![]() |
| ট্রফি নিয়ে এমন উল্লাস করার সুযোগ এর আগে একবারই পেয়েছে এফসি রোস্তভ। এবার কি লিগ জয়ের উল্লাস? |
ইউরোপজুড়ে
এখন চলছে লেস্টার-প্রশস্তি। ভার্ডি-মাহরেজরা বনে গেছেন রূপকথার নায়ক,
তাঁদের ওপর বড় বড় ক্লাবের লোভাতুর দৃষ্টি। কিন্তু লেস্টার থেকে ৩ হাজার ২০০
কিলোমিটার দূরে রোস্তভে যে একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে, সেই খবর কজন
রাখেন! রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এফসি রোস্তভ গত এক বছরে যা করেছে, সেটা তো
আসলে লেস্টারের কীর্তিও ছাপিয়ে যায়। এ মুহূর্তে রাশিয়ান লিগে রোস্তভই সবার
ওপরে। অথচ এ ক্লাবটার নামই হয়তো আপনি শোনেননি। পয়েন্ট তালিকায় পরের তিনটি
নাম অবশ্য পরিচিতই লাগবে। দুই, তিন ও চারে আছে সিএসকেএ মস্কো, জেনিত সেন্ট
পিটার্সবার্গ ও লোকোমোটিভ মস্কো। অথচ রুশ ফুটবলের তিন পরাশক্তিকে পেছনে
ফেলে শীর্ষে কিনা অখ্যাত এই এফসি রোস্তভ! রাশিয়ান লিগে রোস্তভ কখনোই বড়
কোনো নাম ছিল না। ৮৬ বছরের পুরোনো ক্লাব, কিন্তু এত বছরে একমাত্র ঘরোয়া
শিরোপা এসেছে মাত্র দুই বছর আগে। ২০১৪ সালে রাশিয়ান কাপই তাদের দীনহীন
শোকেসের একমাত্র ট্রফি। আর লিগে তো কখনো শীর্ষ ছয়েই ঢুকতে পারেনি। সেই
দলটিই এখন শিরোপাস্বপ্নে বিভোর! মাত্র এক বছর আগেও ব্যাপারটা অবিশ্বাস্যই
ছিল। গত মৌসুমে রোস্তভ লিগ শেষ করেছে ১৪ নম্বরে, আরেকটু নিচে নেমে গেলেই
পড়তে হতো অবনমনের খাঁড়ায়। লেস্টারের সঙ্গে নিশ্চয় মিল খুঁজে পাচ্ছেন? তবে
রোস্তভের গল্পটা আরও রোমাঞ্চকর। আর্থিকভাবে যে ক্লাবটা প্রায় দেউলিয়া হতে
চলেছিল, যে দলের খেলোয়াড়েরা বিদ্রোহ করে বসেছিলেন মাস ছয়েক আগে,সেটিই চমকে
দিয়েছে ফুটবল-বিশ্বকে। রাশিয়ান ফুটবল লিগে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এফসি
রোস্তভ। এর আগে কি কখনো নাম শুনেছেন এই ক্লাবের? গত সেপ্টেম্বরেই জানা
গেল, বাজারে রোস্তভের দেনা প্রায় ৪০ লাখ ইউরো। ইউরোপের অনেক বড় ক্লাবের
কাছে অঙ্কটা এমন কিছু নয়। কিন্তু যে দলের খেলোয়াড়দের মোট আর্থিক মূল্যই ৪
কোটি ইউরো, তাদের জন্য অঙ্কটা অনেক বড়ই। রোস্তভ তাই ভালোই বিপদে পড়ে
গিয়েছিল। সেটি আরও বাড়ল, যখন গত বছর ক্লাবের খেলোয়াড়েরা ছোটখাটো একটা
বিদ্রোহই করে বসলেন। সবার বেতন তখন অনিয়মিত হয়ে গেছে, নতুন কোনো পৃষ্ঠপোষকও
নেই। রাশিয়ান কাপে তসনোর বিপক্ষে খেলতে তাই ক্লাবের যুব দলকে পাঠিয়ে দিলেন
কোচ কুরবান বারদিয়েভ। এর মধ্যে আরেক বিপদ, বেতন-ভাতা বকেয়া রাখার জন্য গত
ফেব্রুয়ারিতে রোস্তভের খেলোয়াড় কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। সেটা অবশ্য
মাস খানেকের বেশি থাকেনি। এরপর ভাগ্য একটু সদয় হলো, সৌভাগ্যক্রমে বড় একটা
পৃষ্ঠপোষকও পেয়ে গেল রোস্তভ। মাঠে অবশ্য এসব ঝড়ঝাপটার কোনো ছাপ নেই। সে
জন্য বারদিয়েভকেই একবাক্যে কৃতিত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড়েরা। রোস্তভের তারকাহীন
দলে বারদিয়েভের খ্যাতিই অন্যদের চেয়ে বেশি। রুবিন কাজানকে নিয়ে টানা দুবার
রাশিয়ান লিগ জিতেছিলেন, সেই স্মৃতিও বছর সাতেক আগের। রোস্তভে যে সেভাবে
কোনো তারকা নেই, সেটা একটা পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়। লিগে এত ভালো করার
পরও গত মাসে লিথুয়ানিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে রাশিয়ার প্রীতি ম্যাচের জন্য
রোস্তভের একজনও ডাক পাননি! রাশিয়ান লিগে দলগুলোর এখনো ছয় ম্যাচ করে বাকি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিএসকেএ মস্কোর চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্টেই এগিয়ে
রোস্তভ। রূপকথার গল্পটা শেষ পর্যন্ত শিরোপায় শেষ হবে কি না, সেই উত্তর
পেতে তাই একটু অপেক্ষা করতে হবে। তা না হলেই বা কী, এখন পর্যন্ত যা হয়েছে,
তাতেই কি এফসি রোস্তভের একটা ‘শিরোপা’ জেতা হয়ে যায়নি!

No comments:
Post a Comment