Tuesday, March 29, 2016

কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি আজ

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি হবে পটুয়াখালীর পায়রায়। এটি স্থাপনের আনুষঙ্গিক সব প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় নির্মাণ চুক্তি সই হচ্ছে।  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। আজ চুক্তি সই হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রটি নির্মাণের সময় গণনা (কাউন্ট ডাউন) শুরু হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০১৯ সালের এপ্রিলে এই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) এবং ডিসেম্বরে একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট চালু হবে। সরকার যে কয়টি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, এর মধ্যে পায়রার চেয়ে আগে অন্য কোনোটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পায়রার কেন্দ্রটি স্থাপনে সরকারি মালিকানাধীন ‘নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল) ’ ও চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি’ মিলে একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। ঢাকায় নিবন্ধনকৃত যৌথ উদ্যোগের এই কোম্পানির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। পায়রার পর দিনাজপুরের দীঘিপাড়ায়ও এক হাজার মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে এনডব্লিউপিজিসিএল। এই লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে দীঘিপাড়া কয়লা খনিটি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কোম্পানিকে। এনডব্লিউপিজিসিএল ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জে ২২৫ মেগাওয়াট ও খুলনায় ১৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র স্থাপন করেছে। পায়রায় সৌর ও বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও কোম্পানিটির রয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎসহ মোট ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তা বাস্তবায়নে কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত সরকার ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছয়টি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পায়রা কেন্দ্রটিতে সর্বাধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রের জন্য কয়লার উৎস হিসেবে প্রাথমিকভাবে ইন্দোনেশিয়াকে নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রটির নির্মাণ ঠিকাদার (ইরেকশন কন্ট্রাক্টর) নিয়োগ করা হয়েছে চীনের প্রতিষ্ঠান ‘এনইপিসি’কে। তারা ইতিমধ্যে নির্মাণস্থলে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রটি স্থাপনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে প্রায় ৯৮৩ একর জমি নেওয়া হয়েছে, যার প্রায় সবটুকুই খাস জমি। তবে সেখানে ১৩২টি জেলে পরিবারের বসবাস রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণসহ তাদের পুনর্বাসিত করা হচ্ছে বিসিপিসিএলের তৈরি করা নতুন আবাসনে। কেন্দ্রটিতে নির্মিত বিদ্যুতের দাম থেকে ইউনিটপ্রতি (এক কিলোওয়াট) শূন্য দশমিক তিন পয়সা রাখা হবে জনকল্যাণে ব্যয় করার জন্য (সোশ্যাল করপোরেট রেসপনসিবিলিটি—সিএসআর কার্যক্রম)।

No comments:

Post a Comment