Tuesday, April 5, 2016

ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর

দফায় দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর গত ৩১ মার্চের মধ্যে স্থানান্তরের সর্বশেষ সময়সীমাও মানতে পারেননি ঢাকার হাজারীবাগের চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তারা। সরকার নতুন করে আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। আশা করব এবার তাঁরা আর ব্যর্থতার পরিচয় দেবেন না। এবং সরকারের প্রতি অনুরোধ, এ ব্যাপারে আর কোনো নমনীয়তা নয়। হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। কিন্তু শহরের মাঝখানে এ রকম পরিবেশবিনাশী শিল্প চলতে পারে না। এর কারণে আশপাশের বিরাট এলাকা দুর্গন্ধ ও দূষণের শিকার। যুগের পর যুগ ধরে হাজারীবাগের যাবতীয় দূষিত ও বিষাক্ত জলীয় উপাদান ও চামড়ার অবশেষ বুকে নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর অবস্থাও জেরবার। ট্যানারি শিল্পের বিষাক্ত রাসায়নিক ও দূষিত পানির একমাত্র গন্তব্য বুড়িগঙ্গা নদী। শুধু পরিবেশের দিক থেকেও নয়, ট্যানারি শিল্পে জড়িত শ্রমিকেরাও হাজারীবাগে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এ কারণেই কেবল চামড়াশিল্পের জন্যই ঢাকার অদূরেই সাভারে চামড়া শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এই সময়ের মধ্যে হাজারীবাগে শিল্প প্রতিস্থাপনে যাবতীয় সহায়তা দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে বিসিক। ৭ দিন সময় পেলেন ট্যানারি মালিকেরা ইতিমধ্যে ওই শিল্পনগরে বর্জ্য শোধনাগার, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ দূষণ নিষ্কাশনের যাবতীয় প্রযুক্তি স্থাপিত হয়েছে। অবকাঠামো নির্মিত হলেও ট্যানারি মালিকেরা বারবার সময়ক্ষেপণ করছেন। একটি ভালো উদ্যোগ এভাবে পিছিয়ে যাওয়া দুঃখজনক। আমরা আশা করব, শিল্পমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া বর্ধিত সাত দিন শেষ হওয়ার আগেই হাজারীবাগ ট্যানারিমুক্ত হবে এবং সাভারে শুরু হবে তার ঐতিহাসিক যাত্রা। শিল্প স্থাপন খামখেয়ালের বিষয় নয়। এর অবকাঠামো, পরিচালনা ও পরিবেশগত সুরক্ষার বন্দোবস্ত প্রথম শ্রেণির হওয়া চাই। আশা করব, সাভারের চামড়া শিল্পনগরে এই শর্তগুলো রক্ষায় ট্যানারি মালিক সমিতি ও বিসিক সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবে।

No comments:

Post a Comment