Tuesday, April 19, 2016

এত সুন্দর টয়লেট আমার বাড়িতেও নেই: আনিসুল

রাজধানীতে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে দুটি গণশৌচাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে গণশৌচাগার দুটির উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। গণশৌচাগার দুটি রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তার টিঅ্যান্ডটি গেট এবং নাবিস্কোর বিপরীতে হাজি মরণ আলী সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে। মেয়র বলেন, ‘অঙ্গীকার অনুসারে ঢাকায় ১০০টি শৌচাগার করব বলে পরিকল্পনা করেছি। ৪টি নির্মাণ করা হয়েছে, বাকিগুলো নির্মাণাধীন।’ সবাইকে শৌচাগার সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘পাবলিক টয়লেট আপনাদের সম্পদ, এটাকে আপনাদেরই সুরক্ষা করতে হবে। এত সুন্দর টয়লেট আমার বাড়িতেও নেই।’ এ ধরনের শৌচাগার নির্মাণের জন্য জায়গা পাওয়া পাচ্ছে না মন্তব্য করে আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু জায়গা পাওয়া যায় না, এটা সবচেয়ে বেশি সমস্যা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৮৬টি পেট্রলপাম্পের মালিকদের ডেকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম পাম্পের জায়গায় এ ধরনের টয়লেট নির্মাণ করতে। দুঃখের বিষয়, তাঁরা সাড়া দেননি।’ মেয়র বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য ঢাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ৩০০-এর মতো ক্যামেরা বসানো হয়ে গেছে, দুই মাসের মধ্যে ৬০০ ক্যামেরা বসে যাবে।’ সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান প্রিসেল বলেন, ‘প্রয়োজনে আমিও এই টয়লেট ব্যবহার করব।’ ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক প্রধান তেরেস লোহান বলেন, ‘এই শৌচাগার নির্মাণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুটি অধিকার নিশ্চিত হলো—সুষ্ঠু পয়োনিষ্কাশন এবং নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিউল্লাহ শফির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মেজবাউল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিন এ খান, সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাজমুনাহার হেলেন প্রমুখ। শৌচাগারের সুবিধা: এসব শৌচাগারে নারীবান্ধব পরিবেশ ও নারী কেয়ারটেকার থাকবেন। এ ছাড়া এগুলো প্রতিবন্ধীবান্ধব। এতে নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা দ্বারা সুরক্ষা, পেশাদার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মূল্যবান জিনিস রাখার জন্য কেবিনেট এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে।

No comments:

Post a Comment