Saturday, April 2, 2016

শাবাশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

ওয়াসিম আকরাম
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ভালো লাগছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে কয়টি দলকে ফেবারিট ধরা হয়েছিল, তাদের মধ্যে তাদের নামও ছিল। কিন্তু দলটিকে খেলতে হলো পোলার্ড ও নারাইনের মতো খেলোয়াড়কে ছাড়াই। তবে তারা সুযোগ কাজে লাগিয়েই এ পর্যন্ত এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য বছরটাও যাচ্ছে দারুণ। তাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপ জিতেছে। বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ফাইনালে উঠে গেছে দেশটির পুরুষ ও নারী দুটি দলই। শাবাশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ! তবে পরশু ভারত ঠিক কোন কারণে হেরেছে কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি ঠিকঠাক বলতে পারব না। ভারতের হারের নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করাই যে মুশকিল। তবে এটা পরিষ্কার, শিশির ও টস হারটা শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে উঠেছে। স্পিনারদের জন্য বলটাকে ঠিকঠাক ধরাটা তো মুশকিল তো ছিলই পিচেও কিছু ছিল না। একই কারণে এমনকি ফাস্ট বোলাররাও কিছু করতে পারেনি। এরপর যখন রাসেল ও সিমন্স ছক্কা মারতে শুরু করল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে থামানো কঠিন হয়ে গেল। কেউই কিছু করতেও পারত না। ভারত যখন ১৯২ তুলে ফেলল, সবাই ভেবেছিল একপেশে এক ম্যাচ হবে এটা। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দেখিয়ে দিল কেন তারা অন্য রকম। প্রকৃতিগতভাবেই তারা আক্রমণাত্মক। তাদের মধ্যে এই বিশ্বাসটা সব সময়ই ছিল যে এই রান তাড়া করা সম্ভব, দেখি না চেষ্টা করে। চিন্তা করে দেখুন, সিমন্স কীভাবে দীর্ঘ এক বিমানভ্রমণ শেষেই অসাধারণ এক ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলল! ভারতের দুর্ভাগ্য দিনে তাদের কোনো চেষ্টাই কাজে লাগেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরা আইপিএলে ওয়াংখেড়ে মাঠে অনেক খেলেছে। এই মাঠ ও পিচের সঙ্গে তাদের ভালো জানাশোনা ছিল। আর এসব কিছুকেই তারা কাজে লাগিয়েছে। অনেকেই বলেছে ভারত ১০-১৫ রান কম করেছে। তবে আমি বলব এ রকম পিচ আর এত শিশিরে কারও কিছু করার ছিল না। বলটাকে হাতের মুঠোয় ধরাটা বড় এক বিষয় ছিল। কারণ, বল তো সাবানের মতো পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। ফাস্ট বোলাররা বড়জোর যা করতে পারত তা হলো কিছু স্লোয়ার দেওয়া। বুমরা ঠিক তাই করেছে। কিন্তু একটা সময় পরে স্লোয়ারগুলোও গ্যালারিতে আছড়ে পড়েছে। অবাক লাগে এই আধুনিক যুগে শিশির-সমস্যা দূর করতে কেউ কিছু করে না। শিশির দূর করার জন্য তারা কিন্তু স্প্রে ব্যবহার করতে পারে। আমরা পাকিস্তান সুপার লিগে যেটা করেছি। গ্রাউন্ডসম্যানরা মাঠে শিশির-প্রতিরোধী স্প্রে করত। এ কারণে শিশিরকণা ঘাসের গায়ে লেগে না থেকে মাটিতে পড়ে যেত। ১৯৯৭ সালের লাহোরের ইনডিপেনডেন্টস কাপের কথাও মনে পড়ল। ওই টুর্নামেন্টে প্রথমে ব্যাট করা দলগুলো হেরে যাচ্ছিল। আমাদের ২৮৬ রান দক্ষিণ আফ্রিকা সহজেই পেরিয়ে গিয়েছিল। আমি পুরোপুরি হতাশ ছিলাম, কারণ সিম কিংবা ক্রস সিম কোনোভাবেই বলটাকে ধরতে পারছিলাম না। শিশিরের কারণে পিচও সিমেন্টের পিচের মতো আচরণ করছিল। সবশেষে ভারতীয় বোলারদের নিয়ে কিছু বলি। ইমরান ও কপিলের মতো গ্রেটরা নেটেও কখনো নো-বল করতেন না। ম্যাচে ভালো করতে চাইলে আপনাকেও সে রকম প্রস্তুতি নিতে হবে। নেটের বাজে অভ্যাস স্বভাবতই ম্যাচে চলে আসে। আমাদের সময়ে নো-বল মানে ছিল একটি রান ও একটি অতিরিক্ত বল। কিন্তু এখন নো-বলে ফ্রি-হিট হয়। তাই এখন নো-বল করা মানে বড়সড় অপরাধ করা। পরশু ভারত তা–ই করেছে।

No comments:

Post a Comment