Sunday, April 17, 2016

জানার কৌতূহলে বিজ্ঞান জাদুঘরে

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বিজ্ঞান
জাদুঘরে বৈজ্ঞানিক প্রদর্শন দেখছেন দর্শনার্থীরা
ওরা তিন বন্ধু। জিহাদুল ইসলাম, মোস্তফা সানি ও যুবায়ের তালুকদার। শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলের কাছে বলেই প্রায়ই তারা আসে জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘরে। সেদিনও এসেছিল তারা। বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার আর জীবনযাত্রার বিবর্তনের হরেক নিদর্শন নিয়ে গড়ে ওঠা দেশের একমাত্র বিজ্ঞান জাদুঘরটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে। মিরপুর সড়ক ধরে এলে কিংবা বেগম রোকেয়া সরণি থেকে মিরপুর সড়কের দিকে গেলে যেমন সবার নজর কাড়ে শিশুমেলা, তেমন কোনো আড়ম্বর নেই বিজ্ঞান জাদুঘরটির। অনেকটা নিভৃতে জাতীয় বেতার কেন্দ্রের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে এ প্রতিষ্ঠান। একটু খোঁজ করে জাদুঘরে ঘুরতে এলে নিরাশ হবেন না শিশু থেকে বৃদ্ধ—কেউই। বেলা তখন সাড়ে ১১টা। বিদ্যালয়ে একটা বাড়ির কাজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তারপর জিহাদুল, সানি ও যুবায়ের এসেছিল বিজ্ঞানের জগতে আনন্দ খুঁজতে। জাদুঘরের মহাকাশ গ্যালারিতে ওদের সঙ্গে দেখা। এই গ্যালারিটিই নাকি ওদের সবচেয়ে ভালো লাগে। এর পাশেই আছে চতুর্মাত্রিক সিনেমা হল (ফোরডি মুভি থিয়েটার)। মহাকাশ গ্যালারিতে দেখা হলো ঢাকায় ইমাম প্রশিক্ষণের জন্য মাদারীপুর থেকে আসা মোরশেদ আলমের সঙ্গে। বন্ধুদের কাছে বিজ্ঞান জাদুঘরের গল্প শুনে এসেছিলেন তিনি। বিমানের ইঞ্জিন, মহাশূন্যে যাওয়ার পোশাক ইত্যাদি দেখে দারুণ খুশি। জানালেন, সন্ধ্যায় আবার আসবেন। টেলিস্কোপে চাঁদ দেখবেন। তিনি শুনেছেন, এখান থেকে চাঁদের বুকের খানাখন্দ পর্যন্ত নাকি দেখা যায়! কথাটি সত্যি বলে জানালেন জাদুঘরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মাজেদ। তিনি বললেন, আকাশ মেঘমুক্ত থাকা সাপেক্ষে বিজ্ঞান জাদুঘরের ছাদ থেকে টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশ দেখার সুযোগ রয়েছে। মহাকাশ গ্যালারির আগে আইটি গ্যালারি। এখানে প্রযুক্তির বিভিন্ন নিদর্শনের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটারটিও। জাদুঘরে মোট সাতটি গ্যালারি। এগুলো হলো আইটি, মহাকাশ, শিল্প-প্রযুক্তি, ফান সায়েন্স, পদার্থবিজ্ঞান, শিশু ও জীববিজ্ঞান। আইটি গ্যালারি রক্ষণাবেক্ষণকারী ফরিদ আহমেদ খান বলেন, প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়ারাই এখানে বেশি আসে। বড়রাও আসেন। বাচ্চারা বেশি পছন্দ করে ফান ও মহাকাশ গ্যালারি, চতুর্মাত্রিক সিনেমা।
জাদুঘরের একটি প্রদর্শনী
আর বড়রা বেশি উপভোগ করেন পদার্থ, প্রযুক্তি, শিল্প-বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান গ্যালারি। টিকিট ১০ টাকা, তবে অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের টিকিট লাগে না। কোনো বিদ্যালয় থেকে ৪০-৫০ জনের দল এলে টিকিটের দাম অর্ধেক। সাপ্তাহিক বন্ধ বৃহস্পতিবার। তবে কিছু অভিযোগও আছে দর্শনার্থীদের। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিদর্শনগুলোর নাম বা পরিচিতি সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্তারিত কিছু নেই। এ ছাড়া জাদুঘরে শৌচাগার ব্যবস্থাও ভালো নয়। ভেতরে মেঝে, বিভিন্ন নিদর্শন ও যন্ত্রপাতির ওপর ধুলা জমেছে। এসব প্রসঙ্গে বিজ্ঞান জাদুঘরের মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায় জানান, জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার পর অর্ধশতকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এর প্রচারের দিকটি অবহেলিতই রয়ে গেছে। তবে তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর জাদুঘরটির দুই পাশের গেটে লাগানো সাইনবোর্ড, নিয়নবাতি লাগিয়ে আলোকিত ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, লোকবলসংকট থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ দর্শনার্থীদের যথাযথ সহযোগিতায় কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে। লোকবল বাড়াতে একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment