জাতীয় সম্মেলনে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিএনপির চেয়ারপারসনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।
আগে বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা ছিল দলের চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয় কমিটি এবং চেয়ারম্যানের মনোনীত অন্যান্য কমিটি বাতিল করে দিতে পারেন। এবার কমিটি বাতিল করার পাশাপাশি তা পুনর্গঠনের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি করতে পারবেন।
গঠনতন্ত্রে সর্বশেষ সংশোধনীর আগ পর্যন্ত কমিটি পুনর্গঠন করার একক ক্ষমতা বিএনপি-প্রধানের ছিল না। তবে চেয়ারপারসন জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণ করতে পারতেন।
এই সংশোধনীর যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যাঁর কমিটি বাতিল করার ক্ষমতা থাকে, তাঁর কমিটি পুনর্গঠন করারও ক্ষমতা থাকা উচিত। না হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। তাই গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হয়েছে, এটি নতুন করে ক্ষমতা বাড়ানো নয়।
গত শনিবার বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলর নিয়ে দ্বিতীয় অধিবেশনে চেয়ারপারসনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ধারায় সংশোধনী পাস করা হয়। ওই দিন সকালে উদ্বোধনী পর্বে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে। আর সন্ধ্যায় দলীয়-প্রধানের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির রাজনীতির সমালোচক ও পরামর্শক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চাটুকারেরা খালেদা জিয়াকে ডুবানোর ব্যবস্থা করেছেন। কাউন্সিলররা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এখন বিএনপির চেয়ারপারসনের উচিত হবে দলের স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি, মহিলা দলসহ দলের নেতাদের সবাইকে নিয়ে পরামর্শ করে কমিটি করা।
অবশ্য বিএনপির গঠনতন্ত্রে আগে থেকেই দলীয়-প্রধানের অনেক ক্ষমতা দেওয়া ছিল। তাতে বলা আছে, ‘দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্য কমিটিসমূহের ওপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাঁদের কার্যাবলির নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।’
গঠনতন্ত্রে দেওয়া ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান এসব কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনবোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি ওই কমিটির নেতাদের দায়দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য ঠিক করবেন। চেয়ারম্যান জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করবেন, তবে এ ক্ষমতা প্রয়োজনে তিনি অন্য সদস্যদের দিতে পারবেন।
এ ছাড়া গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে আগে থেকেই চেয়ারম্যানের আরও কিছু ক্ষমতার কথা উল্লেখ আছে। সেগুলোর মধ্যে আছে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা সম্ভব না হলে জরুরি প্রয়োজনে দলের চেয়ারম্যান নিজ বিবেচনায় শাস্তিযোগ্য মনে করলে যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিতে পারবেন এবং আগে নেওয়া যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে সব ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। জরুরি কারণে গঠনতন্ত্র সংশোধনীর প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে পারেন। তবে পরবর্তী সময়ে জাতীয় সম্মেলনে সে সংশোধনী গৃহীত হতে হবে।
অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, ‘চেয়ারপারসনের একক ক্ষমতা বেশি না। আমরা কোন দেশে বসবাস করি, কোন পরিবেশে বসবাস করি, এটা বুঝে মূল্যায়ন করতে হবে। যেখানে ভোটই লাগে না, সরকার গঠনে এবং সেই সরকারের নাম গণতান্ত্রিক সরকার, সেই ভোটের সঙ্গে ইন্ডিয়ার ভোটের তুলনা, ব্রিটেনের গণতন্ত্রের তুলনা, আমেরিকার গণতন্ত্রের তুলনা করলে লাভ হবে না।’
আগে বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা ছিল দলের চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয় কমিটি এবং চেয়ারম্যানের মনোনীত অন্যান্য কমিটি বাতিল করে দিতে পারেন। এবার কমিটি বাতিল করার পাশাপাশি তা পুনর্গঠনের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি করতে পারবেন।
গঠনতন্ত্রে সর্বশেষ সংশোধনীর আগ পর্যন্ত কমিটি পুনর্গঠন করার একক ক্ষমতা বিএনপি-প্রধানের ছিল না। তবে চেয়ারপারসন জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণ করতে পারতেন।
এই সংশোধনীর যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যাঁর কমিটি বাতিল করার ক্ষমতা থাকে, তাঁর কমিটি পুনর্গঠন করারও ক্ষমতা থাকা উচিত। না হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। তাই গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হয়েছে, এটি নতুন করে ক্ষমতা বাড়ানো নয়।
গত শনিবার বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলর নিয়ে দ্বিতীয় অধিবেশনে চেয়ারপারসনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ধারায় সংশোধনী পাস করা হয়। ওই দিন সকালে উদ্বোধনী পর্বে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে। আর সন্ধ্যায় দলীয়-প্রধানের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির রাজনীতির সমালোচক ও পরামর্শক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চাটুকারেরা খালেদা জিয়াকে ডুবানোর ব্যবস্থা করেছেন। কাউন্সিলররা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এখন বিএনপির চেয়ারপারসনের উচিত হবে দলের স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি, মহিলা দলসহ দলের নেতাদের সবাইকে নিয়ে পরামর্শ করে কমিটি করা।
অবশ্য বিএনপির গঠনতন্ত্রে আগে থেকেই দলীয়-প্রধানের অনেক ক্ষমতা দেওয়া ছিল। তাতে বলা আছে, ‘দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্য কমিটিসমূহের ওপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাঁদের কার্যাবলির নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।’
গঠনতন্ত্রে দেওয়া ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান এসব কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনবোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি ওই কমিটির নেতাদের দায়দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য ঠিক করবেন। চেয়ারম্যান জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করবেন, তবে এ ক্ষমতা প্রয়োজনে তিনি অন্য সদস্যদের দিতে পারবেন।
এ ছাড়া গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে আগে থেকেই চেয়ারম্যানের আরও কিছু ক্ষমতার কথা উল্লেখ আছে। সেগুলোর মধ্যে আছে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা সম্ভব না হলে জরুরি প্রয়োজনে দলের চেয়ারম্যান নিজ বিবেচনায় শাস্তিযোগ্য মনে করলে যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিতে পারবেন এবং আগে নেওয়া যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে সব ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। জরুরি কারণে গঠনতন্ত্র সংশোধনীর প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে পারেন। তবে পরবর্তী সময়ে জাতীয় সম্মেলনে সে সংশোধনী গৃহীত হতে হবে।
অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, ‘চেয়ারপারসনের একক ক্ষমতা বেশি না। আমরা কোন দেশে বসবাস করি, কোন পরিবেশে বসবাস করি, এটা বুঝে মূল্যায়ন করতে হবে। যেখানে ভোটই লাগে না, সরকার গঠনে এবং সেই সরকারের নাম গণতান্ত্রিক সরকার, সেই ভোটের সঙ্গে ইন্ডিয়ার ভোটের তুলনা, ব্রিটেনের গণতন্ত্রের তুলনা, আমেরিকার গণতন্ত্রের তুলনা করলে লাভ হবে না।’

No comments:
Post a Comment