Sunday, April 17, 2016

সেরা চাওয়ালা প্রতিযোগিতা

যশোরের কেশবপুরে বৈশাখী মেলা উপলক্ষে সেরা
চাওয়ালার পুরস্কার গ্রহণ করছেন আবদুল ওহাব
যশোরের কেশবপুরে গত বৃহস্পতিবার বৈশাখী মেলা উপলক্ষে কেশবপুর পাবলিক ময়দানে সেরা চাওয়ালা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিকেল পাঁচটায় প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ জন চা-বিক্রেতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে গরম পানি, দুধ, চিনি ও চায়ের পাতি সরবরাহ করা হয়। উন্মুক্ত মাঠে উত্তপ্ত পানি এবং দুধ ফোটানো হয় আর তা দিয়ে এক-একজন করে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে চা বানিয়ে ১০ জন বিচারককে সরবরাহ করেন। এভাবে প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন হয়। প্রতিযোগিতায় বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে কেশবপুর শহরের বকুলতলা এলাকার চা-দোকানি জ্যোতি আক্তারও অংশ নেন। তিনিই এই আয়োজনের একমাত্র নারী প্রতিযোগী। তিনি বলেন, ‘সাত-আট বছর ধরে আমি চা বানাই। এমন প্রতিযোগিতায় এসে আমার অনেক ভালো লাগছে। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাব কি না, জানি না। তবে আমাদের মতো চা-দোকানিদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে, এটা ভালো।’ বিচারকদের মধ্যে শিক্ষক, গৃহিণী, সাংবাদিক, চিকিৎসক ছাড়া একজন কৃষকও ছিলেন। এই প্রতিযোগিতার অন্যতম আয়োজক কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ রায়হান কবির বলেন, ‘প্রতিটি পেশায় অনেক মেধাবী লোক আছেন। তাঁদের ভেতরে অনেক শৈল্পিকবোধও আছে। তাঁদের পেশাকে সম্মান জানানো আমাদের কর্তব্য। সেই ধারণা থেকে এই ব্যতিক্রম আয়োজন করা হয়েছে।’ প্রতিযোগিতা শেষে শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ের চা-বিক্রেতা আবদুল ওহাবকে বিচারকদের বিচারে সেরা চাওয়ালা নির্বাচিত করা হয়। তাঁকে পুরস্কার হিসেবে ২১ ইঞ্চি একটি রঙিন টেলিভিশন দেওয়া হয়। এখানে উপস্থিত থাকা কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম ঘোষণা দেন, সেরা চাওয়ালাকে একটি সাইনবোর্ড এবং চায়ের দোকানের সরঞ্জামাদি দিয়ে দোকান সাজিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিযোগীদের সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে ছয়টি করে চায়ের কাপ দেওয়া হয়। বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment