Monday, March 21, 2016

প্রকাশ্যে সিল, কেন্দ্র দখল মহেশখালীতে গুলি, নিহত ১

প্রকাশ্যে সিল মারা, জালভোট, ব্যালট ছিনতাই, সংঘর্ষ আর বর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল সম্পন্ন হয়েছে ১০টি পৌরসভার নির্বাচন। কোথাও কোথাও বেলা ১২টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় ভোট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হয়েছে সিল মারার মহোৎসব। মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরা নেমেছিলেন এ উৎসবে। এ অবস্থায় বিএনপি প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। মহেশখালী ও চকরিয়া পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। গুলির লড়াইয়ে আহত হয়েছেন ৩৫ জন। সোনাগাজীতে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের উৎসব হয়েছে এখানে। হারাগাছেও ঘটেছে কেন্দ্র দখলের ঘটনা। ঝালকাঠিতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হয়েছে সংঘর্ষ। নাঙ্গলকোটে ভোটকেন্দ্র দখল ও বিএনপি প্রার্থীর বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০টার মধ্যে সীল মারা শেষ
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রেই ছিল না কোনো শৃঙ্খলা। কেন্দ্রের ভেতরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ-আনসার সহায়তা করেছে ভোট ছাপার কাজে। বিএনপির অভিযোগ প্রশাসনের ঘেরাটোপে ভোট ছাপার মহোৎসব হয়েছে এই নির্বাচনে। মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে ভোট ছেপেছে আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। ভোট ছাপার দায়িত্ব প্রাপ্তদের মাথায় ছিল নৌকার প্রতীক ছাপা লাল ফিতা। কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতারা অবস্থান করে এই ছাপা তদারকি করেন। সকাল ৯/১০টার মধ্যে কোনো কোনো কেন্দ্রে ৯০ ভাগ ভোট ছাপা সম্পন্ন হয়ে যায়। নির্বাচনের এই অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি। কেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে ব্যালেটে সিল মারা, কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া এবং মারধর করার অভিযোগ করেন তিনি। ৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৩টি কেন্দ্রে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ করে পুনঃ নির্বাচন দাবি করে বিএনপি। রাতেই সব ব্যালট পেপার সই স্বাক্ষর করে তৈরি করে রাখার এমনকি নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখার অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী। কচি নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থতা ও প্রহসনের নির্বাচন আয়োজনের  অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগ  দাবি করেন। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ করেছে। এদিকে বিএনপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপি প্রার্থীর মোড়াইলস্থ বাড়ির আশপাশে অন্তত ৫০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
নির্বাচন শুরু ৮টায়। ছাপা শুরু ৮টা ১০ এ। পুনিয়াউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী শাহ আলমের সমর্থকরা ককটেল হামলা চালায় ওই সময়। ১০/১৫টি ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা প্রিজাইডিং অফিসার মঞ্জুর হোসেন চৌধুরীকে মারধর করে। হামলাকারীরা ৭/৮টি ব্যালট বই, ৫টি সিল ও নির্বাচন পরিচালনার আরও কিছু সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ৮টা ১০ মিনিট থেকে ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। মঞ্জুর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন- সন্ত্রাসীরা ব্যালট ও সিলসহ অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ সময় এক নারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এগিয়ে এসে প্রিজাইডিং অফিসারকে থামিয়ে দেন। বলেন আপনি এভাবে কথা বইলেন না। এভাবে কথা বলতে নেই। তিনি সাংবাদিকদের ক্যামেরা বন্ধ করে দিতে বলেন। নয়নপুর কাজী জোহরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা অতর্কিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা কেন্দ্রে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সে সময় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয় দুপক্ষের মধ্যে। পুলিশ ৫/৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোটররা তখন আতঙ্কে ছুটে পালায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রে চলে ভোট ছাপার উৎসব। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম মোস্তফা জানান- তার কেন্দ্রে মোট ভোট ১৫৩৮। পৌনে ১১টা পর্যন্ত কাস্ট হয়েছে সাড়ে ৯শ। এ দুটি কেন্দ্রে গোলযোগের ঘটনা ছাড়া নির্বাচন ছিল  শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো কোনো কেন্দ্রে বিএনপির পুলিং এজেন্টদের মারধর করার ঘটনা ঘটে। অন্য সবকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোট ছাপার কাজ চলে। সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ভোট কাস্ট হয় ৬শ। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হরলাল দেবনাথ জানান- তার কেন্দ্রের মোট ভোটার ২০৬২। এই কেন্দ্রটিতেও মাথায় লাল ফিতা বাঁধা পার্টি তৎপর ছিল। ওই সময়ে কেন্দ্রটি পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। তারা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের এক কর্মকর্তা জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কাছে ডেকে বলেন ৯০ ভাগ ভোট ছাপা হয়ে গেছে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। নান্নু মিয়া নামের একজন ভোটার এ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে দেখেন তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। নান্নু কেন্দ্রের বাইরে পরিচিত আওয়ামী লীগের এক নেতার কাছে এ নালিশ করে বলেন আওয়ামী লীগের জন্য আমি কি রক্ত কম দিছি। আজকে আমার ভোটটা দিতে পারলাম না। তখন আরেক নেতা এগিয়ে এসে বলেন চলো তুমি কয়টা ভোট দিবা। আমি তোমার ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করছি। এই কেন্দ্রটিতে নৌকা আর কাউন্সিলর প্রার্থী কাউসারের পাঞ্জাবি প্রতীকে সিল মারা হচ্ছিল। সেখান থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে কোনো শৃঙ্খলাই চোখে পড়েনি। কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে শত শত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে ছাত্রলীগের এই কর্মীরা। এই কেন্দ্রের চিত্র তুলে ধরে সকালেই বিএনপির প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা রিটার্নিং অফিসারের কাছে কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখার আবেদন জানান। তার আবেদনে বলা হয় কেন্দ্রে আমার ভোটার আসতে দেয়া হচ্ছে না। জোরপূর্বক সিল মারা হচ্ছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জহির উদ্দিন বলেন তারা কতো অভিযোগই দিতে পারে। অভিযোগ দিয়েছে, আমি রেখেছি।
মহেশখালী-চকরিয়া রণক্ষেত্র, গুলিতে নিহত ১
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে জানান, কক্সবাজারে গোলাগুলি, ধাওয়া পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গুলিতে মহেশখালীতে নিহত হয়েছে আবদুস শুকুর নামে একজন। সকাল ১১টার দিকে চকরিয়া পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিরিঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিবুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম ফোরকানের সমর্থিত ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ১৩ জন ভোটার আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় আধঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ-বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার চকরিয়া পৌর নির্বাচনে ১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি, ব্যালট ছিনতাই ও সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে এসে বেলা ২টায় সাংবাদিকদের এসব অভিযোগ জানান। হায়দার ১৪টি কেন্দ্রে সরকারদলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতি, সমর্থকদের মারধর ও এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন। এই ১৪টি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছেন তিনি। এদিকে ভোটকেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ৩ কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এরা হলেন ৬নং ওয়ার্ডের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, জালাল উদ্দিন, ছিদ্দিক আহমদ। তাদের অভিযোগ,  সকাল ১১টায় চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চবিদ্যালয় ও চকরিয়া পৌর আদর্শ শিক্ষা নিকেতন কেন্দ্রে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা কাউন্সিলর  প্রার্থী জিয়াবুল হক দুটি কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় প্রতিবাদ করলে অন্য দুই প্রার্থী বেলাল উদ্দিন ও জয়নাল আবেদীনের ওপর হামলা করা হয়। বর্তমানে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন বলে জানা গেছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী জানান, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দীন জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়েছে আবদুস শুকুর। গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরও অন্তত ৩৫ জন। রক্তাক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মকসুদ মিয়ার প্রভাব বিস্তার ও নৌকা প্রতীকে সিল মারার চেষ্টা থেকে ঘটনার সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকাল ৩টার দিকে উত্তর ঘোনাপাড়া কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক স্থানীয় মামুন নামের এক যুবকের নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকে সিল মারার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজম ও তার কর্মী সমর্থকরা বাধা দেন। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সরওয়ার আজমকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। আঘাতে তার মাথা ফেটে যায়। ঘটনা বড় আকার ধারণ করে। দুপক্ষের লোকজন মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুপক্ষকে নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে উভয়পক্ষের লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষ ত্রিমুখী রূপ নেয়। ত্রিমুখী এ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ১৫ জনকে গুরুতর আহতাবস্থায় কক্সবাজার নিয়ে আসা হয়েছে। গুলিবিদ্ধদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজমের সমর্থক বলে জানা গেছে। এ ঘটনার জন্য তিন পক্ষই একে অন্যকে দায়ী করেছে। বিপুল সংখ্যক র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। একই কেন্দ্রে দুপুর দেড়টার দিকে বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজমের চিফ এজেন্ট অ্যাডভোকেট আবছার কামালকে পিটিয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মকসুদ মিয়া। এ ঘটনায় দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানান, মহেশখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়া কেন্দ্রে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মকসুদ মিয়া বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজমের চিফ এজেন্ট অ্যাডভোকেট আবছার কামালের ওপর চড়াও হন। তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দু’পক্ষের কর্মী সমর্থকরা ধাওয়া পালটা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে পৌরসভার ৬নং হিন্দুপাড়া কেন্দ্রেও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে নৌকার সমর্থকরা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা সম্ভব হয়নি।
সোনাগাজীতে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
ফেনী প্রতিনিধি জানান, সোনাগাজী পৌরসভার নির্বাচনে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কেন্দ্র দখল ও জালভোটের মহোৎসবের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট শুরুর দুই ঘণ্টা পর কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জামাল উদ্দিন সেন্টু ভোট বর্জন করেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশও ও র‌্যাব বিভিন্ন স্থান থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৭ জনকে আটক করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এক লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৮টার দিকে সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সংলগ্ন মোহাম্মদ ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় বুথে বহিরাগত ভোটারদের দীর্ঘ সারি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই কেন্দ্রের ভোটার বিএনপির মেয়র প্রার্থী জামাল উদ্দিন সেন্টু ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করলে ফেনী ও আশপাশের এলাকা থেকে আগত বহিরাগতরা কেন্দ্র দখল করে জালভোট প্রদান করে। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় সরকার দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মামুনের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী জহিরউদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। সংঘর্ষে জহিরসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়। ওই কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট সেন্টুর ছোট ভাই এনায়েত উল্যাহকে হামলকারীরা কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। তবে প্রিজাইডিং অফিসার রফিুকল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানীয় সংসদ রহিম উল্যার স্ত্রী সালমা আক্তার ভোট দিতে গেলে তাকে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা লাঞ্ছিত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এসময় অন্তত তিন জন আহত হয়। সকাল ১০টার দিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জামাল উদ্দিন সেন্টু তার নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে ভোট বর্জন করেছে। এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনঃতফসিলের দাবি জানান। ভোট শুরুর দুই ঘণ্টা পর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হওয়ায় ভোটার শূন্য হয়ে পড়ে কেন্দ্রগুলো। ৯টি কেন্দ্রের কোনোটিতেই ভোটারদের দেখা মেলেনি। দুপুরে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, বিএনপির প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
বিশৃঙ্খলা ও জালভোট
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট প্রদান ও সরকারদলীয় লোকজনের আধিপত্যের মধ্য দিয়ে গতকাল রংপুর বিভাগের একমাত্র পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে রংপুরের হারাগাছ পৌরসভায়। এ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডের ২০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে টাকা ছড়ানোর অভিযোগও করেছেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন ছিল পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্য। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব-বিজিবি টহল অব্যাহত ছিল। নির্বাচনে বাংলা বাজার হাইস্কুল, চারুভদ্র বিদ্যালয় কেন্দ্র, দরদী উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্কুলে জালভোট প্রদানের অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীরা।  এ নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ৪ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হারাগাছ পৌরসভায় ৪৬ হাজার ৭৪৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী  মোনায়েম হোসেন ফারুক অভিযোগ করেন সরকারদলীয় প্রার্থী হাকিবুর রহমান মাস্টারের লোকজন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার করে জাল ভোট দিয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও  প্রশাসনকে অভিযোগ করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
ঝালকাঠিতে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৫
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হোসেনের ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর কর্মীরা। গতকাল রোববার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আফজাল হোসেনসহ ৫ জন আহত হয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য লাঠিচার্জ ও ফাকা গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মেয়রপ্রার্থী আফজাল হোসেন ওই কেন্দ্রে পরিদর্শনে এসে পিস্তল বের করেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লিয়াকত আলী তালুকদারের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আফজালসহ তার চার কর্মীকে মারধর করা হয়। পুলিশ আহত আফজাল হোসেনকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি এসে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় আধা ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে ওই কেন্দ্রে। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, সকাল ৮টায় ঝালকাঠির প্যেরসভার ১৮টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
নাঙ্গলকোটে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিলার নাঙ্গলকোট পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপিসমর্থিত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার নির্বাচন বর্জন করেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকার দলীয় প্রার্থী নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল, কেন্দ্রে প্রবেশে প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি, বহিরাগত ক্যাডার দ্বারা জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্রে আমাদের কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বাকি দুটি কেন্দ্রেও এজেন্টদের হুমকি ও ভয় প্রদর্শন করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে রাতের আঁধারে এবং সকাল বেলায় প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভরে রেখেছে। এছাড়া বহিরাগত লোকদেরকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ভিতরে দলীয় ক্যাডাররা প্রিজাইডিং ও পোলিং এজেন্টদের থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে নিজেরাই সিল মেরেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের বিএনপি দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী ও নেতাকর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আফসার (নয়ন), পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন জসিম, কাউন্সিলর প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ কামাল, কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল ইসলাম প্রমুখ। এদিকে, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইলিয়াছ ভুঁইয়া, আবদুল কাদের জিলানী, নূর গোলশাহ, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী মহিনউদ্দীন প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান, মারধর, ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং জালভোট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ সাইদুল আরীফ বলেন,  জালভোটের অভিযোগ পেলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। তিনি দাবি করেন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে।
কবিরহাট পৌরসভার ২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত, ২ জনের জেল
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে নোয়াখালী কবিরহাট  পৌরসভার  ভোটগ্রহণ চলছিল। দু’রাজনৈতিক দলের দুইজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ৪০ জন কাউন্সিলর ভোটযুদ্ধে মাঠে ছিলেন। ৯টি কেন্দ্রে ৩৯টি বুথে ১৩ হাজার ৩শ’ সাতানব্বই জন ভোটার তাদের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন (পুরুষ  ভোটার ৬,৬৭৬ জন এবং নারী ভোটার ৬,৭২১ জন)। মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান মেয়র ও কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান। নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে আরও একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার। ভোট শুরুর পর থেকে মোট ২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে। রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে আলীপুর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. এনামুল হক কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন। প্রিজাইডিং অফিসার মো. এনামুল হক জানান, পৌনে ২টার দিকে নেয়ামত উল্ল্যাহ নামের একজন ব্যক্তি ৮/১০ জন যুবককে নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ১শ’টি ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্রে বিশৃৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন। অপরদিকে দুপুর ১টার দিকে আলীপুর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জালভোট দেয়ার অভিযোগে রুবেল (২২) ও জহির (২০) নামের দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে নির্বাচনে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবরাউল হাসান মজুমদার তাদের প্রত্যেককে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এর আগে সকাল ১১টার দিকে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়ার অভিযোগে ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন প্রিজাইডিং অফিসার মো. শামছুল ইসলাম। কবিরহাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত ও জালভোট দেয়ার অপরাধে ২ যুবকের কারাদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, রোববার সকাল ৮টা থেকে একযোগে কবিরহাট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সিনিয়র জেলা নির্বাচন ও পৌরসভা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি পাশাপাশি ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশন এবং জেলা নির্বাচন অফিস থেকেও মনিটর করা হচ্ছে। অপরদিকে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে  পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু ভোটযুদ্ধে রয়েছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বলেন, কী কারণে তিনি ২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন তার জবাব তাকে দিতে হবে। আমি তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করব।

No comments:

Post a Comment