![]() |
| বুধবার রাতে হোটেল কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া মিজানুর ও সুমাইয়া (ডেস্কের সামনে দাঁড়ানো) |
রাজশাহী
নগরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে তরুণ-তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে। তরুণের লাশ
ছিল হাত বাঁধা অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো এবং তরুণী বিছানার ওপর
বালিশচাপা দেওয়া অবস্থায়। এ ঘটনায় হোটেলের চার কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে হোটেলের কর্মচারীরা কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে
অনেক ডাকাডাকির পর পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে লাশ দুটি
উদ্ধার করে। সাহেববাজার এলাকার ‘নাইস ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলের নিবন্ধন
খাতায় তরুণের নাম লেখা রয়েছে মিজানুর (২৩)। বাবা উমেদ আলী। বাড়ি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পাঠানপাড়া দবিরগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা রাধানগর,
পাবনা। মেয়েটির নাম সুমাইয়া নাসরিন (২০) লেখা। তবে তাঁর ঠিকানা উল্লেখ করা
হয়নি। পেশা হিসেবে লেখা রয়েছে ‘জব’। গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই আবাসিক হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তাঁরা।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তরুণ-তরুণীর যে পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছে, তা থেকে
জানা গেছে, মিজানুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাসের
দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আর মেয়েটি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বাবার নাম আবদুল
করিম। বাড়ি বগুড়া সদরে। পুলিশ জানায়, তাঁর বাবা গাইবান্ধা গোয়েন্দা পুলিশের
একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। হোটেল ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য,
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বুধবার রাতে হোটেলকক্ষে ওঠার সময় ওই তরুণ-তরুণী প্রথম
দিন ভাড়া হিসেবে এক হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বৃহস্পতিবার রাত আটটায় তাঁরা
দ্বিতীয় দিনের ভাড়া দেন। গতকাল ভোরে হোটেল ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। দুপুর
১২টা পর্যন্ত হোটেল ছেড়ে যাওয়ার কোনো ঘটনা না দেখে তাঁদের টেলিফোন করা
হয়। কেউ তা ধরেননি। বারবার চেষ্টা করে সাড়া না পেয়ে দরজায় গিয়ে কড়া নাড়া
হয়। তাতেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বেলা দেড়টার দিকে বোয়ালিয়া থানার
উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিনকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার পর সাংবাদিকদের
সামনে দরজার তালা ভেঙে তাঁদের লাশ পাওয়া যায়। গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায়
তরুণের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো ছিল। দুই হাত আরেকটি ওড়না দিয়ে বাঁধা
ছিল। আর তরুণীর লাশ ছিল বিছানার ওপর শোয়ানো অবস্থায়। মুখে রক্ত। ছিল মুখ
বালিশচাপা দেওয়া। কক্ষের কিছু আসবাবও ভাঙা ছিল। বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটা
আত্মহত্যা নয়, খুনের ঘটনা। হোটেলের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায়
ধারণকৃত দৃশ্যে দেখা যায়, বুধবার রাতে প্রথমে ছেলেটি খুঁড়িয়ে হেঁটে হোটেলের
অভ্যর্থনাকক্ষে প্রবেশ করেন। যখন ডেস্কের কাছে দাঁড়ান, তখন মেয়েটিও এসে
পাশে দাঁড়ান। গতকাল বিকেল পর্যন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি),
র্যাব ও অন্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার লোকজন আলামত সংগ্রহের কাজ করছিলেন। তাঁরা
কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে ছেলেমেয়ের পরিবারকে ফোনে খবর
দেওয়া হয়েছে। পরে মিজানুরের মামা ইউনুস আলী ঘটনাস্থলে রওনা দেন। সন্ধ্যার
পর লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ইউনুস আলী প্রথম আলোকে বলেন, মিজানুরের বাবা একজন কৃষক। তাঁর দুই ছেলে ও
এক মেয়ের মধ্যে মিজানুর বড়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার টাকার জন্য মিজানুর বাবাকে
ফোন করেছিলেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলেছিলেন। সেই টাকা পাঠানো
যায়নি। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৩৬ মিনিটে এক বন্ধু বাসায় ফোন করে
জানান, মিজানুর ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘কারও সঙ্গে আর দেখা হবে না’।
এরপর থেকে মিজানুরের ফোনের সংযোগ বন্ধ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজন আটক:
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের চারজন কর্মীকে গতকাল বিকেলে আটক করেছে।
তাঁরা হলেন সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম (৩৫), হোটেলবয় নয়ন হোসেন (২৫), ফয়সাল
আহম্মেদ (২৬) ও বখতিয়ার হোসেন (৩০)।

No comments:
Post a Comment