যুক্তরাষ্ট্রে
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড
ট্র্যাম্পের বিপক্ষে দলের অন্য প্রার্থী টেড ক্রুজের পক্ষে ভোট চাইলেন মিট
রমনি। মিট রমনি আমেরিকার গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট বারাক
ওবামার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। এবার তিনি টেক্সাসের
সিনেটর টেড ক্রুজের জন্য ভোট চাইলেন। রিপাবলিকান দলের শীর্ষ স্থানীয় বহুল
বিতর্কিত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্র্যাম্পকে অসহনীয় ব্যাক্তিত্ব বলেও উল্লেখ
করেন তিনি। মিট রমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন,
রিপাবলিকান প্রার্থী বাছাইয়ের একমাত্র উপায় হচ্ছে আগামি জুলাইয়ে হতে যাওয়া
দলের উন্মুক্ত কনভেনশন। সেখানে দলীয় ডেলিগেট, সুপার ডেলিগেটরা প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী কে হবেন তা চূড়ান্ত করবেন। তিনি
রিপাবলিকান দল থেকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ওহাইয়োর গভর্নর জন কাসিচের
নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলেও বলেন, টেড ক্রুজকে ভোট দিয়েই শুধু
ট্র্যাম্পকে ঠেকানো সম্ভব। তিনি বাদ বাকি রিপাবলিকান প্রার্থিদেরকে টেড
ক্রুজের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। ডোনাল্ড ট্র্যাম্প এ পর্যন্ত ৬৭৮ টি
ডেলিগেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে হলে মোট
১২৩৭টি ডেলিগেট সংগ্রহ করতে হবে। এখন যেসব রাজ্যে প্রাইমারি নির্বাচন বা
ককাস বাকি আছে তাতে তাকে প্রায় অর্ধেক ডেলিগেট পেতে হবে। কিন্তু সেই
সম্ভাবনা খুব কম। রমনির ফেসবুক স্টাটাসের উত্তরে ট্র্যাম্প যে টুইট করেন
তাতে তিনি রমনিকে একজন মিশ্র ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেন। ট্র্যাম্প তাকে বলেন
যে, তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার নিজস্বতা বলে কিছু নেই। রমনি গত নির্বাচনে
হেরে গিয়েছেন। এতে আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যা-ই হোক না কেন, রিপাবলিকান
নেতারা ভাবছেন ট্র্যাম্পের অভিবাসী সংক্রান্ত উস্কানিমুলক বক্তব্য,
মুসলমানদের নিয়ে কটুক্তি এবং নারীদের নিয়ে যে ধরনের কথাবার্তা বলেছেন তাতে
আগামি নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নিঃসন্দেহে রিপাবলিকান দলের
সবচেয়ে দুর্বল প্রার্থী হবেন ট্র্যাম্প। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এক সময়
ডেমোক্রেট ঘরানার ছিলেন ট্র্যাম্প। রক্ষনশীল যে কোন পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে
তার উপর আস্থা রাখা যায় না। কারণ গত আমেরিকান নির্বাচনে ট্র্যাম্প
ডেমোক্রেটদের বিপুল অঙ্কের চাঁদা দিয়েছিলেন। রমনি বলেন, আজ একদিকে
ট্র্যাম্পিজম আর অন্যদিকে রিপাবলিকানিজম। অর্থাৎ রিপাবলিকান আদর্শ বিচ্যুত
ট্র্যাম্প একজন বর্ণবাদী , নারী বিদ্বেষী, বিতর্কিত চিন্তাধারার প্রবক্তাই
নন, পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ভীতি সঞ্চারকারী এবং হুমকিদাতাও। দু’সপ্তাহ আগে
ডোনাল্ড ট্র্যাম্পকে নিয়ে মিট রমনির দেওয়া বক্তব্য ভবিষ্যতে নিউ ইয়র্কের
ব্যাবসায়ি ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের সাথে একটি দীর্ঘ শত্রুতার সৃষ্টি করবে বলে
মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment