Saturday, April 2, 2016

ইংল্যান্ডকেও সিমন্সের সতর্কবার্তা

পরশু সেমিফাইনাল জয়ের পর লেন্ডল
সিমন্সকে কোলে তুলে নিলেন কার্লোস ব্রাফেট
‘ভিনি, ভিদি, ভিসি!’ তিনি এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। একটু ক্লিশে শোনায়, তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লেন্ডল সিমন্স তো আসলে রূপকথাকেও হার মানিয়েছেন। মুম্বাই আসার জন্য কালকের বিমানের টিকিট কেটেছিলেন। তবে সেটি ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে খেলতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের ‘এসওএস কল’ পেয়ে একটু আগেভাগেই চলে আসতে হলো লেন্ডল সিমন্সকে। আগেভাগে! ড্যারেন স্যামি কথাটা শুনলে রাগ করতে পারেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হিসেবে সিমন্স তো একেবারে যথাসময়ে ভারতে উড়ে এসেছেন। এসে ক্যারিবিয়ানদের বিশ্বকাপ-স্বপ্নের সবটুকু জুড়েই বসে গেছেন। কত প্রতিবন্ধকতা ছিল, কত চ্যালেঞ্জ ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানযাত্রার ক্লান্তি, শারীরিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে খুব বেশি সময় পাননি। তার ওপর লক্ষ্যটাও কী কঠিন! ভারতের ১৯২ রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত আউট ক্যারিবীয়দের স্বপ্নসারথি যাঁকে ভাবা হচ্ছিল সেই ক্রিস গেইল। কিন্তু ৫১ বলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে পাহাড়ের মতো চাপটাকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন সিমন্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে। কীভাবে করলেন? ভ্রমণের ক্লান্তিটা বিমান আর হোটেলে ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন সিমন্স। তাই বলে অমন ইনিংস? সিমন্সের সহজ উত্তর, ‘যখন ব্যাট করতে গেলাম, পরিষ্কার ধারণা ছিল কী করতে হবে। ইনিংসের তখনো শুরু, আমাদের লক্ষ্য তাড়া করতে হতো। ম্যাচের আগে একটু নার্ভাস ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত রান তাড়া করে জিতেছি, এখন সবকিছুই ভালো লাগছে।’ অথচ বিশ্বকাপে সিমন্সের খেলা নিয়ে কত নাটকই না হয়েছে! প্রথমে ঘোষিত দলে ছিলেন, বাদ পড়ে যান পিঠের চোটে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পান এভিন লুইস। কিন্তু ক্রিকেট যে তাঁর জন্য দারুণ এক চিত্রনাট্যই সাজিয়ে রেখেছিল! সুপার টেনে আফগানিস্তানের কাছে হারা ম্যাচে আন্দ্রে ফ্লেচার চোটে পড়লেন, তত দিনে কিন্তু সেরে উঠেছেন সিমন্স। গল্পের রোমাঞ্চটা তাঁর কণ্ঠেই শুনুন, ‘আফগানিস্তান ম্যাচের পর একটা ফোন পেলাম, আমি ফিট আছি কি না! চাপের মধ্যেই এসেছিলাম। তবে লক্ষ্যটা পরিষ্কার ছিল। সেটা করতে চেয়েছি এবং পেরেছি।’ সিমন্স পেরেছেন বলেই আগামীকাল ইংল্যান্ডের সঙ্গে শিরোপাযুদ্ধে লড়বেন ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী স্যামিরা। এই ইংলিশদেরই সুপার টেনে গেইলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এবার শুধু গেইল নন, ইংলিশদের আরও বড় হুংকার দিয়ে রাখলেন সিমন্স, ‘আমার মনে হয় ইংল্যান্ড এই বিষয়ে হুঁশিয়ার থাকবে যে, এই দল একজনের ওপর নির্ভর করে না। (পরশু) ক্রিস গেইল শুরু করতে পারেনি, তবু আমরা অত বড় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি।’ ২০১২ সালে দলে থেকেও ফাইনালে খেলতে পারেননি। আর এবার দলের বাইরে থেকে এসেই নায়ক। সিমন্স-রূপকথার শেষটাও বীরোচিত হবে তো?

No comments:

Post a Comment