Tuesday, April 19, 2016

২৭টিতে শুধু আ.লীগ

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল সোমবার। রাত নয়টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাতটি জেলার ২৭টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে শুধু আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন। ফলে তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। এই ২৭টির মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজানের ১১টি ইউপি রয়েছে। রাউজানের মোট ১৪টি ইউপির সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্যের ১৬৮টি পদের মধ্যে ১১৩টি পদে প্রার্থী মাত্র একজন করে। চতুর্থ ধাপে আগামী ৭ মে ভোট গ্রহণের কথা। ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: চট্টগ্রাম: জেলার রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউপির ১১টিতে চেয়ারম্যান পদে কেবল আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন। এসব ইউপিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে আওয়ামী লীগসমর্থিত ১১৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য পদে ৮৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৩০ জন। সব মিলিয়ে এ উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়ার হার মোট পদের ৬৮ শতাংশ। শেষ দিনে আর কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে ১৪ ইউপির চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের মোট ১৮২টি পদের মধ্যে ১২৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। ৭ মে রাউজানে তিনটি চেয়ারম্যান পদে এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্যের ৫৫টি পদে ভোট গ্রহণ করা হবে। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের মতো সদস্য পদে বিএনপি এবং ভিন্নমতাদর্শী প্রার্থীদের জোরপূর্বক বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিএনপির প্রার্থীদের ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘তাঁরা স্বেচ্ছায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি।’ গহিরা ও নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বেশির ভাগই সরাসরি এসে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিনিধির মাধ্যমে করেছেন। বাগোয়ান ইউপিতে চেয়ারম্যান, নয় সাধারণ সদস্য ও তিন সংরক্ষিত সদস্য পদের মধ্যে মাত্র একটি সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন হবে। এটা অস্বাভাবিক কি না, জানতে চাইলে পশ্চিম গুজরা ও বাগোয়ান ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার সামনে এসে সুন্দরভাবে স্বাক্ষর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে এই প্রত্যাহার চলছে। আমি তাঁদের কাছ থেকে টিপ সইও নিয়ে রেখেছি। কারণ সই না মিলতে পারে।’ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থীদের যেখানে হুমকির মধ্যে রেখেছে সেখানে সদস্যদের প্রশ্নই আসে না। ফরম জমা দিয়ে সবাই চাপের মুখে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’ প্রত্যাহার করা বিএনপিসমর্থিত সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। উরকিরচর ইউনিয়নের বিএনপিসমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের নয়টি সাধারণ সদস্য ও একটি নারী সদস্য পদে মনোনায়ন জমা দিয়েছিলেন আমাদের দলের লোকজন। কিন্তু পরে তাঁরা প্রত্যাহার করে ফেলেন। এর বেশি কিছু বলব না।’ যেসব ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী এখনো রয়েছেন, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের অনুসারী বলে জানা গেছে।
লক্ষ্মীপুর: জেলাররায়পুর উপজেলার চারটি ইউপি থেকে বিএনপির চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে চাপ দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে এসব ইউপিতে কেবল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রইলেন। গতকালের আগেও বিএনপির চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এ অবস্থায় রায়পুরের ১০টি ইউপির মধ্যে আটটিতে কেবল আওয়ামী লীগের প্রার্থী রইলেন। গতকাল চেয়ারম্যান পদে কেরোয়ার বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম সরকার, চরপাতার হেজবুল্লা গুনু, বামনীর মো. সালেহ উদ্দিন ও দক্ষিণ চর আবাবিলের মো. আলমগীর হোসেন মাঝি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। বামনীর বিএনপির প্রার্থী সালেহ উদ্দিন ও কেরোয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দুপুরে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করেন। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ‘মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে কাউকে চাপ দেওয়া হয়নি। ভোট করবেন না বিধায় প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।’
নড়াইল: জেলার কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদের দুজন, সদর উপজেলার বিছালীতে বিএনপির প্রার্থী গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এ দুই ইউপিতে কেবল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রইলেন।
জয়পুরহাট: জেলারআক্কেলপুরের রুকিন্দীপুর ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় কেবল আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহসান কবির রইলেন। এর আগে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন।
ফেনী: সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নয়টি ইউপির মধ্যে দুটিতে চেয়ারম্যান পদে কেবল আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া নয়টি ইউপির সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেন। ছনুয়া ইউপির নির্বাচনে চেয়ারম্যান, তিনটি সংরক্ষিত নারী সদস্য ও আটটি সাধারণ সদস্য পদের সবগুলোতে একক প্রার্থী থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ইউনিয়নে শুধু ৪ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
কুমিল্লা: জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মোশারেফ হোসেন ও শ্রীপুরে শাহজালাল মজুমদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ওই দুই ইউপিতে ত্রুটির কারণে বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
শেরপুর: সদর উপজেলার কামারিয়া ইউপির চেয়ারম্যান পদে একমাত্র প্রার্থী রইলেন আওয়ামী লীগের মো. আবদুল বারী। তিনি সংসদে সরকারদলীয় হুইপ মো. আতিউর রহমানের ছোট ভাই। এ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী সুলতান আহম্মেদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ও অন্য চার প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
প্রথম ধাপ
ভোট গ্রহণ           :  ২২ মার্চ ২০১৬
ইউনিয়ন পরিষদ      :  ৭১২
মনোনয়ন             :  আ.লীগ ৭১১
                      বিএনপি ৫
জয়                  :  আ.লীগ ৫৪০

                         বিএনপি ৪৭
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী   :  ৫৪ আ.লীগ মনোনীত
দ্বিতীয় ধাপ
৩১ মার্চ ২০১৬
৬৩৯
আ.লীগ ৬৩৯
বিএনপি ৫৬০
আ.লীগ ৪৪৪
বিএনপি ৬১
৩৩ আ.লীগ মনোনীত
দুই দফা নির্বাচনে সহিংসতায় সারা দেশে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটেছে ৪১ জনের

No comments:

Post a Comment