Saturday, April 23, 2016

বিচারহীনতা আর্থিক খাতে অনিয়ম বাড়াচ্ছে

ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল সুজন আয়োজিত ‘ব্যাংকিং
খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিলে বক্তব্য
দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ
আর্থিক খাতে যেসব অনিয়ম হচ্ছে, সেগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না। অথচ অনিয়ম কমাতে হলে দরকার জড়িত ব্যক্তিদের দৃশ্যমান শাস্তির বিধান করা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর্থিক খাতে অনিয়ম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান। এতে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন রাখতে পারছে না। আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের প্রসঙ্গে সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যে স্বায়ত্তশাসন আছে, তা প্রয়োগ করতে হবে। স্বায়ত্তশাসন প্রয়োগ করে অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল কাজ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়মে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিচার হয়নি। বরং জুনিয়র কর্মকর্তাদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংককে জনপ্রিয় কার্যক্রম বন্ধ করে মূল কাজে ফিরে আসার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে তার যথাযথ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনচেতাদের প্রাধান্য দিতে হবে। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রযুক্তির (আইটি) নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নিতে হবে। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিনএক্সেলের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তিনি বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্যাংকগুলোর অনিয়ম ঠেকানোর যথাযথ কোনো উদ্যোগও লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অনিয়মকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ ব্যাংক খাতের আর্থিক অনিয়ম ঠেকানো না গেলে দেশই সংকটে পড়বে। সালেহউদ্দিন আহমেদের মতে, আর্থিক খাতে কিছু হলে তা প্রবৃদ্ধিতে আঘাত করে। ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী যে আর্থিক মন্দা দেখা দিয়েছিল, সেটির শুরু ছিল আর্থিক খাত দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের যেসব ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সরকারের কাছ থেকে মূলধন চাইবেন, তাঁদের নিয়োগের চুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ইদানীং দেখা যাচ্ছে যে বেসরকারি ব্যাংকে কেউ চেয়ারম্যান হলেই ব্যাংকের টাকায় তাঁর জন্য নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব?
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অর্থ কেলেঙ্কারির আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন দামি গাড়িতে চড়ে। লুটপাটের পরও বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডির কিছুই হয় না। এসব বিচারহীনতার সংস্কৃতি ব্যাংক খাতে অনিয়ম আরও বাড়িয়ে তুলছে। ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ জহির বলেন, ব্যাংকগুলোতে দক্ষ কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নানা ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কোনো স্বচ্ছতা নেই। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের যে অভাব, তার প্রভাব গিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকেও। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment