Tuesday, April 19, 2016

যেন জাতীয় নির্বাচন!

রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সপারিষদ মনোনয়নপত্র
জমা দিলেন বাফুফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।
বাফুফে ভবনের পার্কিংয়ে বেশির ভাগ সময়ই হাতে গোনা কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি দেখা যায়। কিন্তু কাল পার্কিং তো বটেই, সামনের আঙিনাটাও উপচে পড়ল গাড়িতে। প্রধান ফটকে পুলিশ। অভ্যর্থনা থেকে শুরু করে দোতলার করিডর লোকে লোকারণ্য। বাফুফের বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সহসভাপতি বাদল রায় ও তাবিথ আউয়ালদের কক্ষে কাউন্সিলরদের জটলা। চলছে খোশগল্প। সব আলোচনাই ৩০ এপ্রিলের ভোটযুদ্ধকেন্দ্রিক। অনেকে আগেই বাফুফেতে লেগেছে নির্বাচনী হাওয়া। কাল সেটি এমন জোরালো ছিল যে মনে হতে লাগল, ক্রীড়াঙ্গনের নয়, এটি জাতীয় নির্বাচনেরই অংশ! এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র তুলেছেন চারজন। কাল ছিল সব পদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিন, গোলাম রব্বানী হেলাল, কামরুল আশরাফ খান ও নুরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর বাইরে সিনিয়র সহসভাপতি পদে চারজন, সহসভাপতি পদে ১১ এবং সদস্যপদে ৩৯ জনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সকালেই সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন টঙ্গী ক্রীড়াচক্রের সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু। দুপুরে পূর্ণ প্যানেল ঘোষণার পর সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সালাউদ্দিন পরিষদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আধা ঘণ্টা পর শ দুয়েক লোকের বহর নিয়ে ভবনে আসেন মনজুর কাদের। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সভাপতির পাশে ছিলেন সভাপতি প্রার্থী নরসিংদী-২ আসনের সাংসদ কামরুল আশরাফ খান। ছিলেন সাবেক ফুটবলার দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, সাবেক ফুটবলার আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুসহ অনেকে। শ খানেক অনুসারী নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে শেষ বিকেলে আসেন আরেক সভাপতি প্রার্থী গোলাম রব্বানী হেলাল। তিনি কোনো পরিষদের নন, স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন তাবিথ আউয়ালও। কামরুল আশরাফ সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ঢোকেন কাজী সালাউদ্দিনের কক্ষে। বাফুফের বিদায়ী সভাপতির সঙ্গে করমর্দন করেই অবশ্য বেরিয়ে আসেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সালাউদ্দিন পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করেছে সালাম মুর্শেদীর কক্ষে। সালাউদ্দিন অবশ্য উপস্থিত ছিলেন না, সালাম মুর্শেদীই পরিচয় করিয়ে দেন উপস্থিত সব প্রার্থীকে। এই পরিষদের অন্যতম সহসভাপতি প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ বললেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।’ তৃতীয় তলার সংবাদ সম্মেলনকক্ষে নিজেদের পরিষদ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মনজুর কাদের। ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির সমালোচনা করে কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চেয়েছেন তিনি, ‘এ দেশের ফুটবলের বোদ্ধা সব কাউন্সিলরের উদ্দেশে বলছি, আমরা ফুটবলের উন্নতি করতে তথাকথিত কথাবার্তা বলতে আসিনি। জেলার ফুটবল, ক্লাবগুলোর উন্নয়ন করতে চাই। একাডেমিরও উন্নতি করতে চাই। ক্রিকেট যেমন পরিকল্পনামতো এগিয়ে গেছে সেভাবে ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি প্যানেল তৈরি করেছি।’ ১৫টি সদস্যপদের জন্য অবশ্য ১৩ জনের নাম জমা দিয়েছে মনজুর কাদের পরিষদ। এই পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১ এপ্রিল হবে তাদের প্যানেল-পরিচিতি অনুষ্ঠান। মনজুর কাদের, লোকমান ভূঁইয়া ও শফিউল আরেফিন টুটুল—এই তিনজনের মধ্যে কে একমাত্র সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী হন সেটাই দেখার! এর আগে ক্রিকেট বোর্ডে থাকা দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল ফুটবলে স্বচ্ছতা ফেরানোর অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, ‘আমি জেনেবুঝেই নির্বাচন করছি। ফুটবলের এখন দুর্দশা চলছে। এখানে প্রশাসনিক কাঠামো নেই, স্বচ্ছতা নেই। আমাদের কাজই সবকিছু স্বচ্ছতা, জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসা।’ গোলাম রব্বানী হেলালের কথা একটাই, ‘বর্তমান কমিটি সবখানেই ব্যর্থ।’

No comments:

Post a Comment