Sunday, April 17, 2016

মমতাকে কারণ দর্শাতে বলল ইসি by রজত রায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আগামী ১৭ তারিখ বীরভূমের ১১ বিধানসভা আসনে এবং উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার ৪৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কিন্তু তার আগেই পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের দায়ে কারণ দর্শাতে বলল নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিল, বীরভূমের দাপুটে তূণমূল কংগ্রেস নেতা অুনুব্রত মণ্ডলকে বিরোধীদের ও ভোটদাতাদের ওপর সন্ত্রাস শুরু করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো রাজ্যে ভোটপর্ব চলাকালে সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচনবিধি ভঙ্গের কারণে কৈফিয়ত দাবি করার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে সম্ভবত এটাই প্রথম। মমতার বিরুদ্ধে কমিশনের ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ, তিনি ভোটের প্রচারে আসানসোলে গিয়ে সেখানকার মানুষকে আশ্বাস দেন যে রাজ্য সরকার শিগগির আসানসোলকে আলাদা জেলা করা হবে। আসানসোল এখন বর্ধমান জেলার অন্তর্গত। কিন্তু ভোটের প্রচারে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি যে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অপরাধ, সে জন্যই নির্বাচন কমিশন তাঁকে কারণ দর্শানোর ​নোটিশ দিয়ে দ্রুত উত্তর দিতে বলেছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসিম জৈদি। মমতা অবশ্য তার পরেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর জেহাদ চালিয়ে গেছেন। মমতার প্রতিক্রিয়া, “নির্বাচন কমিশন আমাকে বাংলা নববর্ষের দিন শো কজ করেছে। বাংলার মানুষ কমিশনকে শো কজ করবে ১৯ মে।” উল্লেখ্য, ১৯ মে ভোটের ফল ঘোষণা হবে। একই সঙ্গে রাজীব কুমারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ও অনুব্রতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলার জন্য কমিশনের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করে মমতা বলেন, বিরোধী দলগুলি এখন প্রতিদিন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, আর কমিশন তাতেই সায় দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, “আমার পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দিয়েছে। অনেক থানার ওসিকে সরিয়েছে। এ সবই হচ্ছে বিরোধীদের চাপে।” বীরভূমের ওপর নির্বাচন কমিশনের নজর এখন বেশি। অথচ তারমধ্যেই এদিন ময়ুরেশ্বরে বিজেপির ১০ সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। সেখানকার বিজেপি প্রার্থী টালিগঞ্জের নায়িকা লকেট চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমি আগেই কমিশনকে বলেছি। আবারও চিঠি পাঠিয়েছি। বীরভূমে সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে এটা জরুরি।’ রাজ্যে প্রথম দুই দিনের ভোটগ্রহণের অভিজ্ঞতায় সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের এবং রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তাঁদের ক্ষোভের কারণ, এদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে শাসক দল ভোটের সময় সন্ত্রাস করে বুথ দখল করছে। সেই ক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যই গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসেছেন। এ দিন তাঁরা কলকাতায় আসার পরেই বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদল ছাড়াও রাজ্যের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গিয়ে তাঁদের কাছে কমিশনের কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাগরিক সমাজের পক্ষে কবি শঙ্খ ঘোষ, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য পবিত্র সরকার, শিল্পী সমীর আইচ, নাট্যশিল্পী কৌশিক সেন প্রমুখ নির্বাচন কমিশনারদের কাছে গিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা সুনীল গুপ্তকে অবিলম্বে সরানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা অনুব্রত মণ্ডলের মতো সন্ত্রাসকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেন। একই অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলো। সুনীল গুপ্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কারণ, তাঁকে বারবার বলা সত্ত্বেও শাসক দলের ভোট লুঠ ঠেকাতে তিনি কোনো ব্যবস্থাই নেননি। তিন নির্বাচন কমিশনার এ দিন দফায় দফায় নির্বাচন অফিসারদের সঙ্গে, জেলার প্রশাসন ও পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করে গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।

No comments:

Post a Comment