অনাগ্রহের কথাটা প্রথম বলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের
প্রধান নির্বাহী টনি আইরিশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে
যে প্রোটিয়া খেলোয়াড়দের অনেকের মধ্যেই দ্বিধা আছে, তাঁর কথা থেকেই তা বোঝা
গিয়েছিল। এবার সেই অনাগ্রহের কথা সরাসরিই বলে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট
ও ওয়ানডে অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে এতেও দমে যাচ্ছে না ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড সাময়িক
লাভক্ষতির কথা না ভেবে ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে অনুরোধ করেছেন
দক্ষিণ আফ্রিকাকে। আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পার্থ টেস্ট
দিয়ে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম, হোবার্ট ও অ্যাডিলেডে হবে সিরিজের
বাকি দুটি টেস্ট। গতকাল যে সিরিজের সূচিও ঘোষণা করেছে ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়া। সিএ চাইছে, অ্যাডিলেডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ
টেস্টটি দিবারাত্রি হোক। গত বছরের নভেম্বরে অ্যাডিলেডে নিউজিল্যান্ডের
বিপক্ষে ঐতিহাসিক দিবারাত্রির টেস্ট যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছিল দর্শকদের মধ্যে।
সে কারণেই এই পরিকল্পনা। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সূচি প্রকাশ করার
আগেই দিবারাত্রির টেস্ট খেলা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আপত্তির কথা জানান
দেশটির প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টনি আইরিশ। তাঁর দাবি
ছিল, অস্ট্রেলিয়ানরা ঘরোয়া ক্রিকেটে গোলাপি বলে দিবারাত্রির ম্যাচ খেলেছে।
তাঁদের জন্য তাই এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের এই
অভিজ্ঞতা নেই একেবারেই। দিবারাত্রির টেস্ট খেলা হলে স্বাভাবিকভাবেই
প্রোটিয়ারা তাই পিছিয়ে থাকবে। কাল টনি আইরিশের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন
প্রোটিয়া অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সও, ‘ঠিক এই মুহূর্তে আমরা দিবারাত্রিতে টেস্ট
খেলার ব্যাপারে খুব একটা স্বচ্ছন্দ নই। কারণ ঐতিহাসিক দিবারাত্রির
টেস্টটিতে যাঁরা খেলেছেন, তাঁদের অনেকের কাছ থেকেই আমরা কিছু উদ্বেগের কথা
জানতে পেরেছি।’সেটা কী রকম, তা-ও ব্যাখ্যা করেছেন ডি ভিলিয়ার্স,
‘অস্ট্রেলিয়া যখন এ বছরের শুরুতে আমাদের এখানে সফরে এল, আমরা স্টিভেন
স্মিথসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। আলোচনার পর আমরা
একমত হয়েছি যে দিবারাত্রির টেস্টে অনেক অজানা বিষয় নির্ধারক হয়ে যায়। দুই
দলই ওই টেস্ট খেলার ব্যাপারে দ্বিধায় ছিল।’ আইসিসির টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ে
এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে। দুইয়ে ভারত, তিনে দক্ষিণ আফ্রিকা।
নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজটি জিতলে দক্ষিণ আফ্রিকার
সুযোগ থাকছে আবার শীর্ষে উঠে যাওয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকা তাই কেন দিবারাত্রি
টেস্টের অজানা জগতে পা রাখার ঝুঁকি নিতে যাবে? ডি ভিলিয়ার্সের কথায়ও উঠে
এল এই বিষয়টা, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দারুণ একটা দ্বৈরথ
আছে। আর আমাদের সামনে সুযোগ টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার।
সুতরাং এই অবস্থায় দিবারাত্রির টেস্ট খেলা সেই লক্ষ্যে একটা মৌলিক পরিবর্তন
এনে দিতে পারে।’ তবে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের মধ্যেই অবশ্য এ নিয়ে
দ্বিমত আছে। ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইন যেমন এটাকে দেখছেন একটা চ্যালেঞ্জ
হিসেবে, ‘একটাও দিবারাত্রির টেস্ট না খেলে আমি আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই
না। কী দারুণ ব্যাপার না সেটা (দিবারাত্রির টেস্ট)?
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যখন খেলল, আমার তো দেখতে খুবই চমৎকার লেগেছে,
অনেক দর্শকও হয়েছে। বলটাও আলাদা—গোলাপি। এই চ্যালেঞ্জে নিজের সামর্থ্যের
পরীক্ষা দিতে কে না চাইবে!’ শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা
সিরিজে দিবারাত্রির টেস্ট হবে কি না, তা জানতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তবে
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যে ‘যেকোনো মূল্যে’ এটি করতে চাইছে, সেটি পরিষ্কার
সাদারল্যান্ডের কথা থেকেই। সিএর প্রধান নির্বাহী মোক্ষম চালটা চেলেছেন
এটিকে শুধুই দুই দেশের ব্যাপার না রেখে, ‘খেলোয়াড়েরা এটা নিয়ে একসঙ্গে বসে
আলোচনা করুক—এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। তবে ওদের বুঝতে হবে, এটাই ভবিষ্যৎ।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, ক্রিকইনফো।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment