Thursday, April 7, 2016

দিনে ৩ শতাংশের বেশি কল ড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ by আশরাফুল ইসলাম

মুঠোফোনে কথা বলার সময় কল ড্রপ হলে এর বিপরীতে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, সেটাকে নির্দিষ্ট গ্রাহককেন্দ্রিক করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ জন্য কল ড্রপ ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যবহারকারী দিনে মোট যত কল করবেন, তার ৩ শতাংশের বেশি কল ড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, কেউ যদি দিনে ১০০টি কল করেন আর তাঁর তিনটির বেশি কল ড্রপ হলে তিনি প্রতি কল ড্রপের জন্য এক মিনিট ক্ষতিপূরণ পাবেন। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় গ্রাহক কল ড্রপের শিকার হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় বিটিআরসিকে। সে অনুযায়ী গত ১৯ জানুয়ারি কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক মিনিট কল ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে কারিগরি নানা জটিলতা তুলে ধরে মুঠোফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বিটিআরসিকে চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, একটি কল সম্পন্ন করতে মোবাইল ফোন অপারেটর ছাড়াও আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটর, ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জসহ বেশ কয়েকটি পক্ষ জড়িত থাকে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। নতুন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, অপারেটররা আমাদের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, সেটিতে কল ড্রপের হার বিটিআরসির নির্ধারিত সীমা ৩ শতাংশের মধ্যেই আছে। তাই বর্তমান নীতিমালায় অপারেটরদের কল ড্রপে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। কিন্তু গ্রাহকেরা যে কল ড্রপের শিকার হচ্ছেন, এটিও একটি বাস্তবতা। তাই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নির্দিষ্ট গ্রাহককেন্দ্রিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির নির্ধারিত মান অনুযায়ী, মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর কল ড্রপের হার ৩ শতাংশের কম হলে তা হবে মানসম্পন্ন সেবা। আর আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কল ড্রপ ২ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ হার ২ শতাংশ। বিটিআরসিতে অপারেটরদের জমা দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির কল ড্রপের হার বিটিআরসির নির্ধারিত মানের মধ্যেই রয়েছে। মুঠোফোন অপারেটররা ২০১৪ সালে গ্রাহকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কল ড্রপ সুবিধা চালু করে। ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম কল ড্রপ সুবিধা দেওয়া শুরু করে বাংলালিংক। আর গ্রামীণফোন একই বছরের ১ অক্টোবর থেকে গ্রাহকদের এ সুবিধা দেওয়া শুরু করে। তবে গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এ সুবিধা বন্ধ করে দেয় অপারেটররা। ভারতে ২০১৫ সাল থেকে কল ড্রপে ক্ষতিপূরণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ তিনবার করে মোট তিন মিনিট ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে। ২০১৪ সালের পরীক্ষামূলক পদ্ধতিতে দেশের মোবাইল অপারেটররা এক দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ সেকেন্ড বা ৫ মিনিট ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। বিটিআরসির সচিব সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, কল ড্রপের ক্ষেত্রে গ্রাহকস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতেই বিটিআরসি কাজ করছে।

No comments:

Post a Comment