Sunday, March 20, 2016

কর্ণফুলীর পাশের ঝরনাই শুকিয়ে যাচ্ছে, রাঙামাটিতে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন by হরি কিশোর চাকমা

শিলছড়ি ছড়া থেকে পাথর তুলে পাচারের জন্য রাখা হয়েছে স্তূপ করে
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের দক্ষিণ দিকে বয়ে চলেছে কর্ণফুলী নদী। তার উত্তর পাশে ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিলছড়ি ছড়া(ঝরনা) শুকিয়ে গেছে। অথচ চার-পাঁচ বছর আগেও এই ছড়ায় সারা বছর পানি থাকত। এখন বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে পানি থাকে না। ছড়া থেকে পাথর তোলার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।
১৫ মার্চ সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে নুনছড়ি পাহাড় থেকে শিলছড়ি ছড়া এসে মিশেছে কর্ণফুলী নদীতে। ছড়ার পূর্ব পাশে খাড়া পাহাড় আর পশ্চিম পাশে পাহাড়ের নিচে মহাজনপাড়া ও শিলছড়িপাড়া। এ দুই পাড়ায় ৬০টি পরিবারের শিলছড়ি ছড়ার ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে তাদের গ্রামে।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর আগেও ছড়ায় বড় বড় পাথর ছিল। কিন্তু পাথর তোলা শুরু হওয়ার পর থেকে ছড়ায় পানিপ্রবাহ কমে যায়। এখন বর্ষাকাল ছাড়া ছড়ায় পানির দেখা মেলে না।
শিলছড়ি ছড়ার কিছু কিছু স্থানে সামান্য পানি দেখা গেলেও অধিকাংশ স্থান শুকিয়ে গেছে। পাথর তোলার কারণে ছড়ার পাশের রাস্তাটির বেশির ভাগ অংশ ধসে গেছে। রাস্তা ভেঙে কোথাও কোথাও শুধু পা ফেলার স্থানটিই রয়েছে। ছড়ার পাশে পাথর উত্তোলনকারী কোনো শ্রমিকের দেখা পাওয়া না গেলেও কমপক্ষে সাতটি স্থানে পাথর স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কার্বারি ও ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সদস্য উমে চিং মারমা বলেন, পাথর তোলার কারণে ছড়ায় পানি নেই বললেই চলে। এ ছাড়া ছড়ার পাশের সড়কেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মহাজনপাড়ার বাসিন্দা উচা চিং মারমা (৩৮) ও মংথোয়া চিং মারমাসহ (৩২) স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী একটি চক্র পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা ওপর থেকে নেমে আসা বড় বড় পাথর শ্রমিক দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মহাজনপাড়া বৌদ্ধমন্দিরের পাশে একটি দোকানে বসে থাকা কয়েকজন নারী জানান, আগে ছড়ার আশপাশে কূপ খনন করলেই পানি পাওয়া যেত। এখন বড় বড় গর্ত খুঁড়েও পানি পাওয়া যায় না। তাই সড়ক পার হয়ে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে যেতে হয় বলে তাঁরা জানান।
মহাজনপাড়ার কার্বারি পাইমং মারমা বলেন, পাথর ব্যবসায়ীরা খুবই প্রভাবশালী। বারবার নিষেধ করার পরও তঁারা পাথর তুলেছেন। ভবিষ্যতে পাথর তুলতে এলে এলাকাবাসী এঁদের প্রতিহত করবে।
ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংহ্লা চিং মারমা বলেন, শিলছড়ি ছড়া থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কাছে অনেক বার বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল আলম বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এখনো সবকিছু জানি না। চেয়ারম্যান বা অন্য কেউ লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
একসম ​য় সারা বছরই কুলকুল করে বয়ে যেত শিলছড়ি ছড়া (ঝরনা)। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুম ছাড়া এই ছড়ায় পানি থাকে না। কর্ণফুলী নদীর পাশে অবস্থিত হলেও নির্বিচারে পাথর তোলার কারণে শুষ্ক মৌসুমে ছড়াটির এই হাল হয়। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের শিলছড়ির মহাজনপাড়া এলাকা থেকে ১৫ মার্চ ছবিটি তোলা l সুপ্রিয় চাকমা

No comments:

Post a Comment