Tuesday, March 22, 2016

ইউপি নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোট শুরু

ইউপি নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর
উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সারি।
স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেশের ৭১৭টি ইউপিতে নির্বাচন হচ্ছে। সকাল আটটা থেকে ভোট নেওয়া শুরু হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা এই ভোট নেওয়া চলবে।
দেশে এবারই প্রথম এই নির্বাচন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে হচ্ছে। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা-হানাহানির প্রেক্ষাপটে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
আজ যেসব ইউপিতে ভোট হচ্ছে, এর মধ্যে ৫৪ টিতে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে। এঁরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত। একই পদে ১২১টি ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। প্রথম ধাপের অন্তর্ভুক্ত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ১১টি ইউনিয়নে ভোট হবে আগামীকাল বুধবার। কক্সবাজারের টেকনাফের দুটি ইউনিয়নে হবে ২৭ মার্চ।
আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, জাসদ, বিকল্পধারা, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বিএনএফ, সিপিবি, তরীকত ফেডারেশন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ন্যাপ অংশ নিচ্ছে।
আগামী জুনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয় ধাপে দেশের চার হাজার ২৭৫টি ইউপিতে ভোট নেওয়া হবে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মোট ২০ সদস্যের বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। এর বাইরে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গড়া ভ্রাম্যমাণ ও অপেক্ষমাণ বাহিনী (স্ট্রাইকিং ফোর্স) এবং বিচারিক ও নির্বাহী হাকিমগণ দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ গতকাল সোমবার বিকেলে কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সরকারের অন্যান্য বিভাগের ওপর নির্ভরশীল। তাদের ওপর কমিশনের কর্তৃত্বও কম। যে কারণে কমিশন সবার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পায় না।
নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া, হানাহানি, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল ইত্যাদি বিষয়ে সিইসি বলেন, দুঃখজনক হলো, এ দেশের নির্বাচন আগে থেকেই মারপিট ও খুনখারাবির চিত্র বহন করে আসছে। নির্বাচন অর্থকেন্দ্রিক হয়ে গেছে আগেই। যার শক্তি বেশি, সে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী মনে করে। যে কারণে হানাহানি ও সহিংসতা থামছে না। এবার তা আগের চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে। কমিশন তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এই সংস্কৃতি বদলাতে সময় লাগবে।
সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, কেন্দ্রে বেশি ভোটার থাকলে সন্ত্রাসীরা সাহস কম পাবে। তিনি সব দল ও প্রার্থীর সহযোগিতা চেয়েছেন।

No comments:

Post a Comment