![]() |
| বগুড়ার শেরপুরে গতকাল অভিযান চালিয়ে হাতে তৈরি গ্রেনেড, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ |
বগুড়ার
শেরপুরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার পর গতকাল সোমবার
সকালে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় হাতে তৈরি গ্রেনেড (আইডি),
বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার রাতে
শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা এলাকার মাহবুবুর রহমানের
বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এরপর থেকে বাড়িটি
ঘিরে রেখেছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল সকালে ঢাকা
থেকে কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম শাখার বোমা নিষ্ক্রিয়কারী
দল (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট) এসে অভিযান শুরু করে। এ সময় ২০টি হাতে তৈরি
গ্রেনেড, চারটি পিস্তল, পিস্তলের ৪০টি গুলি, বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত
রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়। দুপুরে বাড়ির পাশের ফাঁকা মাঠে উদ্ধার হওয়া
হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সন্ধ্যায় বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত
রাসায়নিক পদার্থ ধ্বংস করা হয় পাশের বিলে। তবে বোমা বিস্ফোরণে নিহত
দুজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শহীদ জিয়াউর
রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বগুড়ার পুলিশ সুপার মো.
আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এর আগে বিভিন্ন জঙ্গিদের কাছ থেকে কিংবা
জঙ্গি সংগঠনের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা বোমা ও বিস্ফোরকের সঙ্গে এই বোমা
ও বিস্ফোরকের মিল আছে। তাই সন্দেহ করা হচ্ছে, বাড়িটি জেএমবি বা অন্য
কোনো জঙ্গি সংগঠনের আস্তানা ও বোমা তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
পয়লা বৈশাখের উৎসবে নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক তৈরি করা
হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত
হওয়া গেলে সবকিছুই পরিষ্কার হবে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) খান মোহাম্মদ এরফান বলেন, বিস্ফোরণে নিহত দুজনের বয়স আনুমানিক ৪০
থেকে ৪২ হবে। বিস্ফোরণে হাত-পা উড়ে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে গ্রেনেড তৈরি
করতে গিয়েই তা বিস্ফোরিত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের একজনের চেহারা শনাক্ত
করতে পেরেছেন বাড়ির বাসিন্দারা। তবে তাঁর নাম কিংবা পরিচয় বলতে পারেননি
জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামের একতলা বাসাটির মালিক মাহবুবুর রহমান সাভারের
ইপিজেড এলাকায় থাই অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসা করেন। বাসাটি দেখাশোনা করেন
তাঁর মেয়ে সুমাইয়া আখতার পলি। তিনি বলেন, মিজানুর রহমান নামে পরিচয় দিয়ে ছয়
মাস আগে এক ব্যক্তি বাসাটি ভাড়া নেন। তিনি নিজেকে অটোরিকশাচালক এবং
বাড়ি নওগাঁ বলে পরিচয় দেন। তাঁর সঙ্গে আসা অন্য ব্যক্তিকে সবজি ব্যবসায়ী
এবং সম্পর্কে ভগ্নিপতি বলে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই ব্যক্তিও থাকতেন মিজানুরের
সঙ্গে। বাড়িতে ওই দুজন ছাড়াও মিজানুরের স্ত্রী শাপলা বেগম এবং ১২ বছর
বয়সী সন্তান থাকত। গত শুক্রবার নওগাঁয় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে
নিয়ে বাসা থেকে বের হন মিজানুর। বাসায় তাঁর ভগ্নিপতি ছিলেন। রোববার রাত
সাড়ে আটটার দিকে বাসায় বিকট শব্দ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে বাসা
থেকে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। এঁদের মধ্যে একজনকে মিজানুর ভগ্নিপতি বলে
পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তবে তাঁর নাম জানা যায়নি। পরতিবেশী আবদুল হামিদ
বলেন, বাসাটিতে সব সময় দরজা-জানালা বন্ধ থাকত। কেউ প্রতিবেশীর সঙ্গে মিশত
না। ভাড়াটেরা রাতে আসতেন, সবার অগোচরে বের হয়ে যেতেন।

No comments:
Post a Comment