![]() |
| সাকিবের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজছেন এনামুল |
বয়স
২৯ পেরিয়ে গেছে, তিন বছর ধরে নেই জাতীয় দলের ছায়ায়। সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন
২০১৩-এর এপ্রিলে। ওয়ানডে তো আরও আগে, ২০০৯-এর নভেম্বরে। এ রকম এক
পরিস্থিতিতে দাঁড়ানো একজন খেলোয়াড়ের কি ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যায়
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে? তাঁর ক্যারিয়ার বলতে গেলে শেষ...হয়তো আরও কয়েক বছর
ঘরোয়া ক্রিকেট, এ-ই তো! এনামুল হক জুনিয়রের ক্ষেত্রে কথাটা আরও বেশি করে
সত্যি, কারণ নির্বাচকেরা তাঁকে একরকম বাতিলের খাতায়ই ফেলে দিয়েছেন। তবে
এনামুল নিজে একটু অন্যভাবেই ভাবেন। আরও সাত-আট বছর ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা তো
আছেই। বাঁহাতি এই স্পিনার মনে-প্রাণে এও বিশ্বাস করেন, তাঁর পক্ষে খুব
ভালোভাবে ফেরা সম্ভব জাতীয় দলেও, ‘জাতীয় দলে খেলার লক্ষ্য না থাকলে ঘরোয়া
ক্রিকেটে ভালো খেলা সম্ভব নয়। একটা মোটিভেশন তো লাগে। তবে আমি যে আবার
জাতীয় দলে খেলব, সেটা মন থেকেই বিশ্বাস করি। ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি, অনেক
ওজন কমিয়েছি। কেউ যেন বলতে না পারে যে আমার ফিটনেসের অভাব। মনে হয় না আমার
এমন কোনো বয়স হয়েছে যে এখনই হাল ছেড়ে দিতে হবে।’ নিজেকে আবারও জাতীয় দলে
দেখার এই স্বপ্নে এনামুলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সাকিব আল হাসান। ‘কোচ’ও
কি নন? সাকিবের বোলিংয়ের দিকে তাকিয়েই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক
নতুন করে আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন নিজেকে, ‘আমি সব সময় সাকিবের বোলিং
দেখি...ও কীভাবে বল করে সেটা খেয়াল করি। ওর বোলিং দেখার সময় চোখ বন্ধ করে
কল্পনা করি ওই মুহূর্তে আমি কীভাবে করতাম। সাকিব যেভাবে করছে সেভাবে করতে
পারতাম কি না। ওর বল দেখে মনে মনে নিজে ওভাবে বল করার চেষ্টা করি।’
যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বল করতে পারাটাই সাকিবের সবচেয়ে বড়
গুণ মনে হয় এনামুলের। আর বাঁ হাত থেকে বেরোনো স্পিন-বিষগুলো তো আছেই,
‘সাকিবের কোন বলটা ঘুরবে, কোন বলটা সোজা যাবে, সেটা আগে থেকে বুঝতে পারে
না ব্যাটসম্যানরা। সোজা চলে যাবে ভেবে কেউ হয়তো বল ছাড়ছে, কিন্তু হঠাৎ
করে সেটা ঘুরে গেল! আমরাও অনেক সময় বুঝতে পারি না।’ কীভাবে বুঝবেন? সাকিবের
নিজের কাছেও যে নিজের বোলিংটা মাঝে মাঝে রহস্যময়! মুঠোফোনে এনামুল
বলছিলেন, ‘ওর সঙ্গে যখন এ নিয়ে কথা বলেছি, সাকিব বলেছে, সে নিজেও নাকি অনেক
সময় বোঝে না কোন বলটা ঘুরবে। এসব জিনিস প্রকৃতিপ্রদত্ত।’ এনামুল তাই মনে
করেন, কেউ চাইলেই সাকিব হতে পারবেন না। সাকিবকে শুধু অনুকরণ করেও হওয়া
যাবে না আরেকজন সাকিব আল হাসান, ‘বিশ্বে সাকিব আল হাসান একজনই। ওর সে রকম
অনুশীলনও লাগে না। পুরোই ব্যতিক্রমী এক বোলার। ওর সবকিছু নির্ভর করে
মেজাজের ওপর। অনুশীলন করে কেউ হয়তো ওর মতো হতে চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু
সাকিব একজনই থাকবে।’ সাকিবের চেয়ে প্রায় চার বছর আগে টেস্ট অভিষেক হলেও
এনামুল এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন মাত্র ১৫টি, সাকিব ৪২টি। অভিষেকের পর
থেকে সাকিব শুধু তর তর করে এগিয়েই গেছেন। অন্যদিকে এনামুলের যাত্রায় বারবার
বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্ভাগ্য আর ফর্মহীনতা। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত
পারফরম করেও দৃষ্টি কাড়তে পারেননি নির্বাচকদের। তবে স্পিননির্ভর বাংলাদেশ
দলে হঠাৎ করে বিশেষজ্ঞ স্পিনারের অভাব দলে ফেরার স্বপ্নটা জীবন্ত করে তুলছে
তাঁর জন্য। এনামুল সে জন্য চান স্পিনারদের প্রতি সবার সমর্থন, ‘মাঝে মাঝে
মনে হয়, আমরা নিজেরাই বুঝি আমাদের স্পিনারদের দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিচ্ছি।
এভাবে চললে একটা সময়ে আমরা স্পিনার–সংকটে পড়ে যাব। একটা গ্যাপ তো এর
মধ্যেই হয়ে গেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বা “এ” দলেও ভালো কোনো স্পিনার নেই।
স্পিনাররা ভালো খেললে তাদের যদি ব্যাক করা হয়, অবশ্যই এই সংকট পূরণ করা
সম্ভব।’

No comments:
Post a Comment