Thursday, March 24, 2016

গাড়ি আমদানিতে মংলা ব্যবহার না করার হুমকি

শুল্কায়ন জটিলতায় পাঁচ বছর ধরে মংলা বন্দরে পড়ে আছে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি। এর মূল্য প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। গাড়িগুলো আটকে থাকায় ব্যাংকঋণ বাড়ছে গাড়ির আমদানিকারীদের। গাড়ি ছাড়ের ক্ষেত্রে মংলা বন্দর ব্যবহার করায় এ জটিলতায় পড়েছেন বলে দাবি তাঁদের। সহজ শর্তে এসব গাড়ি খালাসের সুযোগ না দিলে মংলা বন্দর ব্যবহার করা হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ ও অসহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। গতকাল বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন বারভিডার নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বারভিডার সভাপতি এম এ হামিদ শরীফ, সাবেক সভাপতি আবদুল হক, সহসভাপতি শাহ সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক আবু হোসেন, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক হেলাল মোহাম্মদ জুনায়েদ, খুলনা শিল্প ও বণিক সমিতির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে এম এ হামিদ শরীফ বলেন, কাস্টমস কমিশনারের কিছু আচরণ আমদানিকারকদের বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তাঁরা বিভিন্ন আইনের মারপ্যাঁচ দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ফাঁদ পেতেছেন। শুধু তাই নয়, গাড়িগুলো সহজ শর্তে ছাড় না করিয়ে নিলামে বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আটকে থাকা গাড়ির মধ্যে ট্যাক্সিক্যাব হিসেবে আনা এক হাজার গাড়ি রয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে গাড়িগুলো আমদানি করা হয়। তখন এক বছর থেকে পাঁচ বছরের পুরোনো গাড়ির অবচয়নে শুল্কায়নের পরিমাণ ছিল ৩৫ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে এ নীতি পরিবর্তন করে পুরোনো গাড়ির অবচয়ন শুল্কায়ন করা হয় ৪৫ শতাংশ। এতে পুরোনো গাড়ির দাম নতুনের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেশি শুল্কায়নে গাড়ি ছাড় করানোর ব্যবস্থা করা হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেটা সম্ভব হয়নি। এত দিনেও গাড়ি ছাড় না করানোয় তাঁদের বিনিয়োগের একটি বড় অংশ আটকে আছে বলে আমদানিকারকেরা দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যবসায়ীদের এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে এসব গাড়ির আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করের বড় অংশ মওকুফের অনুশাসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য খুলনা কাস্টমস কমিশনার আল আমিন প্রামাণিকের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

No comments:

Post a Comment