Saturday, April 2, 2016

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু কালঃ দুই বছরে ঝরে পড়লো ২ লাখ ৪১ হাজার শিক্ষার্থী

রোববার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়লো দুই লাখ ৪০ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালের একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে না। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নেয়াকে ঝরে পড়া হিসেবেই দেখছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য দুই বছর আগে একাদশ শ্রেণীতে নিবন্ধন করেছিল ১২ লাখ ২ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে ২০১৬ এর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছে ৯ লাখ ৬১ হাজার ৭০২ জন। অর্থাৎ দুই বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এছাড়া ফরম পূরণ করলেও অসংখ্য পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় না। পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার সংখ্যা প্রতি বছরই বেড়ে চলছে। গত বছর প্রায় সমান সংখ্যাক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। শিক্ষাবিদদের মতে, স্কুলগুলোর শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করানোর প্রতিযোগিতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফল না করলে ফরমপূরণের সুযোগ দেয় না। যে কারণে এ সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া দারিদ্র্যতা, ছাত্রীদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটছে। বিষয়টির সঙ্গে একমত প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বাস্তবতা অস্বীকার করা সুযোগ নেই। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি ড্রপ আউট কমিয়ে আনার জন্য। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে সেটি সম্ভব হয় না। তিনি জানান, এসএসসি পর্যায়ে কাছে কোন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা দেয়া যায়। কিন্তু এইচএসসি পর্যায়ে অনেক সময় কাছে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকে না। এক্ষেত্রে মেয়েদের ক্ষেত্রে যাতায়াত সমস্যা হয়। বিয়ে হয়ে যায়। দারিদ্র পরিবার তার সন্তানকে কাজে দিয়ে দেয়, টেস্ট পরীক্ষায় পাস না করাসহ কয়েকটি কারণে এই ড্রপ আউট হচ্ছে। তারপরও অনেকই পরবর্তীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পড়াশুনা করে, পরবর্তীতে ইয়ার লস দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাই সবটুকু ড্রপ আউট বলা যাবে না। তিনি বলেন, ২০০৭-০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৩ শতাংশ। এবার সেটি ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই ড্রপ আউট কমানো যাচ্ছে না। শুধু টেস্ট পরীক্ষায় খারাপ করার কথা যদি বলা হয় তাহলে বলতে হবে এটি শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা। এর সঙ্গে সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক, কোচিং বাণিজ্যের ভীতি ও আর্থিক দুরবস্থার কারণেও এটি হচ্ছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, এইচএসসি পর্যায়ে ঝরেপড়া মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি থাকে। কারণ এই সময়ে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। এটি একটি অন্যতম কারণ।

No comments:

Post a Comment