Tuesday, March 22, 2016

বন রক্ষার জন্য দরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার

ক্রমশ পৃথিবীতে কমে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ বনভূমি।
গত ৫০ বছরে দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মোট ভূমির ২০ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যতটুকু বৃক্ষরাজি টিকে আছে, তার ৫১ শতাংশ উজাড় হওয়ার হুমকিতে আছে। এ অবস্থায় বন রক্ষায় সবার আগে দরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। গতকাল সোমবার রাজধানীর বন ভবনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বন দিবসের আলোচনায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়েছে। দিবসের অনুষ্ঠানে দেশের বনভূমির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অবৈধ দখলদার, প্রতিবেশব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করা হয়। এবারের বন দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘করলে রক্ষা সবুজ বন, থাকবে পানি, বাঁচবে জীবন’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব অবশ্য বলেছেন, সরকার বন দখলকালীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাবে।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক উদ্দীন আহমেদ। দখলদারদের কারণে গাজীপুরের শালবন ধ্বংস হওয়ার পথে—এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বনকে এখনই সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা না দিলে তা চিরতরে হারিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী বলেন, বাংলাদেশের বনভূমি দেশের মোট মিষ্টি পানির প্রবাহের বেশির ভাগ সরবরাহ করে। ফলে বন ধ্বংস হলে পানির উৎসও নষ্ট হয়ে যাবে। বাংলাদেশের উজানের দেশ ভারতের পাহাড়ি এলাকায় বনভূমি ধ্বংস হওয়ার ফলে সেখান থেকে নেমে আসা নদীর পানির মানও কমে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের বন ও পানি রক্ষার আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপরে জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রকৃতি-বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।

No comments:

Post a Comment