Sunday, April 17, 2016

অশান্ত হয়ে উঠছে কাশ্মীর

ভারতের কাশ্মীর পরিস্থিতি দিন দিন অশান্ত হয়ে উঠছে। গত কয়েক দিনের হিংসাত্মক ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু ছাড়াও ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪০ জন সেনাসদস্য ও নিরাপত্তারক্ষী। উপত্যকার বিভিন্ন থানায় কারফু জারি রয়েছে। বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে মোবাইল পরিষেবা। যাকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দিন ধরে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা অশান্ত, সেই ১৬ বছরের স্কুলছাত্রী ও তাঁর বাবাকে ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ থানায় আটকে রাখা হয়েছে। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির লোকজনকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। উপত্যকার একেবারে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে কুপওয়াড়া জেলার হান্দোয়ারার ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ি ফেরার পথে হেনস্তা করা হয়। অভিযোগ, সেনাবাহিনীর এক জওয়ান তাঁর শ্লীলতাহানি করে। খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই কুপওয়াড়া অশান্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী আক্রান্ত হতে থাকে। সংঘর্ষ হয় জায়গায় জায়গায়। কুপওয়ারা-সংলগ্ন বারামুলা জেলাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ হতে থাকে স্থানীয় যুবকেরা। পুলিশের গুলিতে সেই দিন এক বয়স্কা নারী ও তিন যুবক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রাজ্যের এক প্রতিশ্রুতিমান ক্রিকেটারও ছিলেন। পরের বড় ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সন্ধ্যায়। কুপওয়ারা জেলার নাতনুসায় রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের (আরআর) ঘাঁটি আক্রমণ করে কয়েক শ জনতা। আরআর সূত্রে বলা হয়, জনতা পাঁচিল টপকে ঘাঁটির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। জওয়ানরা তাদের ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রথমে শূন্যে গুলি ছোড়ে। তাতেও অবস্থা শান্ত না হওয়ায় গুলি চালাতে হয়। তাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়, তিনজন আহত হন। সরকারি সূত্রে বলা হয়, জওয়ানের হাতে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটেছিল বলে যা রটে, তা আসলে সত্য নয়। বাহিনীর পক্ষ থেকে মেয়েটির যে ভিডিও জবানবন্দি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে, তাতে জওয়ানের হাতে হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ নেই। মেয়েটির জবানবন্দিতে বরং বলা হয়, স্থানীয় একটি ছেলে তাকে উত্ত্যক্ত করেছিল। ছাত্রীটির মা অবশ্য বলেছেন, ওই জবানবন্দি জবরদস্তি করে নেওয়া হয়েছে। মেহবুবা মুফতি জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে উপত্যকায় অশান্তি লেগেই রয়েছে। প্রথমে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এনআইটি) ছাত্র বিক্ষোভ, পরে শ্লীলতাহানির ঘটনা। কী করে অবস্থার সামাল দেওয়া যাবে, তা এখনো অজানা। শাসক দলের পক্ষ থেকে শান্তিরক্ষার আবেদন জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীকে সংযত হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

No comments:

Post a Comment