Thursday, March 17, 2016

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাছাইপর্বে হিলারি ও ট্রাম্পের বিজয়, রুবিওর প্রস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে গত মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ ভোটে ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। এদিন ভোট হওয়া পাঁচটি অঙ্গরাজ্যেই জিতেছেন হিলারি; ট্রাম্প জিতেছেন চারটিতে। কিন্তু রিপাবলিকান পার্টির মার্কো রুবিও নিজ রাজ্যেও পরাস্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অধিকাংশ ভাষ্যকারই একমত, মঙ্গলবার ভোট হওয়া ফ্লোরিডা, ইলিনয়, মিসৌরি, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওর সব কটিতে জয়ের পর হিলারি ক্লিনটন তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। এখন পর্যন্ত মোট ডেলিগেটের হিসাবে হিলারির ঝুড়িতে রয়েছে ১ হাজার ৫৯৯। অন্যদিকে, স্যান্ডার্সের মাত্র ৮৪৪। মনোনীত হওয়ার জন্য কমপক্ষে ২ হাজার ৩৮২ ডেলিগেটের সমর্থন প্রয়োজন। এখনো যদিও অনেক প্রাইমারি নির্বাচন বাকি, কিন্তু জনমত জরিপ ও নির্বাচনের গতিধারা দেখে এ কথা বলা যায় যে স্যান্ডার্সের পক্ষে মনোনয়ন লড়াইতে টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব।
রিপাবলিকান পার্টির ক্ষেত্রে ছবিটি অবশ্য এর চেয়ে কিছুটা জটিল। চার রাজ্যে চমৎকার ফলের জোরে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ৬৬১ জন ডেলিগেটের সমর্থন অর্জন করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজের রয়েছে ৪০৬ জন ডেলিগেট। এর বাইরে ওহাইওর গভর্নর কেইসিক তাঁর নিজ রাজ্যে জয়ের সুবাদে সব মিলিয়ে পেয়েছেন মোট ১৪১ জন ডেলিগেটের সমর্থন। জুলাইয়ের দলীয় কনভেনশনে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এঁদের কোনো একজনকে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩৭ ডেলিগেটের সমর্থন পেতে হবে।
মার্কিন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় খবর ছিল সিনেটর মার্কো রুবিওর পরাজয় ও প্রতিযোগিতা থেকে প্রস্থান। রুবিওই ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্ব ও বড় চাঁদাদাতাদের সবচেয়ে প্রিয় প্রার্থী। নিজ রাজ্য ফ্লোরিডায়ও বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর তাঁর মনোনয়ন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় রুবিও স্বীকার করেন, তিনি যে ‘আশাবাদী বার্তা’ নিয়ে লড়াইতে নেমেছিলেন, এ বছর ভোটারদের ক্রোধ ও হতাশার মুখে তা নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব ছিল।
টেক্সাসের সিনেটর ট্রেড ক্রুজ মঙ্গলবারের ভোটে কোনো কোনো রাজ্যে জয় পাননি। তবে মিসৌরিতে ট্রাম্পের (৪০.৯ শতাংশ) সঙ্গে তাঁর (৪০.৭ শতাংশ) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।
এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমের জনবহুল অধিকাংশ রাজ্যেই প্রাইমারি হয়নি। ডেমোক্র্যাটদের জন্য সুখবর, হিলারির জয় এখন সময়ের ব্যাপার।
রিপাবলিকান দলের অবস্থা অবশ্য ভিন্ন। ট্রাম্পকে ঠেকানোর বিস্তর চেষ্টা সত্ত্বেও এই ক্রোড়পতি ক্যাসিনো ব্যবসায়ী তাঁর বিজয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। দলের নীতিনির্ধারক মহল আশা করছে, ট্রাম্প-ক্রুজ-কেইসিক এই ত্রিমুখী লড়াই যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ট্রাম্প এককভাবে সর্বাধিক ডেলিগেট পেলেও ১ হাজার ২৩৭ জনের সমর্থন অর্জনে সক্ষম হবেন না।
পার্টি কনভেনশনে ডেলিগেটদের ভোটে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে। সেখানে প্রথম ব্যালটে ভোট হওয়ার পর ডেলিগেটরা তাঁদের প্রতিশ্রুত প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে আর বাধ্য নন। সে অবস্থায় দলের নেতৃত্ব পেছন থেকে প্রভাব খাটিয়ে অন্য কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারেন বলে ভাবা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment