির ৩৪টি
প্রদেশে ব্র্যাকের প্রায় ৪০০ অফিসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও
প্রশিক্ষণের কাজে রয়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। আফগানিস্তানে ব্র্যাকের
কর্মীরা এর আগেও বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছেন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে
অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে প্রাণ যায় এক ব্র্যাক কর্মকর্তার। ওই বছর
নূরুল ইসলাম নামের এক ব্র্যাক কর্মকর্তা অপহৃত হওয়ার ৮৩ দিন পর মুক্তি
পান। তার আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ব্র্যাকের এক প্রকৌশলীকে হত্যা করে
ছয়জনকে অপহরণ করা হয়। ২০১২ সালের মে মাসে ঘোর প্রদেশে ব্র্যাকের একটি
কার্যালয়ে ঢুকে এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। ২০০৮ সালের
অক্টোবরে গজনি প্রদেশ থেকে অপহৃত হন দুজন। ১০ দিন পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া
হয়।

No comments:
Post a Comment