Tuesday, April 19, 2016

ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ ইকুয়েডর, নিহত কমপক্ষে ৩৫০

ইকুয়েডরের চারদিকে শুধু ধ্বংসলীলা। রোববারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে সেখানে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫০ জন। আরো নিহতের খবর প্রত্যন্ত এলাকাগুলো থেকে আসছিল। ফলে নিহতের এ সংখ্যা অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইকুয়েডরের নিরাপত্তা মন্ত্রী সিজার নাভাস নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। 
বিবিসির খবরে বলা হয়, এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তিনি ইতালি সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকরা পড়া জীবিতদের উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। চলছে উদ্ধার অভিযান। জীবিতরা তাদের স্বজনদের উদ্ধারে খালি হাতেই সরাচ্ছেন ধ্বংসস্তূপ। খাদ্য ও অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আসছে বিদেশি সহায়তা। প্রথমেই তাদের পাশে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে গেছে ভেনিজুয়েলা ও মেক্সিকো। কলম্বিয়া উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় নৌবাহিনী পৌঁছে দেবে পানি। প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া বলেছেন, সবকিছুই পুনর্গঠন করা যাবে। কিন্তু হারানো জীবন ফিরে পাওয়া যাবে না। স্বজন হারানোর বেদনা সবচেয়ে কষ্টের হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মানতা পরিদর্শন করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জি গ্লাস। তিনি বলেছেন, আমাদের উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ভারি মেশিনারিজ নেই। হেলিকপ্টার ও বাস ব্যবহার করে সেনারা আক্রান্তদের কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু ভূমিধসের কারণে তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে। মানতায় এক নারী বলেছেন, তাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়ে তৃতীয় তলা বাড়িটি। এ সময় তারা সবাই ছিলেন বাড়ির ভিতরে। ছিল শিশুরাও।
সাহায্যের প্রয়োজন কমপক্ষে ১ লাখ মানুষের
ইকুয়েডরে ভূমিকম্পে আক্রান্ত এলাকায় কমপক্ষে ১ লাখ মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। দ্যা স্প্যানিশ রেড ক্রস এ তথ্য জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আক্রান্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান এখনও নেই। তবে তাদের ধারণা কোনো না কোনো সাহায্যের প্রয়োজনে রয়েছে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ। ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় কমপক্ষে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষের অস্থায়ী বাসস্থানের প্রয়োজন হতে পারে। উদ্ধার তৎপরতায় ইকুয়েডরিয়ান রেড ক্রসের কমপক্ষে ৮০০ সেচ্ছাসেবী ও কর্মী কাজ করছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সহায়তা ও ত্রাণ আসা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। ইকুয়েডরের নিরাপত্তা সমন্বয় কার্যালয় ১২০ উদ্ধারকর্মী পাঠানোর জন্য মেক্সিকোকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
একের পর এক আফটারশক:
৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর একের পর এক আফটারশক কাঁপিয়ে যাচ্ছে দেশটিকে। ইকুয়েডরের জিওফিজিক্স ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, রোববার রাত পর্যন্ত কমপক্ষে ২৩০টি আফটারশক আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এগুলোর মাত্রা ছিল ৩.৫ থেকে ৬.১ পর্যন্ত। ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে সোমবার সারা দিন প্রতিবার আফটারশক অনুভূত হওয়ার পর টুইটারে বার্তা দেয়া হয়।
স্পেনের উদ্ধার দল ইকুয়েডরে:
উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়ার জন্য স্পেন ৪৭ জন উদ্ধার বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি সামরিক বিমান পাঠায় গতকাল। বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ৫টি তল্লাশি কুকুর রয়েছে। গতকাল সকালে মাদ্রিদের অদূরে একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে বিমানটি ইকুয়েডরের উদ্দেশে রওনা করে। এর আগে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, মেক্সিকো ও কলম্বিয়া থেকেও উদ্ধার দল গেছে।
শোকে বিমূঢ় ভুক্তোভোগীরা:
আক্রান্ত এলাকায় যখন জোরেশোরে উদ্ধার তৎপরতা চলছে, তখন একের পর এক স্বজন হারানোর হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে আসছে। ভূমিকম্পে সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দেশটির প্রাদেশিক রাজধানী পোর্তোভিয়েজোতে। শহরের মেয়র কমপক্ষে ১০০ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে ১৭ বছরের সায়িরা কুইন্দে, তার মা, বাবা ও ছোট ভাই। তাদের গাড়ির ওপর একটি ভবন ধসে পড়লে পরিবারটির মৃত্যু হয়। শোকে মুহ্যমান ওই পরিবারের এক নিকটাত্মীয় জোহানা এস্তুপিনান গতকাল এসমেরালদাস শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্বজনদের সমাহিত করার জন্য। তার জন্য এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ মৃত বোনের অনাথ হয়ে যাওয়া তিন সন্তানকে এ খবর জানানো। জোহানা বলেন, কখনও ভাবিনি এক মিনিটে জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাবে।
জাপানে আবার ভূমিকম্পের সতর্কতা, বাড়িঘর ছাড়তে বলা হয়েছে আড়াই লাখ মানুষকে
জাপানে আরও ভূমিকম্প আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবারও আঘাত হানতে পারে ভূমিকম্প। এ জন্য প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শনিবার তীব্র শক্তিশালী ভূমিকম্পে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ কিউশুতে কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এখনও অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে এক হাজার মানুষ। ধসে পড়েছে বাড়িঘর, দালানকোঠা, সড়ক, মহাসড়ক ও সেতু। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় জাপানের রেডক্রস সোসাইটির উপদেষ্টা নাওকি কোকাওয়া বলেছেন, উদ্ধার কেন্দ্রগুলোতে আরও মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। ৩০ হাজার উদ্ধারকর্মী এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখছে। পুলিশ বলেছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন মানুষ। ওদিকে যেকোন সময় আবার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছে জাপানের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা। এর ফলে দ্বীপ এলাকার মানুষদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। গতকাল পার্লামেন্টে পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তিনি বলেন, এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ। আমরা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তিনি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা বলে ঘোষণা করতে চান। ওদিকে জাপান টাইমস বলছে, রোববার কুমামোতো এলাকায় ধসে পড়া একটি বাড়ির ভেতর থেকে ৬১ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার জাপানে আঘাত হানে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প। এর আগে বৃহস্পতিবারে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলই অগভীর। এর ফলে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment