নৌযানশ্রমিকের
ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা
ও চাঁদপুর নৌবন্দর। এই দুই জায়গা থেকে সব নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ
রয়েছে। সর্বনিম্ন মজুরি ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ, নৌপথে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি
বন্ধ, নৌনিরাপত্তাসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার রাত ১২টা ১
মিনিট থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছেন নৌযানশ্রমিক নেতারা। গতকাল রাত
১২টার পর থেকেই ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সদরঘাটের
টার্মিনাল থেকে সব লঞ্চ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের কথা জানেন
না—এমন অনেক যাত্রী সকাল থেকে নদী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন। চাঁদপুরগামী
যাত্রী ফেরদৌস রহমান বলেন, সকাল আটটার দিকে তাঁর লঞ্চে রওনা হওয়ার কথা।
সাড়ে সাতটার দিকে লঞ্চঘাটে এসে দেখেন লঞ্চ নেই। বাংলাদেশ নৌযানশ্রমিক লীগের
সভাপতি এনায়েত হোসেন জানান, জাহাজ ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌযানশ্রমিক
ফেডারেশনের ১৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নৌধর্মঘট চলবে। অভ্যন্তরীণ নৌ
চলাচল সংস্থার (জাপো) ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন বলেন,
দাবিদাওয়ার মধ্যে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি তাঁরা বিবেচনা করছেন।
 |
| ধর্মঘটের খবর পাননি তাঁরা। তাই লঞ্চের জন্য অপেক্ষা |
তাঁর
মতে, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া বেশি। এদিকে নৌ-ধর্মঘটের কারণে চাঁদপুর থেকে
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, খুলনা, ভোলাসহ অন্তত ২০টি নৌপথে যাত্রীবাহী
লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের
কারণে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আসা যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রীরা
অবিলম্বে নৌযানশ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন।
নৌ-ধর্মঘটের কারণে চাঁদপুর নৌবন্দরে কর্মরত কয়েক শ শ্রমিক এখন বেকার। গত ২৬
জানুয়ারি দাবি আদায়ে নৌযান ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এক মাসের মধ্যে দাবি
পূরণ করার আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত করান নৌমন্ত্রী। কিন্তু দুই মাসের
বেশি সময় অতিবাহিত হলেও দাবি পূরণে কোনো উদ্যোগ নাই। বাধ্য হয়ে
নৌযানশ্রমিকেরা বৈঠক করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
No comments:
Post a Comment