উত্তরার
হরিরামপুর ইউনিয়নে প্রায় দুই শ পরিবার এখন পানিবন্দী। একটু বৃষ্টি হলেই ওই
এলাকার রানাভোলা থেকে নয়ানগর পর্যন্ত প্রধান সড়কের কিছু অংশ ও পাঁচটি শাখা
সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে পানিবন্দী হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। গতকাল সকালে
একপশলা বৃষ্টির পর দেখা গেছে, ধরঙ্গারটেকের প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকা
জলাবদ্ধ। পাঁচটি শাখা সড়কের মধ্যে তিনটিতে যাতায়াত একেবারেই বন্ধ। আর বাকি
দুটিতেও চলতে হচ্ছে হাঁটুপানি মাড়িয়ে। যানবাহনও যাতায়াত করছে একইভাবে। পানি
জমার কারণে অচল হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে পানি ঢুকে
পড়েছে। পানিতে আটকে পড়া বাড়ির বাসিন্দা মো. ওমর ফারুখ বলেন, এক সপ্তাহ ধরে
তাঁর বাড়িতে রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বাইরে থেকে খাবার কিনে
আনতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাকে আমরা
স্কুলে পাঠাতে পাড়ছি না। একবার স্কুলে পাঠাতে গিয়ে পানিতে পড়ে বইখাতা সব
ভিজে গেছে।’ আবদুল মজিদ নামের এক দোকানি বলেন, তাঁর সংসারের জীবিকা
নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে মুদির একটি দোকান। কিন্তু সামনের রাস্তায়
পানি জমে থাকায় দোকানটিও বন্ধ। অলস সময় পার করা ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার
নেই। তিনি আরও জানান, আগে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার টাকার বিক্রি হতো।
কিন্তু গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৩০০ টাকার বিক্রি করতে
পেরেছেন। ভুক্তভোগী বাবুল খান বলেন, ‘পানি জমার কারণে কাজকর্ম ফেলে
একেবারেই অচল হয়ে আছি। নামাজেও যেতে পাড়ি না। সন্ধ্যার আগেই ঘরে ঢুকতে
হচ্ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ জানান, একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার
সৃষ্টি হয়। এ বছর বৃষ্টি বেশি না হলেও পানি জমে গেছে। কারণ, পানিনিষ্কাশনের
যেসব ড্রেন আছে সেগুলো বন্ধ হয়ে আছে। তিনি বলেন, সুয়ারেজের নালার মুখটি
একটি জলাশয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জলাশয়ের মালিক সেটি ভরাট করে ফেলেছেন। এতে
করে পানি আর নামতে পারছে না। তিনি বলেন, আশুলিয়া বেড়িবাঁধ অথবা খালপাড়
পর্যন্ত সুয়ারেজ লাইনের ব্যবস্থা করলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। রাস্তার
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল
হাসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণ, ওই সব পথে কোনো
ড্রেন নাই। আবার ড্রেন করার কোনো টাকাও আমার নাই। সব উন্নয়নই এখন সাংসদের
হাতে। চেয়ারম্যানের কিছুই করার নাই।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment