Saturday, April 30, 2016

ছেলেসহ অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আটক

রেজাউল করিম হত্যা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক ও তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর থেকে গতকাল শুক্রবার তাঁদের আটক করা হয়। এদিকে অধ্যাপক হত্যার প্রতিবাদে ও খুনিদের শাস্তির দাবিতে গতকাল প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে শ্রীপুরের বাড়ি থেকে বাগমারা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল হাকিম (৬৩) ও তাঁর ছেলে বাগমারা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলামকে (১৭) ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে আটকের কথা স্বীকার করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন। আবদুল হাকিমের ভাই ইসাহাক আলী প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল ভোরে তাঁর ভাই ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাড়ির পাশে মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ১৫ থেকে ১৬ জন লোক বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা হাকিম ও তাঁর ছোট ছেলে আরিফুলকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তারা বাড়ির সবার মুঠোফোনও জব্দ করে নিয়ে গেছে। তখন বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আটকের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। আটককৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, হাকিমের বড় ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শরিফুল ইসলাম দেড় বছর ধরে নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও নেই। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায়ও অংশ নেননি। এই বিষয়গুলো জানার জন্যই হয়তো পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। শরিফুল ইসলাম একই বিভাগের ছাত্র। এর আগে ২৬ এপ্রিল অধ্যাপক রেজাউল করিমের নিজ গ্রামের মসজিদের ইমাম রায়হানুল ইসলাম ও গোপালপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মুনসুর রহমানকে ডিবি আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুনসুরকে ছেড়ে দিলেও ইমামকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া শিবির নেতা হাফিজুর রহমান ও কর্মী খায়রুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায় শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বালন: গতকাল সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে অধ্যাপক রেজাউল করিম স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, আজ শনিবার সকাল ১০টায় ইংরেজি বিভাগের সামনে থেকে একটি মৌন মিছিল নিয়ে সিনেট ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশ করা হবে। পরে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে। বেলা ১১টায় তাঁরা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগদান করবেন এবং পরে ‘মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চে’ ছাত্র সমাবেশে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবাদে শামিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মিলিত হয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন। ‘রাবি প্রাক্তনী’র ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা বিভিন্ন প্রতিবাদী গান ও কবিতা পরিবেশনের মাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন ‘কারার ঐ লৌহ-কবাট, ভেঙে ফেল্ কর্রে লোপাট’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’র মতো গানগুলো। মৌন এই মানববন্ধনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, চাকরিজীবী ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment