![]() |
| নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির গ্রন্থাগার মিলনায়তনে গতকাল বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সময় দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন |
নোয়াখালীর
চাটখিল উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও
নেতা-কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির
যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁর দাবি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ
ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। এ অবস্থার জন্য ক্ষমতাসীন দলকে দায়ী করেছেন
তিনি। গতকাল শনিবার নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির গ্রন্থাগার মিলনায়তনে চাটখিল
উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ইউপি নির্বাচন
নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ২৩ এপ্রিল তৃতীয়
ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সন্ত্রাসমুক্ত না
হলে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময়
প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করলে
সরকারেরও পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন চাটখিল
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন। এ
সময় অন্যদের মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম, সদর উপজেলা
বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান, জেলা বারের সাবেক সভাপতি কামরুল ইসলামসহ
বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে বিএনপির
যুগ্ম মহাসচিব এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, চাটখিলের নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে
আটটিতে বিএনপির মনোনীত ও সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের
প্রচারণায় প্রতিদিনই বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন,
গত শুক্রবার বিকেলে তিনি মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে
গণসংযোগে গেলে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা তাঁর গণসংযোগস্থলে মাইকে গান বাজানো
শুরু করেন। এ অবস্থায় তিনি বাধ্য হয়ে গণসংযোগ না করে ওই ইউনিয়ন ত্যাগ করেন।
তবে বিএনপি নেতার এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন চাটখিল উপজেলা
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির। তিনি
প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন নিজেই নির্বাচনী আচরণবিধি
লঙ্ঘন করে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন
কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনী
অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের
কাছে বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থীরা ৩০টির বেশি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কিন্তু এসব অনিয়ম প্রতিকারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো পুলিশ
বিএনপির প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি
করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

No comments:
Post a Comment