Sunday, March 6, 2016

টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি রণক্ষেত্র মিরপুর

গতকাল বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালের টিকিটকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মিরপুর। ফাইনালের টিকিট ছাড়া হবে শনিবার, এ সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম সংলগ্ন ইউসিবিএল ব্যাংকের সামনে দর্শকরা জমায়েত হতে শুরু করেন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই। আগে কে লাইন ধরবে তা নিয়ে  সেই রাত থেকে কয়েক দফা ছোটখাট সংঘর্ষ হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। সকাল হতেই সেই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে শনিবার ব্যাংক খুলে কিছুটা সময় টিকিট বিক্রি শুরু হলেও দর্শকদের উন্মাদনায় ভয় পেয়ে বন্ধ হয়ে যায় মিরপুর ১০ নম্বরের ইউসিবিএলের শাখাটি। এরপর থেকেই দর্শকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। শেষ পর্যন্ত দুপুরে দর্শকরা ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করলে বেধে যায় লঙ্কাকাণ্ড। পুলিশ বাধ্য হয়ে দর্শকদের দমাতে টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেই সঙ্গে চলে লাঠিচার্জ। ক্রমেই মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল। এ বিষয়ে জানাতে বিসিবির টিকিট ও সিটিং কমিটির চেয়ারম্যান শেখ সোহেল ও অন্য দায়িত্বশীল পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাবারই মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ইউসিবিএল ব্যাংকের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও এ বিষয়ে জানতে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে পুলিশের আক্রমণের শিকার হওয়া এক দর্শক জানান, পুলিশের যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালীরা আলাদা লাইন তৈরি করে টিকেট সংগ্রহ করে।  বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা টিকিটের জন্য দর্শকদের উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা শান্ত থাকেন। আমরা চেষ্টা করবো মাঠে আপনাদের জন্য সেরা কিছু উপহার দিতে।’
কেন হঠাৎ করে বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা ব্যাংকের বুথটি বন্ধ হয়ে গেল। দর্শকরা কোথায় গেলে টিকিটি পাবে তা নিয়ে জানতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিসিবি বা ব্যাংকের দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কারণ টিকিটের আবদারের মুখে দু’দিন ধরেই বিসিবি’র  বেশির ভাগ পরিচালকের নিয়মিত মোবাইল ফোনগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ  দল ফাইনালে ওঠার পর থেকে। এমনকি যোগাযোগ করা সম্ভব হয় বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনকে। দর্শকরা ব্যাংকে টিকিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভির করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মিরপুর শেরে বাংলা মাঠের ফটকগুলোতে। মূলত টিকিট নিয়ে এই বিড়ম্বনার জন্য বিসিবি’র অব্যবস্থাপনাই যে দায়ী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশের  লাঠিচার্জ ও টিয়ার সেলে আহত অনেক দর্শক ও সাংবাদিক। দর্শকদের ইটপাটকেলে আঘাতে আহত হয়েছে সাধারণ মানুষ এমনকি পুলিশও। মূলত টিকিটের কালোবাজারিদের রমরমা বাণিজ্য ও সৌজন্য টিকিটের কারণে দর্শকদের জন্য টিকিট বরাদ্দ একেবারে নগণ্য। এরপরই সেই টিকিট ৩ দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছে না সাধারণ দর্শকরা। মিরপুর শেরে বাংলা মাঠের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ২৪ হাজার হলেও দর্শকদের জন্য টিকিট ছাড়া হয়েছে মাত্র ১০ হাজার। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে এই সংখ্যাও দর্শকদের হাতে পৌঁছায় না। ব্যাংক থেকে ও নানা  মাধ্যমে এই টিকিট চলে যাচ্ছে সাধরণ দর্শকদের নাগালের বাইরে।
দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এলাকার বেশ কয়েজন প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী টিকিটের জন্য লাইন কেনা-বেচা শুরু করে। স্থানীয় বখাটে ও সন্ত্রাসীরা। দু’দিন ধরেই ব্যাংকের সামনের ফুটপাতে পেপার ও ছালার বস্তা বিছিয়ে বসিয়ে রেখেছে তাদের নিজস্ব লোকদের। সেখানে সাধারণ দর্শকের জায়গা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই টাকা ছাড়া। এছাড়াও টিকিটের কালোবাজারিরাও দু’দিন ধরে লাইন ধরে আছে। টিকিট প্রাপ্তির স্থান ঘুরে দেখা যায় সেখানে প্রচুর মহিলা লাইন ধরে আছেন। মিরপুরের হালিমা বেগম জানালেন, ‘ছেলে-মেয়েদের দাবির মুখে তিনি লাইন দিয়ে টিকিট কিনতে এসেছেন। কিন্তু বেশ কয়েজন মহিলা কোনো কথা না বলে রহস্যময় আচরণ করেন। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় মহিলাদের টিকিট নেয়া সহজ বলেই কালোবাজারি  মেয়ে ও মহিলাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ওঠে পুলিশ প্রসাশনের বিরুদ্ধেও। মামুন নামের দর্শক অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে নতুন একটি লাইন বানিয়েছেন সাধারণ দর্শকদের বাদ দিয়ে। আর এই ভাবে লাঠিচার্জ করে আসলে সাধারণ দর্শকদের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দিয়ে নিজের লোক ঢোকাতে চেষ্টা করছে।’

No comments:

Post a Comment