![]() |
| মতিঝিল এজিবি কলোনিতে সড়কের জায়গায় দোকান নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে আসবাব ও খাবারের হোটেলসহ ১৭টি দোকান চালু হয়ে গেছে। গতকাল দুপুরে তোলা ছবি |
রাজধানীর
মতিঝিল এজিবি কলোনিতে সড়ক দখল করে গড়ে তোলা বাজারের ১৭টি দোকান
ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পাঁচ দিন পর গতকাল
সোমবার দুপুরে কলোনি বাজার এলাকা ঘুরে এসব চালু দোকান দেখা যায়। এর আগে
গত শুক্রবার দোকানঘরের শাটার ও চালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ অবস্থায় ছিল।
এজিবি কলোনিতে দোকানঘর নির্মাণের ওপর ১৩ এপ্রিল নিষেধাজ্ঞা দেন
হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব দোকানঘর উচ্ছেদের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে
না, তাও জানতে চান আদালত। কিন্তু এরই মধ্যে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় প্রভাবশালী
ব্যক্তিরা এসব দোকানের কাজ শেষ করেন। গতকাল সেখানে দেখা যায়, বাজারের
পূর্ব প্রান্তে হাতের বাঁ দিকে পাশাপাশি ভাত-পরোটার তিনটি দোকান (৬০ থেকে
৬২ নম্বর) চালু হয়েছে। বিপরীত দিকে চালু দেখা যায় একটি পুরোনো কাগজ ও
ভাঙারির এবং দুটি ফার্নিচারের দোকান। উত্তর দিকে মাঝামাঝি অংশে আলাদা
মুরগির ১০টি দোকান চালু হয়েছে। এগুলোর মধ্যে চারটি ফার্মের মুরগির।
বিপরীত দিকে দেখা যায়, একটি বইয়ের দোকান। এ ছাড়া প্রস্তুতি চলছে মুদি বা
মনিহারি পাঁচটি দোকানের। শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছিল, পূর্ব
প্রান্তের উত্তর দিকে প্রথম পাঁচটি দোকানের শাটার দেওয়ার কাজ বাকি আছে।
কিন্তু গতকাল দেখা গেল, কাজ শেষ করে দোকান চালুও হয়ে গেছে। কলোনির চারজন
বাসিন্দা জানান, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর রাতেরবেলায়ও কাজ চলতে দেখেছেন
তাঁরা। যেসব দোকান চালু হয়েছে, সেগুলোতে মালিকদের পাওয়া যায়নি। পাঁচটি
দোকানে মালিকের নিজস্ব লোক পাওয়া যায়। তাঁরা বলেন, কাজে বাধা দেওয়া তো
দূরে থাক, সিটি করপোরেশন থেকে তাঁদের কাছে কোনো লোকও আসেননি। খাবার
হোটেলে দেখা যায়, ক্রেতাদের খাওয়াদাওয়াও চলছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই
নির্মাণশ্রমিক। দুজন নির্মাণশ্রমিক বললেন, কাগজে ছবিসহ বাজার নিয়ে খবর ছাপা
হওয়ার পর তাঁদের তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। গত ১৪ মার্চ মতিঝিল
এজিবি কলোনি বাজারের দোকানপাট উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
(ডিএসসিসি)। এর দুই দিনের মাথায় সেখানে এবার পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ
শুরু হয়। সেদিন ডিএসসিসির বোর্ডসভার অনুমোদনক্রমে সেখানে অসচ্ছল দুস্থ
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির নামে কাঁচাবাজার তৈরির কাজ শুরু হয় বলেও
নির্মাণকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে ডিএসসিসি বলে, হাইকোর্টের একটি
রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র নির্বাচনের (২৮ এপ্রিল, ২০১৫) আগেই ডিএসসিসি এ
ধরনের অনুমোদন দিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ১৩৪ জন অসচ্ছল দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা
ওই সমিতির সদস্য বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে তাঁদের কমসংখ্যকই সেখানে
দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন। এ ছাড়া ওই ১৩৪ জনের মধ্যে অনেকে প্রকৃত
মুক্তিযোদ্ধা নন—এমন কথাও বলেছেন ওই বাজারের পুরোনো দোকানিরা। পশ্চিম
রাজারবাগ মৌজার মানচিত্র থেকে জানা যায়, এজিবি কলোনি বাজার এলাকাটি জেএস
নম্বর ২, সিট নম্বর ৮, জেলা ঢাকায় অবস্থিত। মানচিত্র অনুযায়ী এজিবি কলোনির
সড়কটি (মিডওয়েল সার্কুলার রোড, কাঁচাবাজার) মৌজার ১২০১ ও ১২২৩ দাগে
পড়েছে। এর প্রশস্ততা ৭৮ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট। কিন্তু আঁকাবাঁকা সড়কে
বাস্তবে প্রশস্ততা দেখা যায় ৪০ ফুটের মতো। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও
এজিবি কলোনিতে দোকানঘর নির্মাণ হওয়ার বিষয়ে শুক্রবার ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ
খোকন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, আদালতের এ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কপি এখনো
তাঁর দপ্তরে পৌঁছায়নি। কপি পেলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি নির্মাণকাজ বন্ধ করার
কঠোর নির্দেশ দেবেন। গতকাল মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে
পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘স্যার
প্রয়োজনে টেলিফোন করে নিষেধাজ্ঞার কপি আনাবেন। সমস্যা নাই।’

No comments:
Post a Comment