![]() |
| মো. সিদ্দিকুর রহমান |
রানা
প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল রোববার। তবে ক্ষতিপূরণ নিয়ে এখনো
অসন্তোষ প্রকাশ করেন শ্রমিকনেতারা। ভবনধসের ঘটনায় বিচারকাজ শেষ হয়নি।
অন্যদিকে কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তার উন্নয়নে কাজ চলছে
ধীরগতিতে। এসব বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে গত বুধবার নিজ কার্যালয়ে কথা
বলেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর
রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শুভংকর কর্মকার প্রথম আলো: কর্মপরিবেশ
উন্নয়নে কারখানার সংস্কার কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। মালিকেরা কেন কাজগুলো
দ্রুত করছেন না?
সিদ্দিকুর রহমান: কারখানা ভবনের ত্রুটি সংশোধনের কাজ মালিকেরা ডেডিকেটেড ও অনেস্টলি করে যাচ্ছেন। তবে একটু দেরি হয়েছে বলে আমি মনে করি। কারণ, সংস্কারকাজের একটি ডিজাইন (সংশোধন কর্মপরিকল্পনা বা ক্যাপ) করে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কাছে জমা দিতে হয়। সেটি অনুমোদন করতে তারা সময় নিয়েছে। এ ছাড়া আমরা যে ডিজাইন করাব, সেই প্রকৌশলীদেরও স্বল্পতা ছিল। আবার আমাদের যখন ফায়ার ডোর বা অগ্নিনিরোধক দরজা লাগাতে বলল, আমরা কিন্তু চীন থেকে এনে কারখানায় লাগিয়ে ফেলি। তখন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স আবার বলল, ইউএল সার্টিফায়েড ফায়ার ডোর লাগতে হবে। ওই সময় অনেককেই পুরোনোগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে ফায়ার ডোর আমদানি করতে হয়েছিল। এসবের জন্য কিছুটা দেরি হয়েছে। তা ছাড়া সংস্কারকাজের সঙ্গে টাকার প্রশ্নও আছে। তবে আমাদের আশাবাদ, চলতি বছরের মধ্যে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সদস্য কারখানাগুলোর সংস্কারকাজ শেষ হয়ে যাবে। কারও কারও একটু দেরি হতে পারে। তবে আমরা সঠিক পথেই আছি।
প্রথম আলো: সংস্কার নিয়ে এরপরের চ্যালেঞ্জটা কী?
সিদ্দিকুর রহমান: আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ ছোট ও মাঝারি পোশাক কারখানা। এসব কারখানার অনেকগুলোরই বড় সংস্কার দরকার। অনেক কারখানাকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। তবে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে না পারলে এসব কারখানাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সে জন্যই এসব কারখানাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, বড় কারখানাগুলো কোনো না কোনোভাবে টিকে যাবে। বিদেশি অনেক সংস্থা স্বল্প সুদে ঋণ দিতে চায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক ঘুরে সেই ঋণের সুদের হার ৯-১০ শতাংশ হয়ে যায়। সমস্যাটি সমাধানে বাণিজ্যসচিবকে বলা হলে তিনি সব পক্ষকে নিয়ে একটি কমিটি করেন। সেই কমিটি একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। বাণিজ্যসচিব সেটি অর্থসচিবের কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, সুদের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকবে। প্রথম আলো: ভবনধসের পর শ্রমিকদের বেতন দেওয়া, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কিছু কাজ করছে বিজিএমইএ। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল সংগঠনটির। বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি হিসেবে আপনার কী মত?
সিদ্দিকুর রহমান: অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজিএমইএ পুরোপুরি তার দায়িত্ব পালন করেছে। ধসের তিন দিনের মাথায় শ্রমিকদের বেতন দিয়েছে। রাতের বেলায়ও বেতন দেওয়া হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে বিজিএমইএর যা যা করার ছিল, তার সবই করেছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও তাঁর কমিটির পরিচালনা পর্ষদ। সে জন্য তাঁরা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। প্রথম আলো: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নেতৃত্বাধীন রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটি আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিক-পরিবারের সদস্যদের অর্থসহায়তা দিয়েছে। এটিকে দেশের আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার দাবি করছেন শ্রমিকনেতারা। কারণ, বর্তমানে শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক একেবারেই কম। এ বিষয়ে বিজিএমইএর অবস্থান কী?
সিদ্দিকুর রহমান: বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশ। ৫০ বছর পর দেশ যে অবস্থায় যাবে কিংবা যখন আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যাব, তখন আপনি এসব চিন্তাভাবনা করতে পারেন। আজকে আমাদের যে আর্থসামাজিক অবস্থা, সেটি বিবেচনায় না নিয়ে আপনি এমন একটি আইন করলেন, যাতে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেল। তাতে কি শ্রমিক ভাইবোনের কিংবা দেশের কোনো উপকারে আসবে? নিশ্চয়ই না। আইন এমন হওয়া উচিত না, যেটি দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই।
প্রথম আলো: তার মানে শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের হারটিই ঠিক বলে মনে করছেন আপনারা?
সিদ্দিকুর রহমান: শ্রম আইন সংশোধনের পর তিন বছর পার হয়েছে। এরই মধ্যে তো দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যায়নি। গত বছর শ্রমবিধি হয়েছে। ফলে আমি মনে করি, এটা কীভাবে চলে, আগে আমরা দেখি। শ্রমিকেরা আমাদের মূল চাবিকাঠি। তাঁদের যদি আমরা কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তাহলে আমাদের জন্যই ভালো। কারণ, আমাদের শ্রমিকেরা ভালো থাকলেই উৎপাদন বেশি হবে। কর্মপরিবেশ ভালো থাকবে। প্রথম আলো: ভবনধসের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিচারের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী? ওই ভবনের পাঁচ পোশাক কারখানার মালিক কি দায়ী নন?
সিদ্দিকুর রহমান: রানা প্লাজা ভবন যিনি করেছেন, তাঁর আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল। উনি যে ভবন করেছেন, সেখানে কখনোই কোনো কারখানাকে ভাড়া দেওয়া ঠিক হয়নি। এমনকি যাঁরা কারখানা করেছেন, সেটিও ঠিক হয়নি। তবে কারখানার মালিকেরা আগে ভবনের কাঠামো কেমন, ঠিক আছে কি না—সেসব পরীক্ষা করতেন না। এখন অবশ্য করেন। যা-ই হোক, এ রকম একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত। সে যে-ই হোক না কেন। প্রথম আলো: ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে মালিকেরা শ্রমিকদের বাধা দিচ্ছেন। হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। ঢাকায় আসা (গত সপ্তাহে) আইএলওর প্রতিনিধিদের কাছে এসব অভিযোগ করেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। আপনার বক্তব্য কী?
সিদ্দিকুর রহমান: মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে। আগে শ্রম আইনে ছিল, ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য কেউ আবেদন জমা দিলে সেই তালিকা মালিকের কাছে পাঠানো হতো। শ্রমিকেরা ওই কারখানায় কাজ করেন কি না, সেটি দেখার জন্য। এখন কিন্তু সেটি করতে হয় না। শ্রম অধিদপ্তর নিজেরাই যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়ন দিয়ে দেয়। এখানে মালিকদের জানানোর তো প্রশ্নই নেই। তা ছাড়া শ্রমিকদের দাবিদাওয়া আদায়ে দর-কষাকষির জন্যই ট্রেড ইউনিয়ন হয়। কিন্তু বর্তমানে যে বেতন-ভাতা পান, তাতে ৯০ শতাংশ শ্রমিক মোটামুটি সন্তুষ্ট।
প্রথম আলো: তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে এত অভিযোগ আসছে কেন?
সিদ্দিকুর রহমান: যাঁরা করতে পারবেন না, তাঁরাই অভিযোগ করেন। শ্রমিকেরা চান সকালে কারখানায় আসবেন, বিকেলে বাসায় যাবেন, আরামে থাকবেন। মাসের শেষে যদি পাওনাদি ঠিকমতো বুঝে পান, তাহলেই তাঁরা সন্তুষ্ট। এখন বিভিন্ন সময় প্রশ্ন আসছে, কেন ট্রেড ইউনিয়ন হচ্ছে না? সরকার সে জন্যই আইনে শ্রমিকদের অংশগ্রহণমূলক কমিটি করা বাধ্যতামূলক করেছে। কমিটি দর-কষাকষির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবে। এখন আমরা সেই রাস্তাতেই এগোচ্ছি। এটি করতে গিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন কী, তা শিখছেন অনেক শ্রমিক। আমার কথা হলো, ভেতরের শ্রমিকেরা যদি ট্রেড ইউনিয়ন করতে চান, তবে সমস্যা নয়। বহিরাগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত না হয়ে তাঁরা ইউনিয়ন করবেন।
প্রথম আলো: রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে রোববার। দিনটিকে ঘিরে বিজিএমইএর কোনো কর্মসূচি আছে কি না?
সিদ্দিকুর রহমান: কোনো কর্মসূচি এখনো ঠিক হয়নি। তবে আমরা মনে করছি, পরপর দুই বছর পালন করেছি। তিন বছর হয়ে গেছে। আমরা সব সময় তাঁদের জন্য দোয়া করি। তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তবে আমরা আর কর্মসূচির মধ্যে না যাই। না হলে এর শেষ আর হবে না। তাঁদের জন্য আমরা মসজিদে দোয়া করব।
সিদ্দিকুর রহমান: কারখানা ভবনের ত্রুটি সংশোধনের কাজ মালিকেরা ডেডিকেটেড ও অনেস্টলি করে যাচ্ছেন। তবে একটু দেরি হয়েছে বলে আমি মনে করি। কারণ, সংস্কারকাজের একটি ডিজাইন (সংশোধন কর্মপরিকল্পনা বা ক্যাপ) করে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কাছে জমা দিতে হয়। সেটি অনুমোদন করতে তারা সময় নিয়েছে। এ ছাড়া আমরা যে ডিজাইন করাব, সেই প্রকৌশলীদেরও স্বল্পতা ছিল। আবার আমাদের যখন ফায়ার ডোর বা অগ্নিনিরোধক দরজা লাগাতে বলল, আমরা কিন্তু চীন থেকে এনে কারখানায় লাগিয়ে ফেলি। তখন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স আবার বলল, ইউএল সার্টিফায়েড ফায়ার ডোর লাগতে হবে। ওই সময় অনেককেই পুরোনোগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে ফায়ার ডোর আমদানি করতে হয়েছিল। এসবের জন্য কিছুটা দেরি হয়েছে। তা ছাড়া সংস্কারকাজের সঙ্গে টাকার প্রশ্নও আছে। তবে আমাদের আশাবাদ, চলতি বছরের মধ্যে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সদস্য কারখানাগুলোর সংস্কারকাজ শেষ হয়ে যাবে। কারও কারও একটু দেরি হতে পারে। তবে আমরা সঠিক পথেই আছি।
প্রথম আলো: সংস্কার নিয়ে এরপরের চ্যালেঞ্জটা কী?
সিদ্দিকুর রহমান: আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ ছোট ও মাঝারি পোশাক কারখানা। এসব কারখানার অনেকগুলোরই বড় সংস্কার দরকার। অনেক কারখানাকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। তবে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে না পারলে এসব কারখানাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সে জন্যই এসব কারখানাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, বড় কারখানাগুলো কোনো না কোনোভাবে টিকে যাবে। বিদেশি অনেক সংস্থা স্বল্প সুদে ঋণ দিতে চায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক ঘুরে সেই ঋণের সুদের হার ৯-১০ শতাংশ হয়ে যায়। সমস্যাটি সমাধানে বাণিজ্যসচিবকে বলা হলে তিনি সব পক্ষকে নিয়ে একটি কমিটি করেন। সেই কমিটি একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। বাণিজ্যসচিব সেটি অর্থসচিবের কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, সুদের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকবে। প্রথম আলো: ভবনধসের পর শ্রমিকদের বেতন দেওয়া, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কিছু কাজ করছে বিজিএমইএ। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল সংগঠনটির। বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি হিসেবে আপনার কী মত?
সিদ্দিকুর রহমান: অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজিএমইএ পুরোপুরি তার দায়িত্ব পালন করেছে। ধসের তিন দিনের মাথায় শ্রমিকদের বেতন দিয়েছে। রাতের বেলায়ও বেতন দেওয়া হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে বিজিএমইএর যা যা করার ছিল, তার সবই করেছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও তাঁর কমিটির পরিচালনা পর্ষদ। সে জন্য তাঁরা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। প্রথম আলো: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নেতৃত্বাধীন রানা প্লাজা সমন্বয় কমিটি আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিক-পরিবারের সদস্যদের অর্থসহায়তা দিয়েছে। এটিকে দেশের আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার দাবি করছেন শ্রমিকনেতারা। কারণ, বর্তমানে শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক একেবারেই কম। এ বিষয়ে বিজিএমইএর অবস্থান কী?
সিদ্দিকুর রহমান: বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশ। ৫০ বছর পর দেশ যে অবস্থায় যাবে কিংবা যখন আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যাব, তখন আপনি এসব চিন্তাভাবনা করতে পারেন। আজকে আমাদের যে আর্থসামাজিক অবস্থা, সেটি বিবেচনায় না নিয়ে আপনি এমন একটি আইন করলেন, যাতে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেল। তাতে কি শ্রমিক ভাইবোনের কিংবা দেশের কোনো উপকারে আসবে? নিশ্চয়ই না। আইন এমন হওয়া উচিত না, যেটি দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই।
প্রথম আলো: তার মানে শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের হারটিই ঠিক বলে মনে করছেন আপনারা?
সিদ্দিকুর রহমান: শ্রম আইন সংশোধনের পর তিন বছর পার হয়েছে। এরই মধ্যে তো দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যায়নি। গত বছর শ্রমবিধি হয়েছে। ফলে আমি মনে করি, এটা কীভাবে চলে, আগে আমরা দেখি। শ্রমিকেরা আমাদের মূল চাবিকাঠি। তাঁদের যদি আমরা কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তাহলে আমাদের জন্যই ভালো। কারণ, আমাদের শ্রমিকেরা ভালো থাকলেই উৎপাদন বেশি হবে। কর্মপরিবেশ ভালো থাকবে। প্রথম আলো: ভবনধসের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিচারের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী? ওই ভবনের পাঁচ পোশাক কারখানার মালিক কি দায়ী নন?
সিদ্দিকুর রহমান: রানা প্লাজা ভবন যিনি করেছেন, তাঁর আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল। উনি যে ভবন করেছেন, সেখানে কখনোই কোনো কারখানাকে ভাড়া দেওয়া ঠিক হয়নি। এমনকি যাঁরা কারখানা করেছেন, সেটিও ঠিক হয়নি। তবে কারখানার মালিকেরা আগে ভবনের কাঠামো কেমন, ঠিক আছে কি না—সেসব পরীক্ষা করতেন না। এখন অবশ্য করেন। যা-ই হোক, এ রকম একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত। সে যে-ই হোক না কেন। প্রথম আলো: ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে মালিকেরা শ্রমিকদের বাধা দিচ্ছেন। হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। ঢাকায় আসা (গত সপ্তাহে) আইএলওর প্রতিনিধিদের কাছে এসব অভিযোগ করেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। আপনার বক্তব্য কী?
সিদ্দিকুর রহমান: মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে। আগে শ্রম আইনে ছিল, ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য কেউ আবেদন জমা দিলে সেই তালিকা মালিকের কাছে পাঠানো হতো। শ্রমিকেরা ওই কারখানায় কাজ করেন কি না, সেটি দেখার জন্য। এখন কিন্তু সেটি করতে হয় না। শ্রম অধিদপ্তর নিজেরাই যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়ন দিয়ে দেয়। এখানে মালিকদের জানানোর তো প্রশ্নই নেই। তা ছাড়া শ্রমিকদের দাবিদাওয়া আদায়ে দর-কষাকষির জন্যই ট্রেড ইউনিয়ন হয়। কিন্তু বর্তমানে যে বেতন-ভাতা পান, তাতে ৯০ শতাংশ শ্রমিক মোটামুটি সন্তুষ্ট।
প্রথম আলো: তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে এত অভিযোগ আসছে কেন?
সিদ্দিকুর রহমান: যাঁরা করতে পারবেন না, তাঁরাই অভিযোগ করেন। শ্রমিকেরা চান সকালে কারখানায় আসবেন, বিকেলে বাসায় যাবেন, আরামে থাকবেন। মাসের শেষে যদি পাওনাদি ঠিকমতো বুঝে পান, তাহলেই তাঁরা সন্তুষ্ট। এখন বিভিন্ন সময় প্রশ্ন আসছে, কেন ট্রেড ইউনিয়ন হচ্ছে না? সরকার সে জন্যই আইনে শ্রমিকদের অংশগ্রহণমূলক কমিটি করা বাধ্যতামূলক করেছে। কমিটি দর-কষাকষির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবে। এখন আমরা সেই রাস্তাতেই এগোচ্ছি। এটি করতে গিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন কী, তা শিখছেন অনেক শ্রমিক। আমার কথা হলো, ভেতরের শ্রমিকেরা যদি ট্রেড ইউনিয়ন করতে চান, তবে সমস্যা নয়। বহিরাগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত না হয়ে তাঁরা ইউনিয়ন করবেন।
প্রথম আলো: রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে রোববার। দিনটিকে ঘিরে বিজিএমইএর কোনো কর্মসূচি আছে কি না?
সিদ্দিকুর রহমান: কোনো কর্মসূচি এখনো ঠিক হয়নি। তবে আমরা মনে করছি, পরপর দুই বছর পালন করেছি। তিন বছর হয়ে গেছে। আমরা সব সময় তাঁদের জন্য দোয়া করি। তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তবে আমরা আর কর্মসূচির মধ্যে না যাই। না হলে এর শেষ আর হবে না। তাঁদের জন্য আমরা মসজিদে দোয়া করব।

No comments:
Post a Comment