বাংলাদেশ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের জন্য পালনীয় যে ৪০ দফা আচরণবিধি আমরা আপিল
বিভাগের রায়ের সূত্রে পেলাম, তাতে দীর্ঘদিনের একটি আইনগত শূন্যতা পূরণ
হয়েছে। হাইকোর্টের একজন বিচারককে অপসারণে রাষ্ট্রপতির আদেশ বহাল রেখে গত
সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগের চার সদস্যের একটি বেঞ্চ যে রায় দিয়েছিলেন, এখন
তার পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া গেছে। অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখা যাবে কি না, তা
অবশ্য এই আচরণবিধিতে স্পষ্ট হয়নি। কিন্তু অনধিক ছয় মাসের মধ্যে রায় লেখার
অর্থ হতে পারে এই যে কোনো বিচারক অবসরে যাওয়ার ছয় মাস আগেই তাঁকে তেমন
রায় বা আদেশ প্রদানে অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে
সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী পাস হওয়ার পরে ১৯৭৭ সালে সুপ্রিম জুডিশিয়াল
কাউন্সিলের প্রণীত আচরণবিধির বিলোপ ঘটে। প্রধান বিচারপতিদের আন্তর্জাতিক
সম্মেলনে গৃহীত ল্যাটিমার ও বেঙ্গালুরু নীতিমালার সঙ্গে এই আচরণবিধি
সংগতিপূর্ণ, এই দুটি নীতিমালার সারকথা হচ্ছে বিচারকদের আচরণবিধির অব্যাহত
তদারকির বিষয়টি প্রধানত বিচার বিভাগের কাছেই থাকবে। কারণ, এর সঙ্গে বিচার
বিভাগের স্বাধীনতার সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে
থাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। রায় ঘোষণার ৬ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায়ে সই
করতে হবে প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের দুজন প্রবীণ বিচারকের সমন্বয়ে
গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট
তার অভ্যন্তরীণ তদারকির প্রয়োজনে এ রকম একটি সংস্থা তৈরি করে নিতে পারেন
কি না, সেটা বিবেচ্য। কারণ, আচরণবিধির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন বা বিচ্যুতির
অভিযোগ কেবলই সংসদীয় প্রক্রিয়ায় যাচাইযোগ্য করাটা অপরিহার্য বলে গণ্য নাও
হতে পারে। সে কারণে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক
দেশ সংসদের মাধ্যমে অপসারণ বা অভিশংসনের রীতি অনুসরণ করে থাকলেও উচ্চ
আদালতও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে
থাকেন। একে বলা হয় পিয়ার রিভিউ কমিটি। অনেক দেশের এ বিষয়ে আইনও আছে। এখন
আমাদের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আচরণবিধির নিবিড় তদারকির জন্য এ রকম একটি পিয়ার
কমিটি গঠন করতে পারেন।
Tuesday, April 5, 2016
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment