Thursday, April 7, 2016

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিরীক্ষা পরামর্শক নিয়োগ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে পাঁচ বছরের জন্য নিরাপত্তা-বিষয়ক দুই নিরীক্ষা পরামর্শক (সেফটি অডিট কনসালট্যান্ট) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনা পর্যায়ের জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে পরামর্শকেরা। প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পালন করবে তারা। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাধারণত কথা বলেন না। তবে গতকাল এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হয়েছে, যা আমাদের জন্য সুখবর। আমি আগেই বলেছিলাম, দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকলে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হওয়া স্বাভাবিক।’ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাদের অবদান বেশি—জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘অবশ্যই বিদ্যুৎ বিভাগের।’ এ সময় অর্থমন্ত্রী তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা তারা দাবি করতে পারে। তবে কৃষি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ অর্থমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান অনুমোদিত প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে মোট নয়টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ৪৩ কোটি টাকার বিনিময়ে পরামর্শক হয়েছে যৌথভাবে ভারতীয় কোম্পানি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কনসালট্যান্টস অ্যান্ড টেকনোক্র্যাটস এবং দেশীয় কোম্পানি ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্ট। বাকি প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রেলপথ বিভাগের রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে ‘ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলস্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম ও প্ল্যাটফর্ম শেড, কার পার্কিং এরিয়া, স্টাফ কোয়ার্টার, প্রকল্পের সাইট অফিস ইত্যাদি নির্মাণ এবং বৈদ্যুতিক সংযোগসহ আনুষঙ্গিক কাজের ঠিকাদার নিয়োগ পেয়েছে নূর-এ-এলাহী অ্যান্ড ব্রাদার্স। এতে ব্যয় হবে ৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে গোপালগঞ্জ থেকে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত অংশের ১৮ দশমিক শূন্য ৪ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ লাইন ও ৩ কিলোমিটার লুপ-লাইনসহ এমব্যাংকমেন্ট, ট্র্যাক, মেজর ও মাইনর ব্রিজ, স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম ও প্ল্যাটফর্ম শেড, লেভেল ক্রসিং গেট, সংযোগ সড়ক ইত্যাদি নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ। ২৬১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই কাজ পেয়েছে তমা কনস্ট্রাকশনস। এ ছাড়া রেলপথের দর্শনা-ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ বাজার বিজি সেকশনের লুপ-লাইনের সম্প্রসারণ, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ কাজের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব ৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পের পাঁচটি সাব-প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন লটে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনার পাঁচটি আলাদা প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বৈঠকে। ২০ কোটি ৮৬ লাখ ও ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার দুটি কাজ পেয়েছে পলি কেব্লস ইন্ডাস্ট্রিজ, ১৮ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে এসকিউ ওয়্যার অ্যান্ড কেব্ল কোম্পানি, ১০১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে কনটেক কনস্ট্রাকশন এবং ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে টেকনোভেঞ্চার লিমিটেড। ক্রয় কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তিনটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment