Monday, March 28, 2016

২৫% অধ্যাপক প্রথম গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন: অর্থমন্ত্রী

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মোট ২৫ শতাংশ প্রথম গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টানা এক বছরের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর বিষয়টি নিয়ে একটা সমাধানে পৌঁছা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা গ্রেড-২ থেকে গ্রেড-১ এ এবং গ্রেড-৩ থেকে থেকে গ্রেড-২ এ পদোন্নতি পাবেন। তবে মোট অধ্যাপকদের ২৫ শতাংশ গ্রেড-১ এ পদোন্নতি পাবেন।
এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হল প্রথম গ্রেডে উন্নীত হতে হলে দ্বিতীয় গ্রেডে অন্তত দুই বছর চাকরি করতে হবে; সর্বমোট চাকরি বয়স হতে হবে ২০ বছর।
একই সঙ্গে স্বীকৃত কোনো জার্নালে তার দুটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ থাকতে হবে। তবে উভয় গ্রেডে পদোন্নতি হবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধি মিলে আজকের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল উঠে যাওয়ায় এখন এই সুবিধা পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
মন্ত্রী জানান, আজকের এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর একটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।
বৈঠকে সিনিয়র সচিব মর্যাদায় সুপার গ্রেড নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, এ বিষয়টি আরও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'সবার প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছায় আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি আদায় হল। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।'
আর ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস মাকসুদুল কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই সুবিধা অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে দেয়া হয়নি। আজকের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের ফসল অর্জন হয়েছে।
জানা গেছে, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উল্লিখিত সুবিধা দেয়া ছিল না। কিন্তু শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে সরকার বৈতন বৈষম্য দুরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে।
এই কমিটি ইতিমধ্যে চার দফা বৈঠক করেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি টানা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, ইআরডি সচিব মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment