Saturday, April 23, 2016

শফিক রেহমান আবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে

গতকাল আদালতে নেওয়ার সময় শফিক রেহমান
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবি সূত্র বলেছে, গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক শফিক রেহমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হয়। গতকাল দুপুরে ডিবি পুলিশ তাঁকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পাঠায়। বেলা দুইটার দিকে একটি মাইক্রোবাসে শফিক রেহমানকে আদালতের হাজতখানার সামনে নেওয়া হয়। তবে তাঁকে মাইক্রোবাসেই বসিয়ে রাখা হয়। এর আগেই তাঁর স্ত্রী তালেয়া রেহমান আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। বেলা তিনটার দিকে শফিক রেহমানকে আদালতে নেওয়ার পর রিমান্ডের আবেদনের শুনানি শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে উল্লেখ করেন, শফিক রেহমান সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তিনি আংশিক তথ্য দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত একটি ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, এ মামলায় এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের যুক্তরাষ্ট্রের বাসায় তিনিসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা ও এফবিআইয়ের এজেন্ট রবার্টের সঙ্গে জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে তিনি (শফিক রেহমান) বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সঙ্গেও বৈঠক করেন। অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের কোন কোন নেতার সঙ্গে এই বৈঠক হয়েছে, তা জানা প্রয়োজন। এ জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। শুনানির সময় শফিক রেহমানের আইনজীবী মাসুদ আলম তালুকদার রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি একই সঙ্গে শফিক রেহমানের জামিনের আবেদন করে বলেন, শফিক রেহমান শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসা করানো দরকার। তাঁকে চিকিৎসা করিয়ে রিমান্ড শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করা হোক। শুনানিতে শফিক রেহমানের পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, আসাদুজ্জামান ও জয়নুল আবেদীন অংশ নেন। শফিক রেহমান এজলাসকক্ষে স্ত্রী তালেয়া রেহমানের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর ডিবি পুলিশ শফিক রেহমানকে মাইক্রোবাসে করে আবার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তালেয়া রেহমান এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশ গত বছরের আগস্টে রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। ১৬ এপ্রিল ডিবি নিউ ইস্কাটন গার্ডেনের বাসা থেকে শফিক রেহমানকে আটক করে। পরে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পল্টন থানার পুলিশ। সেদিনই তাঁকে ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment