![]() |
| বামনী |
গণভবনের
সামনে থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন নওগাঁর বামনী (৪৮)। বর্তমানে তিনি
আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় মহিলা
ও শিশু-কিশোরীর নিরাপদ হেফাজতখানা সেফ হোমে রয়েছেন। সেফ হোমের নথি থেকে
জানা যায়, ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বামনীকে গণভবনের সামনে থেকে আটক
করে শেরেবাংলা থানার পুলিশ। বামনী তাঁর নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় তখন থানায়
সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তাঁকে সেফ হোমে রাখার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন
আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ১৫ এপ্রিল ঢাকার কেন্দ্রীয়
কারাগার থেকে বামনীকে ফরিদপুর সেফ হোমে স্থানান্তর করা হয়। ফরিদপুর সেফ
হোমের কারিগরি প্রশিক্ষক ডলি রানী সাহা বলেন, ‘বামনী কপালে তিলক দেন ও গলায়
তুলসীর মালা পরে ধর্মীয় জীবনযাপন করেন। তিনি মাছ-মাংস, পেঁয়াজ-রসুন খান
না। এ জন্য তাঁকে হোমে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি খাওয়াদাওয়া একপ্রকার
ছেড়ে দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর শরীর নিয়ে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়েছি।’ বামনী
প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামীর নাম চুন্নু। তিনি কৃষিকাজ করেন। তাঁর
নির্মল (১৮) নামের এক ছেলে ও নিরো (২০), আদরি (১৭) ও অনিতা (১৪) নামের
তিনটি মেয়ে রয়েছে। নিরো ও আদরির বিয়ে হয়ে গেছে। অনিতা সপ্তম শ্রেণির
ছাত্রী। তিনি বলেন, তাঁর বাবার নাম বুদ্ধ সর্দার। মায়ের নাম খুকুমণি। বামনী
আরও বলেন, ‘আমার স্বামী নেশা করেন। এ জন্য আমি রাগ করে বাড়ি থেকে চলে আসি।
আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ কথাটাই বলতে চেয়েছিলাম। আর বলতে
চেয়েছিলাম, আমাদের এলাকার জমিতে যেন একটাই ফসল হয়, তার ব্যবস্থা করে দিতে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার গ্রামে, আমার আত্মীয়দের কাছে ফিরে যেতে চাই।’ সেফ
হোমের উপতত্ত্বাবধায়ক এম এ মান্নান বলেন, ‘বামনী খুবই ধর্মপরায়ণ নারী।
এখানে খাওয়াদাওয়াসহ পূজা অর্চনার জন্য তাঁর খুব সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা
করছি, তাঁর স্বজনদের খুঁজে বের করে তাঁদের হাতে বামনীকে তুলে দিতে।’

No comments:
Post a Comment