![]() |
| রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে গতকাল ‘শেপিং দ্য ফিউচার: হাউ চেঞ্জিং ডেমোগ্রাফিকস ক্যান পাওয়ার হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউএনডিপি |
জাতিসংঘ
উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলছে, দেশে কর্মরত ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৮০ জন
দিনে চার ডলারের (৩১৩ টাকা) কম উপার্জন করেন। উপার্জন বাড়াতে হলে শিক্ষার
মান উন্নয়নে ও দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ইউএনডিপির
এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৬-তে এ কথা বলা
হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘শেপিং দ্য ফিউচার: হাউ
চেঞ্জিং ডেমোগ্রাফিকস ক্যান পাওয়ার হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক
প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই অঞ্চলে
শ্রমিকদের দক্ষতা কম বলে তাঁরা স্বল্প মজুরিতে কাজ করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় ২৪
শতাংশ কর্মজীবী দিনে সোয়া ডলারের কম আয় করেন। তাঁরা শোচনীয় দারিদ্র্যের
ফাঁদে আটকা পড়ছেন। আর বাংলাদেশসহ আফগানিস্তান, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে ৮০
শতাংশের বেশি কর্মজীবী দিনে চার ডলারের কম আয় করেন। অবশ্য ভুটান, মালদ্বীপ
ও শ্রীলঙ্কায় মধ্যবিত্তের আকার বাড়ছে। তারা দিনে ৪ থেকে ১৩ ডলার আয় করছে।
বাংলাদেশে জীবনধারণের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল মানুষের হার কমে আসছে বলে
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে ১০০ জন উপার্জনক্ষম
মানুষের (১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী) ওপর নির্ভর করে ৫২ জন মানুষ (১৫ বছরের কম
এবং ৬৪ বছরের বেশি বয়সী)। ২০০০ সালে নির্ভরশীল মানুষ ছিল ৬৯ শতাংশ। আর ২০৩০
সালে তা আরও কমে ৪৩ শতাংশে দাঁড়াবে। নির্ভরশীল মানুষের হার কমে যাওয়া
অর্থনীতির জন্য সহায়ক। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব
হাওলিয়াং জু বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ও উপার্জন উল্লেখযোগ্যভাবে
বেড়েছে। ইউএনডিপির সহায়তায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কয়েক হাজার ডিজিটাল সেন্টার
স্থাপন অনেক বড় ঘটনা। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড)
খুব অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায় উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর
অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, এই সময়কে কাজে লাগাতে কোন ধরনের
অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করা দরকার, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মূল
বিষয়বস্তু উপস্থাপনার সময় প্রতিবেদনের প্রধান লেখক থাঙ্গাভেল পালানিভেল
বলেন, বয়সকাঠামোতে পরিবর্তনের ফলে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা একটি জাতির
জীবনে একবারই আসে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে
লাগানো যায় না। এর জন্য পরিকল্পনা দরকার। তিনি বলেন, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক
পরিবর্তনকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কৌশলের অংশ করতে হবে।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের পর সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন,
এমন কোনো দেশ কি আছে, যে দেশ জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুযোগ কাজে লাগাতে
পারেনি? এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেমন করছে? উত্তরে থাঙ্গাভেল পালানিভেল বলেন, এ
ক্ষেত্রে শতভাগ সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয় নেই। কোনো দেশ সুযোগটি
পরিকল্পনা করে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে, অন্য দেশ হয়তো ততটা পারেনি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় ভালো করেছে। বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উচ্চ
উৎপাদনশীলতার জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। তৃতীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন নিয়ে
একটি নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়। এতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সাবেক
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন,
জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা খুবই কম সময়ের জন্য। সেই সময়ের মধ্যেই ধনী হতে
হবে—এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য
মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। ২৪৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, ২০৫০ সালে এই অঞ্চলের জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে দাঁড়াবে। বিশ্বের সবচেয়ে
বেশি জনসংখ্যার ১০টি দেশের ৬টি এই অঞ্চলের। এগুলো হচ্ছে চীন, ভারত,
ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও জাপান। প্রথম তিনটি দেশে বিশ্বের ৪০
শতাংশ মানুষ বাস করে। পরিশিষ্টে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের
জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশের বয়স ২৪ বছর বা তার নিচে, জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ কর্মক্ষম
(১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী), জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশ শহরে বাস করে এবং ৭ শতাংশ
মানুষের বয়স ৬০ বছরের বেশি। পাকিস্তানের ওপরে বাংলাদেশ: বাংলাদেশ ও
পাকিস্তানের জনসংখ্যা এবং পরিবার পরিকল্পনা নীতি একই ছিল। ১৯৭১ সাল দুটি
পৃথক রাষ্ট্র হওয়ার পর পথ আলাদা হয়ে যায়। তখন থেকে বাংলাদেশে
জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহারের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায় এবং প্রজনন হার
নিয়মিতভাবে কমেছে। দুটি ক্ষেত্রেই পাকিস্তান নিচে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও
নাগরিক সমাজের সম্পৃক্ততার মাত্রা দুই দেশের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য তৈরি
করেছে। দুটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান উঁচুতে।

No comments:
Post a Comment