Sunday, April 17, 2016

কলকাতায় নানা আয়োজনে বর্ষবরণ

বর্ষব​রণের আয়োজনে নৃত্য পরিবেশনা
কলকাতাসহ পুরো পশ্চিমবঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩। বাংলাদেশে নতুন দিনপঞ্জি চালু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে পৃথক দিনে নববর্ষ পালন করা হলেও এবার লিপ ইয়ারের কারণে একই দিনে বাংলা নববর্ষ বরণ করে নেওয়া হলো। আজ সকালে প্রভাতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষকে স্বাগত জানানোর সূচনা হয় কলকাতায়। বিকেলে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন চত্বরে আয়োজন করা হয় নববর্ষ উৎসবের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার জকি আহাদ। অনুষ্ঠানে কলকাতার বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের জন্য উপহাইকমিশন বাংলাদেশের নানা খাবার দিয়ে আপ্যায়িত করান কলকাতাবাসীকে। সেই পিঠাপুলি, মুড়িমুড়কি থেকে শুরু করে নানা ধরনের বাংলাদেশের মিষ্টি। এ ছাড়া উপহাইকমিশন চত্বরে আয়োজন করা হয় নাগরদোলার। সেই ব্রিটিশ আমলের বায়োস্কোপও দেখানো হয় এখানে। বহু মানুষ সেই বায়োস্কোপে ছবি দেখেন। দিনব্যাপী চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে ছিল পুতুল নাচ, নৃত্য, সংগীতানুষ্ঠান ও আবৃত্তি। এদিকে কলকাতাসহ পুরো পশ্চিমবঙ্গে আজ ঘটা করে উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩। রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নববর্ষ পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রভাত ফেরি, বর্ণাঢ্য মিছিল, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মিষ্টি মুখ।  সকালে কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টস চত্বরে শুরু হয় বৈশাখী উৎসব। নবজাগরণ ও ভাষা ও চেতনা সমিতি যৌথভাবে আয়োজন করে এই উৎসবের। এখান থেকে বের হয় বৈশাখী যাত্রা। এদিন সকালে কলকাতার আর্ট কলেজ চত্বর থেকে নববর্ষ উপলক্ষে বের হয় বর্ণাঢ্য মিছিল। এদিকে এবারেরও বৈশাখী উৎসবে একাডেমি চত্বরে মিলেছে পান্তা ভাত, শুঁটকি মাছ, আলু পোস্ত ইত্যাদি। সেই সঙ্গে ছিল আম পোড়া ও তেঁতুলের শরবত। এবারে নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিটি অনুষ্ঠানেই বলা হয়েছে বাঙালি জীবনের সেরা উৎসব এই পয়লা বৈশাখ। তাই এই বৈশাখের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই ডাক দেওয়া হয় হিংসামুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ বাংলা গড়ার। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কলকাতার সমস্ত বাংলা সংবাদপত্র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করার পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানের।

No comments:

Post a Comment