Wednesday, April 27, 2016

ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব

ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই), ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এফআইসিসিআই চায়, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হোক। উইমেন চেম্বারের চাওয়া হলো নারীদের জন্য ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করা। আর ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ সীমা পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত চলমান প্রাক্-বাজেট আলোচনা সভায় এ তিনটি চেম্বার এ প্রস্তাব দিয়েছে। এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কাকরাইলে প্রতিষ্ঠানটির সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এফআইসিসিআই: ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করপোরেট কর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমানোর সুপারিশ করেছে এফআইসিসিআই। এফআইসিসিআই আরও বলেছে, বর্তমানে অফশোর ব্যাংকিং সেবায় করের হার সাড়ে ৪২ শতাংশ। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এই করের হার শূন্য থেকে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ ছাড়া ১০০ টাকা সিম কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে এফআইসিসিআই। ইন্টারনেট-সেবায় বর্তমানে আরোপ থাকা ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে এফআইসিসিআই। এ ছাড়া ইন্টারনেটের মডেমের ওপর আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে সব ধরনের মূসক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের স্বার্থে পর্যায়ক্রমে করপোরেট করের হার কমানো উচিত। কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিনিয়োগ না হলে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন মূসক আইনকে সমর্থন করি। তবে আইনটি বাস্তবায়নের আগে প্রান্তিক পর্যায়ের মূসকদাতাদের সক্ষমতার কথা বিবেচনা করতে হবে।’ উইমেন চেম্বার: নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূসক ও কর মওকুফ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কোটা রাখারও দাবিও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নতুন আইনে সব ক্ষেত্রে মূসক ৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে উইমেন চেম্বার। নারী উদ্যোক্তাদের আমদানি করা যন্ত্রপাতির ওপর সব ধরনের শুল্ক-কর মওকুফ করার সুপারিশ করা হয়েছে। চেম্বারের সভাপতি সেলিমা আহমাদ বলেন, ‘বিদেশি মেলায় নারী উদ্যোক্তারা গেলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নানাভাবে হয়রানি করে। এটাকে আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা হিসেবে মনে করি।’ অন্যদিকে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ন্যূনতম কর ব্যবস্থা উঠিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের পাঁচ বছর পর্যন্ত কর মওকুফ করার প্রস্তাব করেছে এই চেম্বার। এই চেম্বারের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর বিন আলম বলেন, কর দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কোম্পানিগুলোকে ৫০ শতাংশও নিয়মনীতির মধ্যে আনা যায়, তাহলে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকবে না। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, হয়রানি হলে কিংবা যেকোনো অভিযোগ করার জন্য এনবিআরে একটি কল সেন্টার থাকা উচিত।

No comments:

Post a Comment