বাংলাদেশী
৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাচারের পাচারের দায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল
ব্যাংকিং করপোরেশনের শাখা ম্যানেজার মারিয়া সান্তোষ দুগুইতির ওপর চাপালেন
ব্যবসায়ী ও অন্যতম সন্দেহভাজন উইলিয়াম সো গো। তিনি বলেছেন, তিনি অর্থ
পাচারের সঙ্গে যুক্ত নন। তার নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে দুগুইতি সো
গো‘র স্বাক্ষর জাল করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে মাকাতি শহরের জুপিটার স্ট্রিটে ওই
ব্যাংকের শাখায়। এ শাখার ব্যবস্থাপক হলেন দুগুইটি। শুক্রবার এক সংবাদ
সম্মেলনে উইলিয়াম সো গো’র পক্ষে এসব অভিযোগ করেন তার আইনজীবি র্যামন
এসগুয়েরা। নিরাপত্তা সঙ্কটের অজুহাতে এতে যোগ দেন নি সো গো। তবে তার
আইনজীবি বলেছেন, তার মক্কেলের নামে আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখায় যে
একাউন্ট খোলা হয়েছে তা ভুয়া। এতে সো গো’র যে স্বাক্ষর রয়েছে তা জাল করেছেন
ওই ব্যাংকের ম্যানেজার মাইয়া সান্তোষ দুগুইতি। এ খবর দিয়েছে ফিলিপাইনের
পত্রিকা ইনকুইরার। উল্লেখ্য, শুক্রবার জাপান যাওয়ার পথে একটি বিমান থেকে
দুগুইতি, তার স্বামী ও সন্তানকে নামিয়ে দিয়েছে অভিবাসন বিভাগের
কর্মকর্তারা। তিনি সেখানে আর্থিক এই কেলেঙ্কারিতে তদন্তের মুখে রয়েছেন।
তাকে সিনেটের কমিটিতে শুনানিতে তলব করা হয়েছে। এমন সময় এ সংবাদ সম্মেলন করা
হলো উইলিয়াম সো গোর পক্ষে। তার আইনজীবী বলেন, মিসেস সান্তোষ দুগুইতি আমার
কাছে স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশ থেকে আসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন
ডলারের রেমিটেন্স তার ব্যাংকে সেঞ্চুরিটেক্সের নামে জমা করতে একাউন্ট
খুলেছেন তিনি। পরে তিনি ওই অর্থ ফিলিপাইনের পেসোতে রূপান্তরিত করেন।
উল্লেখ্য, উইলিয়াম সো গো হলেন সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডার্সের মালিক। উইলিয়াম সো
গোর আইনজীবি আরও বলেন, দুগুইটি বলেছেন তিনি যা করেছেন তার সবই স্বচ্ছ। এ
কাজে অনুমোদন রয়েছে আরসিবিসির প্রধান অফিসের। এ সংক্রান্ত এক এফিডেভিটে
উইলিয়াম সো গো বলেছেন, তিনি সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিংয়ের মালিক। আন্তর্জাতিক
ব্রান্ডের বিভিন্ন গার্মেন্ট সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত তার এ কোম্পানি। ৮ কোটি
১০ লাখ ডলার রেমিটেন্স যে চারটি একাউন্ডে জমা করা হয়েছে তার একটি একাউন্ট
এই কোম্পানির। এতে জমা করা ডলার পেসোতে রূপান্তর করে তা অন্যান্য ব্যাংকে
স্থানান্তর করা হয়েছে। আইনজীবি এসগুয়েরার মতে, অ্য একটি ব্যাংকের মাধ্যমে
উইলিয়াম সো গো’র সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিলেন দিগুইতি। ২৩শে ফেব্রুয়ারি
বানিফ্যাসিও গ্লোবাল সিটিতে সেরেন্দ্রা রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হয় ওই বৈঠক।
সেখানে উইলিয়াম সো গোর নামে একটি একাউন্ট খোলার কথা স্বীকার করেন দিগুইতি।
অর্থ পাচারের ঘটনা যখন আভ্যন্তরীণ তদন্তে চলে আসে তখন উইলিয়াম সো গো’কে তার
একাউন্ট ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ বন্ধ করার জন্য কয়েক মিলিয়ন পেসো প্রস্তাব
করেছিলেন দিগুইতি। এ কথা বলেছেন সো গোর আইনজীবি এসগুয়েরা। তিনি বলেন, সো
গো’কে এ জন্য প্রথমে এক কোটি পেসো প্রস্তাব করা হয়। যখন তিনি এ প্রস্তাব
প্রত্যাখ্যান করেন তখন এর অংক বাড়িয়ে ২ কোটি পেসো করা হয়। এসগুয়েরা বলেন,
আমার মক্কেল সে প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। ম্যানেজার দিগুইতিকে আমার
মক্কেল অর্থ স্থানান্তরের যে নির্দেশনা টেক্স ম্যাসেজের মাধ্যমে দিয়েছিলেন
বলে বলা হয়েছে তাও আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এসগুয়েরা বলেন, ২০০৪ সাল থেকে
আমি সো গোর সঙ্গে আছি। আমাদের মূল যোগাযোগের মূল হলো টেক্স ম্যাসেজ। কিন্তু
কখনও আমরা ইংরেজি ব্যবহার করি নি এতে। তাগলিশ ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করলে
তার পক্ষে তা বোঝা খুবই কঠিন। তিনি ফোনে অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন চীনা
ভাষায়। ওদিকে ব্যাংক ম্যানেজার দিগুইতির আইনজীবি ফারদি তেপাসিও সরাসরি এ
অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মক্কেল যথাসময়ে
সব কিছু ব্যাখ্যা করবেন। কিন্তু আরসিবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা
কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দিয়েছেন দিগুইতি। সেখানে তিনি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার
স্থানান্তর ও এতে তার জড়িত হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। বলেছেন, উইলিয়াম
সো গোর নামে সন্দেহজনক কোন ব্যাংক একাউন্ট তিনি খোলেন নি। তিনি বলেছেন, সো
গোকে বৈঠকে ডেকেছিলেন তার একাউন্টের অর্থ লেনদেন সম্পর্কে তার নির্দেশনার
বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য। এক্ষেত্রে তিনি কোন অন্যায় করেন নি বলে দাবি
দিগুইতির। সো গো তাকে রেমিটেন্স হিসেবে অর্র্থ একটি প্রতিষ্ঠান ফিলরেমে
পাঠানোর যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার একটি টেক্সট ম্যাসেজের স্ক্রিনশট যুক্ত
করেছেন তার এফিডেভিটের সঙ্গে। এই টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমেই ওই অর্থ পেসোতে
রূপান্তরিত করে অন্য ব্যাংকের হিসাবে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে
উইলিয়াম সো গোর আইনজীবি এসগুয়েরা বলেছেন, দিগুইতি আরসিবিসি ব্যাংকে যোগ
দেয়ার আগে থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ছিল উইলিয়াম সো গোর। দিগুইতি এ ব্যাংকে
যোগ দেযার পর ফেব্রুয়ারিতেই তাদের মধ্যে প্রথম দফা বৈঠক হয়। এসগুয়েরা বলেন,
কেন আমার মক্কেলের নামে একাউন্ট খোলা হয়েছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আমরা
২রা মার্চ আরসিবিসিতে চিঠি লিখেছি। এখনও এ বিষয়ে ব্যাংকের জবাবে অপেক্ষায়
আছি আমরা। এ বিষয়ে আমরা ব্যাংকে ভুয়া রেকর্ড ধারণ করার বিষয়টি ও উইলিয়াম সো
গোর স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সহযোগিতা
কামনা করছি। এসগুয়েরা বলেছেন, এ অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য তিন
ব্যক্কিকে চেনেন না তার মক্কেল। তবে পঞ্চম ব্যক্তিকে তিনি চেনেন। তিনি চীনা
বংশোদ্ভূত ফিলিপাইনের একজন নাগরিক কিম ওং। এসগুয়েরা আরও বলেছেন, এখন থেকে
১০ বছর আগে সেবু প্রদেশের একটি ক্যাসিনোতে সর্বশেষ গিয়েছিলেন তার মক্কেল।
ওদিকে মিথ্যা কাগজপত্র তৈরির জন্য আরসিবিসির ওই শাখা ম্যানেজার দিগুইতির
বিরুদ্ধে ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে তারা মামলা করবেন। এসগুয়েরা বলেন, তার মক্কেল
যেকোন তদন্তে সহযোগিতা করবেন। যদি সিনেটের তদন্ত কমিটি তাকে তলব করে তাহলে
সেখানেও যোগ দেবেন তিনি।
Saturday, March 12, 2016
অর্থ পাচার: ‘উইলিয়াম গো’র সই জাল করে একাউন্ট খোলেন ম্যানেজার দিগুইতি’
সূত্র ও লেখক @Source and Writer:
অপরাধ,
জাতীয়,
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ,
মানবজমিন
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment